নিউ নর্মাল: ভিন্ন এক পৃথিবীতে বেঁচে থাকার চ্যালেঞ্জ: পর্ব-৩

প্রফেসর ড. মো. নাসির উদ্দীন মিতুল।।
করোনা পরবর্তী পৃথিবীটা মৌলিকভাবেই বদলে যাবে। গ্লোবালাইজেশনের কনসেপ্ট এখান থেকেই চির বিদায় নিবে এবং জাতীয়তাবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে দারুণভাবে। বাস্তব উদাহরণ হচ্ছে সাম্প্রতিককালে ইতালীতে কভিড-১৯ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার পর সারা ইউরোপ ইতালীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল। করোনা পরবর্তী সময়েও সবাই নিজ নিজ দেশকে সুরক্ষা দিতে এরকম খিড়কি এঁটে বসে থাকবে।

অর্থনীতি এখানে মুখ্য হয়ে দেখা দিবে না। কে কার আগে ভ্যাকসিন পাবে সেটিও নানানভাবে বিশ্ববাসীকে ভাবিয়ে তুলছে। যদিও ইতোমধ্যে ৫০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগন লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বহুগুন বেশী তহবিল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছেন। আশার কথা হলো সাম্প্রতিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গত্যাগকারী খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ভ্যাকসিন ইস্যুতে চীন ও ডব্লিওএইচও এর সাথে এক সাথে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। এবছরের শেষের দিকে সম্ভব না হলেও আগামী বছরের শুরুতে ভ্যাকসিন এসে যাবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

এখানে মানবতা জাতীয়তাবাদকে আপাততঃ পরাস্ত করেছে সত্যি, কিন্ত ভ্যাকসিন বাজারে আসার পর নিকট ভবিষ্যৎ বলে দিবে কোনটি আসল সত্য? বিশ্ব মানবতা নাকি জাতীয়তাবাদ? করোনাকালীন বিশ্ব পরিমন্ডলে যা কিছু ঘটছে তাতে এটুকুন পরিষ্কার যে, জাতীয়তাবাদ মাথা চারা দিয়ে উঠছে চরমভাবে।

আর এই চরম জাতীয়তাবাদের উম্মেষ থেকেই অভিবাসীদের সঙ্গে স্থানীয়দের নানান সমস্যা দেখা দিবে। দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশ থেকে মানুষ অর্থ কামাতে পাড়ি জমাবে ধনী দেশগুলোতে। আর ধনী দেশগুলো থাকবে খিড়কি এঁটে। ফলে উভয়ের সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠবে। এমন একটি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যদি ঘোষণা দিয়ে বসে যে তারা আর ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে পারবে না।

যেমনটা তুরস্ক ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে তারা আর চার কোটি সিরিয়ান শরণার্থীর চাপ সহ্য করতে পারছে না। প্রয়োজনে তারা ইউরোপের সীমান্ত খুলে দিবে। অর্থনৈতিক বিবেচনায় তুরস্কের চেয়েও বাংলাদেশের এ দাবী করোনাকালীন শতভাগ গ্রহণযোগ্যতা পাবে বিশ্ব দরবারে। যদিও এখনই এটা নিয়ে কোনো কথা উঠেনি। তবে দাবী উঠতে খুব বেশী সময় লাগবে বলে মনে হয়না।

কারন, কক্সবাজারের উখিয়া ও কুতুপালং ক্যাম্পে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমার কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে যা অত্যন্ত তিক্ততায় ভরা। মানবিকতা এখানে আমরা অনেক বড় করে দেখছি এ কথা সত্যি, কিন্ত আমাদের এ মানবিক আচরণকে পুঁজি করে তারা এর চরম অপব্যবহার করছে যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আমি দেখেছি কিভাবে ওরা এদেশে হুন্ডি ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান, ড্রাগের নামে নেশা জাতীয় দ্রব্য (বিশেষ করে ইয়াবা ও ফেন্সিডিল)পাচার, নিজেদের বসতি স্থাপন ও রান্নার খড়ি জোগারের নামে মাইলের পর মাইল গাছপালা কেটে পরিবেশ ধ্বংস করা, অধিক ত্রাণের আশায় পলিগামী আচরণের মাধ্যমে বংশ বিস্তারের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নামা যা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র চেতনার ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী। সস্তায় কাজ বাগিয়ে নেয়ার কারণে হোষ্ট-কমিউনিটির লেবার মার্কেট চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা। যেহেতু মায়ানমারের মুদ্রামান থেকে আমাদের মুদ্রামান প্রায় ১৬ গুন বেশী তাই বাংলাদেশ সীমানায় নাফ নদীতে মাছ শিকারের নামে আরাকানে বাংলাদেশী মুদ্রা পাচার করা ওদের প্রধান টার্গেট।

