এইমাত্র পাওয়া

কলকাতার দর্শকদের অপেক্ষায় ঢাকার ফুটবল দর্শকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসলে ঢাকার ফুটবল দর্শকরা অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করবে ১২ নভেম্বরের জন্য। কারণ ওই তারিখ ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ফিরতি ম্যাচে ভারতকে আতিথেয়তা দিবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ইতোমধ্যে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলে ফেলেছে লাল সবুজ জার্সিধারীরা। গত বছর ১৫ অক্টোবর সল্টলেক স্টেডিয়ামে ৫৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অসাধারণ দক্ষতা দেখাতে সক্ষম হয় জামাল ভুঁইয়ার দল। যদিও জিততে জিততে তাদের শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

ম্যাচটি উপভোগ করতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি ফুটবল সমর্থক পাড়ি জমিয়েছিল পার্শবর্তী দেশ ভারতের কলকাতায়। ম্যাচ শুরুর আগে উৎসব মুখর পরিবেশে বাংলাদেশ ও ভারতের সমর্থকরা নিজ নিজ দলকে সমর্থন জানাতে জড়ো হয়েছিল স্টেডিয়ামের বাইরে। এই সময় নেচে গেয়ে তারা দারুন এক পরিবেশ সৃষ্টি করে। ম্যাচের ৪২ মিনিটে বাংলাদেশ যখন গোল করে এগিয়ে যায় তখন স্বাগতিক দর্শকরা একেবারেই নিস্তব্ধ হয়ে যায়। এসময় জাতীয় পতাকা দুলিয়ে বাংলাদেশের দর্শকরা উৎসবে মেতে উঠে স্টেডিয়ামে। নেচে গেয়ে তারা উৎসাহিত করে বাংলাদেশ দলকে। তবে ৮৮তম মিনিটে গোলটি পরিশোধ করে দেয় স্বাগতিক ভারত।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কি ঘটতে যাচ্ছে ফিরতি লেগের ম্যাচে। কারণ প্রথম ম্যাচে জয় পেতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। তাই পরের ম্যাচে যে কোন কিছুই ঘটতে পারে। ভারত নিজের মাঠে জয় পেতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকায় ফিরতি ম্যাচে জয়লাভের মাধ্যমে পুরো তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করতে চাইবে। বাংলাদেশের সামনেও থাকছে একই লক্ষ্য। তাছাড়া হোম গ্রাউন্ডের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তারা চাইবে আরো বেশি সফল হতে।

আসলে ১৫ অক্টোবরের ম্যাচের আগে স্বাগতিকরা ফলাফলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল গ্যালারির দর্শক উপস্থিতিকে। ভারতীয় অধিনায়ক সুনিল ছেত্রি কলকাতার দর্শকদের অনুরোধ করেছিলেন, তারা যেন পুরো স্টেডিয়াম পরিপূর্ণ করে দিয়ে বাংলাদেশ দলকে চাপের মধ্যে রাখে। কিন্তু এতে হিতে বিপরীত চিত্র ভেসে উঠে। বাস্তবতা হচ্ছে উল্টো চাপে পড়ে গিয়েছিল স্বাগতিক দল। এমন পরিস্থিতিতে কোনো রকমে হার এড়িয়েছে ভারত।

ওই ম্যাচে কলকাতার দর্শকরা কিছুটা হাল্কা ভাবেই নিয়েছিল বাংলাদেশ দলকে। তাদের ধারনা ছিল সফরকারী দলটি বড় ব্যবধানে পরাজিত হবে। এমনকি ওই ম্যাচে ভারতীয় অধিনায়ক হ্যাট্রিক করছেন, এমন ব্যানারও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল কলকাতার দর্শকরা। তবে ফুটবলে সচরাচর এমনটিই হয়। কারণ ফুটবল ম্যাচের বড় অনুপ্রেরনা হচ্ছে দর্শক উপস্থিতি। কলকাতার ওই ম্যাচ দেখতে যাওয়া বাংলাদেশি দর্শকরা এবার চাইবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামকে ভরপুর করে তুলতে। এটি বলার অপেক্ষা রাখেনা যে তারা কলকাতার দর্শকদের জবাব দেয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান রয়েছে।

তবে দর্শকভর্তি স্টেডিয়ামে খেলা হওয়ার সম্ভবনা ক্ষীণ। কারণ বড় প্রশ্ন হচ্ছে কতোদিন স্থায়ী থাকবে করোনাভাইরাসের দাপট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে বলেই মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ দলের কোচ কোচ জেমি ডে অবশ্য শংকাই প্রকাশ করেছেন। কারণ বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাছাইপর্বের ম্যাচ গুলো দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামেই আয়োজনের কথা ভাবছে ফিফা। এমনকি আগামী তিন চার মাসের মধ্যে ফুটবল মাঠে ফিরলেও অবশিষ্ট ওই সময়ের মধ্যে মাঠে দর্শক আনা সম্ভব হয়ে উঠবে না।

ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) অবশ্য গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতির কথা না ভেবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাছাইপর্বের ম্যাচ শেষ করার দিকে বেশি জোর দিচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত এসব বিষয় নিয়ে তারা কোনো মতামত প্রকাশ করেনি। তবে যদি এমনটিই হয়, তাহলে গ্যালারি পূর্ণ করে কলকাতার দর্শকদের জবাব দেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে ঢাকার দর্শকরা। আর একই ভাবে স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে জামাল ভুঁইয়ারা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading