এইমাত্র পাওয়া

নিজের বলার মত গল্পে ফকিরহাটের কৃতি সন্তান ইঞ্জিঃ মুজাহিদ অপু

মোঃ মোজাহিদুর রহমান:

নিজের বলার মতো একটা গল্প ফাউন্ডেশনের পরিচয় ও কার্যক্রম সম্পর্কে সংক্ষেপে জানালেন বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটের ফকিরহাটের কৃতি সন্তান ও নিজের বলার মত গল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা ইঞ্জিঃ মুজাহিদ অপু। অনলাইনে ৪০০,০০০ তরুণদেরকে ফ্রী প্রশিক্ষণ কর্মশালার টানা ১০০০ দিনের ইতিহাস ! শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো পৃথিবীতে কেউ কোন দিন টানা ১০০০ দিন প্রতিদিন নির্দিষ্ট কন্টেন্ট দিয়ে কোন ট্রেনিং কর্মশালা ফ্রিতে করেনি ! “নিজের বলার মতো একটা গল্প” উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষন, ১০টি বিষয়ে স্কিলস শেখানো ও মূল্যবোধ সংক্রান্ত অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্লাটফর্ম। মাত্র ১৬৪ জন তরুণদের নিয়ে এই সামাজিক ও শিক্ষামুলক কাজের উদ্যোগ ২ বছর ৯ মাস আগে নিলেও এখন এটি একটি প্রতিষ্ঠান, যার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট এবং মেন্টর জনাব ইকবাল বাহার জাহিদ। তিনি নিজেও একজন উদ্যোক্তা। এই ফাউন্ডেশান এখন বাংলাদেশের সম্পদ। ৩টি বিষয় নিয়ে কাজ করে অনলাইন প্লাটফর্ম “নিজের বলার মতো একটা গল্প” – “চাকরী করবো না চাকরী দেব”

১। উদ্যোক্তা বিষয়ক অনলাইনে টানা ৯০ দিন করে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদান অর্থাৎ একজন ইয়ুথকে উদ্যোক্তা হতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ৬৪ জেলায় ও ৫০ দেশে উদ্যোক্তা মিট আপ ও সম্মেলন।
২। মূল্যবোধ, লিডারশীপ, ১০টি বিষয়ে স্কিলস ও একজন ভালোমানুষ হয়ে উঠার চর্চা কেন্দ্র।
৩। ভলান্টিয়ারিং এবং সোশ্যাল ওয়ার্ক ও মানবিক কার্যক্রম

বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ও ৫০টি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশী সহ মোট ৪০০,০০০ তরুণ-তরুণীদেরকে ১০টি ব্যাচের মাধ্যমে ৩৬০ টা কন্টেন্ট দিয়ে টানা ৯০ দিন করে বিনামূল্যে অর্থাৎ কোন ফি ছাড়া উদ্যোক্তা বিষয়ক, মূল্য বোধ, ভলান্টিয়ারিং ও ১০ টি স্কিলস নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এই প্লাটফর্ম থেকে।
Page: https://www.facebook.com/Iqbalbahar28/,
Group: https://www.facebook.com/groups/youngentrepreneursbdiqbal/

প্রতি সপ্তাহে মিটআপের মধ্য দিয়ে চলছে আর অফলাইন কার্যক্রমও, গত আড়াই বছরে সারা দেশে ও বিদেশে প্রায় ১৩০০ অনলাইন ও অফলাইন মিট আপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলছে ১১ তম ব্যাচ।

“চাকরী করবো না চাকরী দেব” এই ব্রত সামনে রেখে গত ১০০০ দিন ধরে একদিনের জন্যও এই প্রশিক্ষন কর্মশালা” বন্ধ ছিল না। এটা সারা বিশ্বে একটি ইতিহাস – এত লম্বা এবং টানা ৯০ দিন এবং টানা ১০০০ দিনের কোন প্রশিক্ষণ কর্মশালা পৃথিবীতে কেউ কোনদিন করেনি।

ইতিমধ্যে এই প্লাটফর্ম থেকে আমাদের ৭০০০ জন উদ্যোক্তা হয়েছেন তারমধ্যে ৬০০ নারী উদ্যোক্তা এবং গত ১০০০ দিনে বদলে গেছে এই ৪০০,০০০ তরুণ-তরুণীদের জীবন, এখন যারা এক একজন স্কিলড,পজিটিভ ও ভালোমানুষ।

৯০ দিন ধরে শেখা, পার্টনার পাবার সুযোগ, ব্যবসা করা, কেনাবেচার সুযোগ, ভলান্টিয়ারিং, সামাজিক কাজ এবং ভালোমানুষি চর্চা সব একসাথে সুযোগ রয়েছে এই অনলাইন ও অফলাইন প্লাটফর্মে।

বাংলাদেশে এই প্রথম ৬৪ জেলা নিয়ে শুরু হয়েছে “নিজের বলার মতো একটা গল্প” প্লাটফর্মের “সাপ্তাহিক অনলাইন হাট” – প্রতি মঙ্গলবার, সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা – টানা ১২ ঘণ্টা।
করোনার এই ভয়াবহ সময়ে যখন সবাই তাঁদের বিজনেস নিয়ে চিন্তিত, অনেকের সেল প্রায় বন্ধ তখন “নিজের বলার মতো একটি গল্প” আমাদের উদ্যোক্তাদের জন্য নিয়ে এলো একটা অপার সুযোগ ও সম্ভবনা, আবার ঘুরে দাঁড়ানোর ! একই সঙ্গে সুযোগ করে দিল ক্রেতাদের জন্য অনলাইনে কেনাকাটার। “আমরাই ক্রেতা আমরাই বিক্রেতা” এই স্লোগানে বেশ জমে উঠেছে এই অনলাইন হাট। আমি শুধু স্বপ্ন দেখাইনি, কিভাবে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হয় তা শিখিয়েছি টানা ৯০ দিন ধরে এক একটি ব্যাচে। ৯০ দিন ধরে আমি শুধু উদ্যোক্তা হবার সকল কলা-কৌশল শিখাইনি, শিখিয়েছি কিভাবে একজন ভালোমানুষ হয়ে বুক ফুলিয়ে বাঁচে থাকতে হয়, কিভাবে সমাজের জন্য ও দেশের জন্য কাজ করতে হয়।
১। বগুড়ার একজন অসহায় গৃহহীনকে ১টা ঘর বানিয়ে দেয়া হয়েছে – ২০১৯
২। ২ জন গরীব তরুণকে ৫০,০০০ টাকা ও অন্য ৪ জনকে ২৫,০০০ টাকা করে মূলধন দিয়ে ব্যবসা দাড় করতে সাহায্য করা হয়েছে – ২০১৮।
৩। দেশের ৬৪ জেলায় সবাই মিলে প্রায় ৩৫,০০০ গাছ, ২০ হাজার ব্যাগ রক্ত ও ১৫,০০০ অসহায় শিশু ও বৃদ্ধকে ১ বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে ২০১৮-২০২০।
৪। দেশের ৬২ জেলায় সবাই মিলে একযোগে গত রমজানে প্রায় ১৫,০০০ এতিম, অসহায় শিশু ও বৃদ্ধকে ইফতার করানো হয়েছে -২০১৯।
৫। দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা কবলিত ১০ টি পরিবারের মাঝে তাঁদের ভেঙ্গে যাওয়া ঘরের জন্য টিন বিতরণ ও প্রায় ১৫০০ পরিবারের জন্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে – ২০১৯।
৫। দেশের বিভিন্ন জেলায় শীতার্তদের মাঝে প্রায় ৪০০০ কম্বল বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে – ২০২০।
৬। এই করোনায় ৪০ জেলায় প্রায় ৮০০০ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে – ২০২০।
৭। এই বন্যায় ১৪ টি জেলায় প্রায় ২০০০ মানুষকে খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে – ২০২০।
তিনি বলেন আমাদের লক্ষ্য আগামী ১ বছরের মধ্যে ১০০,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা অন্তত ২০,০০০ উদ্যোক্তা হওয়ার মধ্য দিয়ে এবং আগামী ৫ বছরের মধ্যে ১০০,০০০ উদ্যোক্তা ও ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.