এইমাত্র পাওয়া

ননএমপিও শিক্ষকদের প্রণোদনার নির্দেশনার বেড়াজালে  হতাশ অসংখ্য শিক্ষক

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অফিস-আদালত বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বিপাকে পড়াদের মধ্যে নন-এমপিও শিক্ষকগণ । আর এই ননএমপিও শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছে অনার্স-মাস্টার্স কলেজ শিক্ষক, ডিগ্রি কলেজ ৩য় শিক্ষক ও নীচের দিকে ইন্টার মিডিয়েট কলেজের বিভিন্ন কারণে এমপিও না হওয়া শিক্ষকগণ। আরও রয়েছে হাইস্কুল, বেসরকারি প্রাইমারি, কেজি স্কুল এবং এবতেদায়ী মাদরাসা সহ দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল( মাস্টার্স) মাদরাসার শিক্ষকগণ। এসব শিক্ষকদের কেহ কেহ এমপিওভূক্ত প্রতিষ্ঠানের, কেহ সরকারিকৃত কলেজের ননএমপিও শিক্ষক এবং বেশীরভাগ ননএমপিও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। এসব শিক্ষকদের কেহ কেহ প্রতিষ্ঠান থেকে নাম মাত্র কিছু সম্মানী পান আবার কেহ ৫০/৬০ হাজার টাকাও পান প্রতিমাসে( এ সংখ্যাটা অতি নগণ্য) । আবার কেহ কিছুই পান না। তারা মূলত টিউশনি, বই লেখা, ব্যাচ পড়ানো ইত্যাদি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

কিন্তু চলমান লকডাউনে আয়ের সে সব রাস্তা বন্ধ হওয়ায় বউ বাচ্চা সংসার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। অসংখ্য শিক্ষক চক্ষুলজ্জায় সব প্রকাশ করতে পারছেন না কিন্তু কোন সহযোগিতাও পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে একাধিক শিক্ষক আত্মহত্যাও করেছেন এমপিওভূক্ত হতে না পেরে! শত শত শিক্ষক আমাদেরকে মোবাইলে তাদের চরম বিপদ আর দুর্দশার কথা জানিয়েছেন। তাদের কষ্টের কথা শুনে খুব কষ্ট হয়। কান্না আসে!এমনও জানিয়েছেন কোন কোন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের দুঃখ কষ্টের কথা শুনে কিছু চাল ডাল আর ত্রাণ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন। শুনে কষ্টে ; অসম্মানবোধ মনে করে কেঁদেছেন নিরবে! জাতি গড়ার মহান কারিগর আজ অসহায় দীন- দরিদ্রের কাতারে !একি হতে পারে শিক্ষকের সম্মান ?

অবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আগ্রহে নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সহায়তা/ প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করছেন মন্ত্রণালয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় হতে যে চিঠি দেয়া হয়েছে সেটা নিয়ে বিপাকে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং ভুক্তভোগী শিক্ষকগণ ! এটা দ্রুত সংশোধনীর মাধ্যমে স্পষ্টীকরণ জরুরি। না হলে বিপাকে থাকা শত সহস্র ননএমপিও শিক্ষক তাদের তথ্য পাঠাতে পারবেন না !

ননএমপিওভূক্ত প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি স্পষ্ট হলেও এখনও ঠিক করে বলা যাচ্ছে না এমপিওভূক্ত কোন কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সরকারিকৃত অনার্স-মাস্টার্স ও ডিগ্রি কলেজের ননএমপিও শিক্ষকদের বিষয়টি। চিঠি সংশোধনী ছাড়া ক্লিয়ার নয়। যার ফলে দেশব্যাপী অসংখ্য কলেজ অধ্যক্ষ তাদের কলেজের ননএমপিও শিক্ষকদের তথ্য পাঠাচ্ছেন না।

আমরা জানতে পেরেছি আরেকটি নির্ভুল তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যেহেতু ২৮ মে,২০২০-র মধ্যে তালিকা পাঠাতে মাঠ পর্যায়ে বলা হয়েছিল আর সে তারিখ আগামী কাল শেষ হচ্ছে ; সেজন্য আমরা মাননীয় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারদেরকে বিনীত অনুরোধ করবো যে, আপনারা উর্ধতন কর্তৃপক্ষ স্যারদেরকে/ মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি অবহিত করে সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত ও বিপদগ্রস্ত শিক্ষকদের কল্যাণে একটু সহযোগিতা করে বিষয়টি সংশোধনীর মাধ্যমে স্পষ্ট করলে দেশের শত সহস্র ননএমপিও শিক্ষক উপকৃত হবেন ।

সচিব স্যার নিজেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পজেটিভ আশ্বাস দিয়েছেন। সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সম্মানজনক মহান পেশার জাতি গড়ার মহান কারিগররা যেন না খেয়ে, না পরে, অসম্মানের সাথে বাচতে না হয়।

বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সম্মান ও সুযোগদাতা সরকার। সে হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত প্রণোদনায় দেশের সকল স্তরের, সকল প্রতিষ্ঠানের সকল ননএমপিও শিক্ষক সম্পৃক্ত হবেন, পাবেন শিক্ষকের সম্মানজনক সহায়তা এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক-

আহাম্মদ মল্লিক,
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ (বাসকশিপ)।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.