মোঃ জিয়াউর রহমান, জেলা প্রতিনিধি :
খানপুর ৩০০ শয্যা(করোনা) হাসপাতালের ১০ বেডের ইনসেভটিভ কেয়ার ইউনিট(আইসিইউ) উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২ জুলাই দুপুরে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান আইসিইউ ইউনিটটি উদ্বোধন করেন। সরকারী ভাবে আইসিইউ বেড ও ভ্যান্টিলেটর পাওয়ার পর এমপি সেলিম ওসমান ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরো ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্রয় করে নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য দ্রুত আইসিইউ সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করেন।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সেলিম ওসমান বিগত দিনে হাসপাতালের হওয়া বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির কথা তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের হুশিয়ারী দিয়েছেন। পাশাপাশি দোষীদের শাস্তির আওয়ায় আনার কথা বলেন। এ সময় তিনি আইসিইউটি স্থাপনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের মূখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সচিব সহ সহ অন্যান্য সকল কর্মকর্তাবৃন্দ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি মহোদয়ের কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, নারায়ণগঞ্জের কৃতি সন্তান এসএসএফ এর ডিজি, প্রতিরক্ষা প্রশসানের কর্মকর্তাবৃন্দ সহ যারা আইসিইউ স্থাপনে ভূমিকা রেখেছেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডাক্তারদের সম্মুখ যোদ্ধা আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই হাসপাতালটিকে ৩০০ শয্যা হাসপাতাল বলা হয়। আসলে এটা এখন প্রস্তাবিত ৫০০ শয্যা হাসপাতাল। যার উন্নয়ন কাজের জন্য একটি অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। যার ফলে হাসপাতালটি এখন ৩০০ শয্যাও নাই। এর মাঝেও আমাদের ডাক্তার নার্সরা অনেক কষ্ট করে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যারা আমার সাথে পেছন থেকে কাজ করছেন ডাক্তার নার্স সবাই এরা কেউ কোন প্রকার দুর্নীতি করবে না। একথা আমি জোর দিয়ে বলতে পারি। আমাদের ডাক্তাররা হচ্ছেন সম্মুখ যোদ্ধা। উনারা রোগীকে সুস্থ্য করতে যুদ্ধটা করবেন করোনার বিরুদ্ধে। আর আমরা যুদ্ধটা করবো সেই সকল চোরদের বিরুদ্ধে যারা করোনাকে পুজি করে লুটপাট করছে। করোনাকে নিয়ে ব্যবসা করছে সেই সকল করোনা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।
করোনা চলাকালীন সময়ে ঘটা নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশের মানুষকে করোনা থেকে রক্ষা করার প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছেন তখন দেখা যাচ্ছে আওয়ামীলীগের কিছু কিছু অসাধু নেতা চাল চুরিতে ব্যস্ত রয়েছে। হাসপাতালে ডাক্তারদের খাওয়ার খচর হয় ২০ কোটি টাকা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ওই সকল অসাধু নেতারা দলীর নেত্রীর নির্দেশ অমান্য করছেন। তেমন নারায়ণগঞ্জেও একজন নেতা আছে যে কিনা আগে বন্দরে গিয়ে বক্তব্য দেয় সেলিম ওসমান বন্দরের এমপি না। বন্দরের এমপি হচ্ছে উপজেলার চেয়ারম্যান এম.এ রশিদ। আমি জানতে চাই একজন এমপির পদ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা উনি কোথায় পেলেন। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ওই আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এ সব কিছুর তদন্ত করে বের করা হবে।
খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার গৌতম রায়ের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন, জেলা সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহম্মেদ। ডাক্তার শামসুজ্জোহা সঞ্চয় এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ প্রথম সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, সহ সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া সাজনু, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু সহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য, খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল ঘোষণা করার পর এমপি সেলিম ওসমান ব্যক্তিগত তহবিল থেকে হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ওয়ার্ড বয়দের থাকা খাওয়া, যাতায়াত, রোগীদের সেবায় ৪টি অ্যাম্বুলেন্স, পিসি আর ল্যাব এর আনুসাঙ্গিক সরঞ্জাম, আইসিইউ ইউনিটের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ক্রয় সহ যাবতীয় ব্যাপারে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকার ব্যয় করেছেন। গত ১ জুলাই থেকে তিনি হাসপাতালে রোগীদের জন্যও খাবারের ব্যবস্থা করছেন। পরবর্তী দরপত্র আহবান না হওয়া পর্যন্ত তিনি রোগীদের খাওয়ার ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
