আগামী বাজেট বরাদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি চায় এমপিও শিক্ষকগণ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, মানবতার “মা”, বিশ্ব নেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট

“আমার কিছু কথা”
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমি একজন বেসরকারি এমপিও ভুক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক। আমি আজকে আপনার সদয় অবগতির জন্য আপনার মহান সমীপে আমাদের শিক্ষক- কর্মচারীদের পক্ষ থেকে কয়েকটি কথা উল্লেখ করতে চাই।

আশা করি আপনি মানবতার “মা” হিসেবে আমাদের বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মনের কথাগুলো নিজ চোখে পড়ে আমাদের দুঃখ কষ্ট গুলো উপলব্ধি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আপনি নিশ্চয় জানেন যে, বাংলাদেশের ৯৭% মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক/ সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসরকারি।

এসকল প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। তাদের কে সরকারের কোষাগার থেকে মাসিক শতভাগ বেতন ( আমলাদের ভাষায় অনুদান), বার্ষিক ৫% প্রবৃদ্ধি( আমলাদের গাফিলতির কারণে দুই বৎসর বঞ্চিত) দেয়া হয়। তাছাড়া আপনার নিজস্ব বদান্যতায় বিগত বৎসর থেকে বৈশাখী ভাতা দেয়া হচ্ছে এবং বিগত ২০০৪ সালে তৎকালিন জোট সরকারের নিকট থেকে আন্দোলন করে শিক্ষকদের জন্য মূল বেতনের ২৫% এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ৫০% করে দুই ঈদে দুটি খন্ডিত বোনাস আদায় করা হয় যা আজ পর্যন্ত চালু আছে।

এছাড়াও আমরা সরকার থেকে মাসিক ৫০০/- টাকা চিকিৎসা ভাতা( যদিও এ টাকা দিয়ে বর্তমানে একজন হাতুড়ে ডাক্তারের একবারের ভিজিট ও দেয়া সম্ভব হয় না) এবং১০০০/- টাকা বাড়ি ভাড়া( যা লোক সমাজে প্রকাশ করা যায় না) হিসেবে পাচ্ছি।
উপরোক্ত সুবিধাগুলোর বেশির ভাগই আপনার নিজস্ব আগ্রহ থেকেই আমরা পেয়েছি যার জন্য আমাদের কে কোন প্রকার আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়নি। এখন দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে আমরা আপনার মহান সমীপে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছি আপনি আমাদের জন্য কিছু একটা করবেন। আমরা জানি আপনার নিকট থেকে কাউকে কোন কিছু চেয়ে দাবি করে আদায় করতে হয়নি। সরকারি চাকুরিজীবিদের জন্য, ডাক্তারদের জন্য, পরবহন শ্রমিকদের জন্য, কৃষকদের জন্য, শ্রমজীবীদের জন্য সর্বোপরি দেশের সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন।

যা থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইতমধ্যে সুবিধা পেতে শুরু করেছে। এ মহানুভবতার জন্য আমরা আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। করোনা ভাইরাসের মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষার সাথে আমরা যারা জড়িত আছি আমাদেরকে এ দুর্যোগের সময় আপনি যখন যে কাজ করতে বলেছেন আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আপনার ডাকে সারা দিয়ে সে কাজে ঝাপিয়ে পরতে কখনো দ্বিধাবোধ করিনি। করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে আমরা কৃষকের মাঠের ধান কেটেছি, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করছি এবং দীর্ঘ ছুটি জনিত কারণে শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার যে ক্ষতি হচ্ছে তা পূরণ করার জন্য নিজ নিজ উদ্যোগে বিভিন্নভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের কে সহযোগিতা করার জন্য চেষ্টা করছি। এ জন্য আমরা আপনার নিকট কোন প্রকার প্রণোদনা চাই না।

আমরা আপনার নিকট আমাদের ন্যায্য অধিকার গুলো চাই।
১। আমরা সরকারি কোষাগার থেকে মূল বেতনের সমপরিমাণ বাৎসরিক দুটি উৎসব বোনাস চাই।
২। সরকারি নিয়মে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা চাই।
৩। সরকারি নিয়মে পেনশন চাই।
৪। ঘোষিত উচ্চতর স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ণ।
৫। সরকারি চাকুরি জীবিদের ন্যায় বদলির ব্যবস্থা চাই।
৬। আমাদের চাকুরির নিশ্চয়তা চাই।
৭। ম্যানেজিং কমিটির প্রথা বিলুপ্ত করে সরকারি স্কুল/ কলেজের মত প্রশাসনিক তদারকি চাই।
৮। প্রধান শিক্ষকদের হাতে এসিআরের ক্ষমতা চাই।
উপরোক্ত বিষয়গুলো আমাদের কোন দাবি নয় এগুলো আমাদের অধিকার। আপনি আমাদের অধিকারগুলো সুবিবেচনা করে তা বাস্তবায়ণ করার জন্য আগামী ২০২০-২১ অর্থ বৎসরের জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখবেন এ প্রত্যাশা করছি।
লেখক-
মোহাম্মদ ফজলুল হক ফকির
প্রধান শিক্ষক
রায়পুরা আর. কে. আর. এম উচ্চ বিদ্যালয়
রায়পুরা, নরসিংদী
সহসভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম, কেন্দ্রীয় কমিটি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.