ছোট ছোট নাবালিকা রোহিঙ্গাদের দিয়ে তথাকথিত মাঝির(রোহিঙ্গা কমিউনিটি লিডার) টেকনাফ ও কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে সেক্স ট্রেড করানোর মতো গর্হিত অপরাধের সাথে ওদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা প্রমান সাপেক্ষ নয়। প্রমানিত। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে চাকরী হারাতে যাচ্ছে ২২ লক্ষ শ্রমিক। নিজ দেশের লাখো শ্রমিক বেকার রেখে রোহিঙ্গাদের বসিয়ে খাওয়ানোর কোনো যৌক্তিকতা আছে কিনা তা ভাববার সময় এসেছে।

কথাগুলো অর্থনীতির সাথে যায় বলে বলছি। যেহেতু আমি ইউএনএইচসিআরের অর্থায়নে একটি প্রজেক্ট নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা তিনমাস কাজ করেছি। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য শুধুমাত্র এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রবন্ধ লেখার ইচ্ছে আমার আছে। শীঘ্রই লিখবো আশা করি।

প্রসঙ্গে আসা যাক, বলছিলাম করোনাকালীন একদেশ থেকে আরেক দেশ এখন যেমনি বিচ্ছিন্ন আছে, বদলে যাওয়া বিশ্বেও ঠিক এমনটাই বহাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। অতএব, করোনা পরবর্তী অভিবাসন সমস্যা প্রকট হবে।

করোনা প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হলে তেল-নির্ভর দেশ গুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙ্গে পড়বে। আর এর প্রভাবেই একে একে অর্থনীতির বড় বড় সংস্থাসমূহ যেমনঃ রিয়েল এস্টেট, এয়ারলাইন্স, গাড়ী কোম্পানী, বিভিন্ন শিল্প সংস্থা, শপিংমল ইত্যাদি মন্দায় পড়বে। বারবে বেকারত্ব। দেখা দিবে অভ্যন্তরীণ আন্দোলন, অরাজকতা, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস। ত্বরান্বিত হবে সরকার-বিরোধী আন্দোলন। সামালাতে ব্যর্থ হলে পতন হবে অনেক দেশের সরকারের।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ফ্লয়েড এর হত্যা পরবতী ঘটনা-পরিক্রমা এমনই ইঙ্গিত বহন করছে কিনা? দেখার বিষয়। এই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। নয় শুধুমাত্র হত্যাকারী সংশ্লিষ্ট কতিপয় সাদা পুলিশ অফিসারের বিচারের দাবিতে। এটি রূপ নিয়েছে হাজার বছরের লাঞ্চনা-গঞ্জনা আর শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে।

সমগ্র বর্ণবাদের বিরুদ্ধে। আন্দোলনটি এখন আর শুধু আমেরিকার মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। নেই সোশ্যাল মিডিয়ার স্ট্যাটাস চালাচালির প্রতিবাদের মাঝে সীমাবদ্ধ্ব। আন্দোলনটি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে। ভয়কে জয় করে প্রতিবাদী জনতা করোনা ভাইরাসের তীব্র নিষেধাজ্ঞার মাঝে রাজপথে নেমে এসেছে।

এবার বোধ হয় বিশ্ববাসী এ যাবতকাল পর্যন্ত বর্ণবাদের কারণে বিশ্বে যত অবিচার হয়েছে তার পুরো মূলোৎপাটন করেই তবে ছাড়বে। তাইতো করোনা কোনো আতঙ্ক নয় তাদের কাছে। আমরা এর শেষ দেখার অপেক্ষায় আন্দোলনকারীদের সাথে একজোট হয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আন্দোলনকারী নিরীহ জনতাকে রুখতে মার্কিন সেনা মোতায়েনের।

বাংলাদেশে কিছুদিন আগে ঘোষণা করা হয়েছে ২০২০-২০২১ অর্থ-বছরের জাতীয় বাজেট । এসময়ে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব কমাতে এবং এ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সচেষ্ট সরকার। তাই জনস্বাস্থ্য বাদে এ-মুহূর্তে অন্য কোনো খাতে বড় নিয়োগের কথা চিন্তাও করা যায় না। বর্তমান বাজেটেও তার প্রতিফলন রয়েছে।

যদিও আমি কষ্ট পেয়েছি বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর কর আরেক দফা বৃদ্ধি করেছে সরকার, তা দেখে। এর ফলে মোবাইল ফোনে কথা বলা, এসএমএস পাঠানো এবং ডেটা ব্যবহারের খরচ বেড়ে যাবে। আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ সরকার কি আলীবাবা, জুম, বা জাকারবারগের ফেসবুকের রমরমা ব্যবসা দেখে এমনটি করলো? নাকি দেশীয় অন-লাইন সুপারশপ যেমন-স্বপ্ন, দারাজ, ইভ্যালী, চালডাল আর আড়ং এর কেনাকাটা বেজায় ভালো দেখে এমন সিদ্ধান্ত নিলো? বুঝতে পারছি না।

তবে যদি আমার ভাবনা সত্য হয় তাহলে বলবো এটি সরকারের একটি চরম ভূল সিদ্ধান্ত যা সংশোধন জরুরি। তাকে বিবেচনায় নিতে হবে গ্রামের দরিদ্র কৃষক-বাবা তার সন্তানকে অন-লাইন ক্লাস করার জন্য কম খরচে ইন্টারনেট প্যাকেজ (মেগাবাইট) কিনে দিতে পারছেন কিনা? সরকারকে চিন্তা করতে হবে কিভাবে মানুষকে যতটা সম্ভব এই সময়ে ঘরে রাখা যায়?

লকডাউন উপেক্ষা করে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কাউকে যেনো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষের জন্য বাজারে বের হতে না হয়। তাছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সকলকে অন-লাইন শপিং-এ অংশ নিতে তার আরো উৎসাহ প্রদান করা উচিৎ।

কর বাড়িয়ে নয়। প্রয়োজনে এ মুহূর্তে ভর্তুকি দিয়ে আরো অধিক সংখ্যক মানুষের অন-লাইনে সম্পৃক্ততা বাড়ানো দরকার বলেই আমি মনে করি। তাছাড়া এখন যেহেতু দেশজুড়ে অন-লাইন লার্নিং সিষ্টেম চালু করার মতো একটি অবস্থা বিরাজমান এবং অনেক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে অন-লাইনে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুও করে দিয়েছে।

তাই আয়ের খাত বাড়াতে এ সেক্টরে কর বৃদ্ধি করাটা হীতে বিপরীত হতে পারে। তাছাড়া এটি সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নের সাথে ঠিক কমপ্লাই করে না। প্যান্ডামিকের এই চরম দুঃসময়ে অন-লাইন সেবা এখন লাখো ঘরবন্দী মানুষের লাইভ-লাইনে পরিণত হয়েছে।

ট্যাক্স বাড়ালে আলটিমেটলী সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই মোবাইল-কোম্পানীগুলো অর্থ আদায় করবে। এতে সীমিত হয়ে পড়বে এর ব্যবহার। প্রভাব পড়বে বিনোদন ও শিক্ষামূলক তথ্য প্রাপ্তিতে। লকডাউনে এমন পরিস্থিতি কারো কাম্য নয়।

অবস্থাদৃষ্টে ঘোষিত বাজেট ঠিক না বেঠিক তার চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ করবেন দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদরা।

আমি শুধু বলতে চাই বাংলাদেশ যে টেকসই ও স্থিতিশীল উন্নয়নের দিকে এতদিন ধাবমান ছিল তা এই কভিড-১৯ এর কারণে বহুলাংশে বিঘ্নিত হবে। দেশের ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি বিশ্বের অনেক দেশের কাছেই ম্যাজিক ছিলো। তার আংশিক এখন মুখ থুবরে পড়বে। তারপরেও এত কঠিন সময়ে জাতীয় বাজেট তৈরির কোনো নজির বিশ্বে আছে বলে মনে হয় না।

এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। পাশাপাশি এ মুহূর্তে বিশ্বের কোনো দেশই বড় বড় শিল্প বা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে চাইবে না। এটা শতভাগ নিশ্চিত। তাই হ্রাস পাবে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত গবেষণার ব্যয় যা ভবিষ্যতে আমাদেরকে আরো দুর্বল করে তুলবে। আর এই দূরবলতা থেকে জন্ম নিবে হতাশা।

আমাদের প্রবৃদ্ধি যেখানে ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৮ এর ওপর প্রজেকশন করা যেখানে তা এখন ৪ এর উপরে রাখতে পারলেই যেনো জাত বাচে।

তবুও মানুষ বেঁচে থাক। হতাশা আর দুশ্চিন্তায় শরীরের ইমিউনিটি হ্রাস করে কোনো লাভ নেই। কারন আমরা লক্ষ্য করেছি দীর্ঘদিন ঘরে বসে থেকে ইংল্যান্ডের এক বয়স্ক দম্পতি মানসিকভাবে এতটাই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে তাঁরা আত্মহত্যা করেছিলেন।

আরো আরো দেখেছি কিছুদিন আগে জার্মানির হেসে প্রদেশের অর্থমন্ত্রী করোনা–পরবর্তী অর্থনীতি কীভাবে টেনে তুলবেন, সেই চিন্তা থেকেই ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। ঠিক এই মুহূর্তে অর্থনীতিবিদেরা অর্থনীতি নিয়ে চিন্তিত, রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত। সাধারণ মানুষ জীবন, জীবিকা, চাকরি, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও নানা বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। চারদিকে তাকালেই ভয় আর ভয়, আতঙ্ক আর আতঙ্ক।

এরই মধ্যে আবার বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ কিছু স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের করোনাভাইরাস সম্পর্কিত আগাম ভবিষ্যৎবাণী সেই আতংকের মাঝে ঘি ঢেলে দিয়েছে। অর্থাৎ বনের বাঘে না খেয়ে তার আগেই যেন আমাদের মনের বাঘে খায়। বিষয় টি এমন আরকি? দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর আজ এক’শ এগার দিন পার হতে চললো।

আমরা এখনো এর লাগাম টেলে ধরা দূরে থাক, সংক্রমণের হার ২০ শতাংশের নীচে কিছুতেই নামাতে পারছি না। অথচ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী এটি যে কোনো মূল্যে ৭ থেকে ৮% এর মধ্যে রাখা নিরাপদ। পেরেছি কি আমরা সাবধান হতে? অনেক সুযোগ আমরা হাতছাড়া করেছি।

সামনে কোরবানীর ঈদ। গরু কেনাবেচার নেশায় মত্ত থাকবে হুজুগে বাঙ্গালী। এদিকে শোনা যাচ্ছে জুলাই এর শেষে পিক শুরু হয়ে তা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। যদিও আমি এই পিকের কথা শুনে আসছি অনেক আগে থেকেই। তাই এখন আর ঠিক এসব তথ্যের ওপর ভরসা করতে পারছি না।

তারপরেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কিভাবে ক্রেতা-বিক্রেতারা গরু কেনা বেচা করবেন ঠিক ভেবে পাইনা। আমাদের সকলের উচিৎ সাবধান হওয়া, আতঙ্কিত হওয়া নয়। করোনা আমাদের জন্য এমনিতেই একটি বিশাল সমস্যা, তারসাথে দুশ্চিন্তা যোগ করলে তার মাত্রা আরো দিগুণ হবে।

এ কারণে কিছুতেই দুশ্চিন্তাকে পাত্তা দেয়া যাবে না।তাই বিলম্ব না করে এই মুহূর্তেই মানসিক স্বাস্থ্যবিদদের উচিৎ করোনা–পরবর্তী নিউ নর্মালে ভিন্ন এক পৃথিবীতে দেশের সকল নাগরিকদের জন্য একটি শক্ত মানসিক ভিত্তি নির্মাণের মহা পরিকল্পনা করা। কারণ করোনার প্রভাবে বদলে যাওয়া বিশ্বের এ বিরূপ আচরণ আমাদের আজকের শিশুকিশোরের মনে বড় ধরনের ট্রমা তৈরী করছে তা সেড়ে তুলতে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রের বেশ বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।

নিউ নর্মালে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের মেন্টাল ট্রমা দূর করাটাও সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যা নিয়ে তাকে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। নইলে পথ হারাতে পারে আগামী প্রজন্ম।

লেখক-ডিন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading