কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি সামান্য কমলেও ব্রহ্মপুত্র নদসহ সবকটি নদনদীর পানি এখনও বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তৃতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পরপর দুই দফা বন্যার ধকল শেষ হতে না হতেই তৃতীয় দফা বন্যার সৃষ্টি হওয়ায় বন্যার কবলে পড়েছে জেলার নদনদী অববাহিকার সাড়ে তিন লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় নাকাল কুড়িগ্রামের সাড়ে চার শতাধিক চর ও দ্বীপচরসহ নদীপাড়ের এসব মানুষ।
স্থানীয় পাউবো শনিবার জানায়,নদনদীর পানি কমলেও এখনও প্রধান নদীগুলোর পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।এদিকে,গত এক মাসেরও কাছাকাছি সময় যাবত স্কুল কলেজ ও মাদরাসায় আশ্রয় নিয়েছেন অনেক বন্যার্ত মানুষ।জেলার ৯ উপজেলার ৯১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক পানিবন্দী মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানেই থাকা ও রান্না করে দিন কাটাচ্ছেন। সদর উপজেলার পাঁচগাছী হাইস্কুলে অবস্থান নেয়া বন্যার্ত মিজানুর রহমান জানান,আমার বাড়িতে প্রায় এক বুক পানি।এ কারনে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টে স্কুলে উঠে দিন কাটাচ্ছি।প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এখানে অনেক কষ্টে দিন কাটছে। ওই এলাকার পাঁচগাছী মাদরাসার আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা আকলিমা খাতুন জানান,হামরা বাবা ম্যালাদিন থাকি ঘরত পানি উঠচে থাকি মাদরাচাত আসি উঠচি।এখন হামার যাওনের পথ নাই। কোন সাহায্যও পাই নাই।কোন মেম্বার চেয়ারম্যান কাইয়ো উদ্দিশ করবার আসিল ন্যা।
জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সুত্র জানায়,আশ্রয় নেয়া প্রাইমারী স্কুল ৬৫টি এবং হাইস্কুল,কলেজ ও মাদরাসা ২৬টি।এছাড়াও বন্যার পানির প্রবল ¯্রােতে নদী ভাঙনে ইতোমধ্যেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীন হয়ে গেছে উলিপুর উপজেলার ৪টি ও রৌমারী উপজেলার ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।তাছাড়াও নদী ভাঙনের মারাতœক হুমকিতে রয়েছে সদর উপজেলায় একটি প্রতিষ্ঠান ও উলিপুর উপজেলার একটি প্রতিষ্ঠান।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো:শহীদুল ইসলাম জানান,প্রথম ও দ্বিতীয় দফা বন্যায় জেলার ৩৯৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে।এছাড়াও যেসব প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠেনি তাদের ৬৫টিতে বানভাসী মানুষরা আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন,সদর উপজেলার চর কৃষ্ণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উলিপুর উপজেলার সুখের বাতির চর প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি যেকোন মুহুর্তে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।তবে পানি ওঠেনি যেসব প্রতিষ্ঠানে সেখানে বানভাসীরা আশ্রয় নিয়েছেন।জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো:শামছুল আলম জানান,জেলার ৯ উপজেলায় ১২৪টি বিদ্যালয়,মাদরাসা ও কলেজের মধ্যে ৯৮টিতে বন্যার পানি উঠেছে অবশিষ্ট ২৬টিতে বন্যার্ত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
বন্যার পানি বাড়ি থেকে সরিয়ে না পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই অবস্থান করবেন তারা বলে জানিয়েছেন।
অবস্থায় বন্যার্ত মানুষদের অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে থেকে গত ১৫-২০দিন যাবত মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে তাদের সন্তান সন্ততি ও গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন। বন্যার পানি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে চলাফেরা ও খাদ্য সরবরাহে কষ্টে রয়েছেন।এখনও পানি না কমায় তাদের বাড়িঘরে যেতে পারছেন না।ফলে মারাত্বক দুশ্চিন্তায় এসব বানভাসী মানুষ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
