এইমাত্র পাওয়া

বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের সভাপতির মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি

 দেশরত্ম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তেজগাঁও, ঢাকা।

বিষয়ঃ আর্থিক প্রণোদনা অভাবে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা মানবেতর জীবন যাপন করছে।

দেশে করোনা আক্রন্তের সংখ্যা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে সেই সাথে মৃত্যুর মিছিল। সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা না হওয়ায় মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। এমতাবস্থায় তাদের কোনো কর্ম না থাকায় জীবন জীবিকা নির্বাহ হুমকির মুখে পড়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খোলা চিঠির মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে। এই বিষয়ে বিভিন্ন গণ মাধ্যমে আসলেও আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা না হওয়ায় দুশ্চিন্তার মধ্যে পরেছে তারা। করোনা ও রমজানের কারণে সকল শিক্ষক ঘরে থাকায় খাদ্য অভাব ও অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে পরেছে। রমজানের মধ্যে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাপন করছেন।

বেতন ভাতা না থাকায় জীবন যাপনের জন্য অনেক শিক্ষক বিকাল ৪.০০ ঘটিকার পর থেকে খন্ডকালীন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত। করোনার কারনে তাও বন্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনার কারণে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আপনার এমন বক্তব্যকে আমরা স্বাগত জানাই। কারণ আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। কিন্তু এই ভবিষ্যত তৈরির কারিগর বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা আজ আর্থিক সমস্যার কারণে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তার না পাচ্ছে বেতনভাতা, না পাচ্ছে প্রণোদনা, না পাচ্ছে রেশম। সব কিছু থেকে আজ বঞ্চিত। তাদের ঘরে আজ খাবার নেই ঔষধ নেই, কোথাও না পাচ্ছে তারা হাত পাততে তাই তদের আজ কষ্টের শেষ নেই। বর্তমানে সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ যে ভাবে ডানা বেঁধেছে বাংলাদেশও তার বাহিরে নয়। আপনার সাহসিকতা পদক্ষেপ সকল মহলে আজ প্রশংসিত। তাই এই অসহায় শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করে আর্থিক প্রণোদনাসহ পরবর্তী জাতীয়করণের জন্য আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

হে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী
আমাদের শুভে”ছা ও অভিনন্দন গ্রহণ করিবেন। আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ০১/০৭/১৯৭৩ সনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত জাতিকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে দেশকে অভিশাপ থেকে মুক্ত করার জন্য তাঁহার এক ঘোষণায় প্রথমত- ৩২০০০ (বত্রিশ হাজার) এবং পরবর্তী বঞ্চিত আরও ৪১৬০টি মোট ৩৬১৬০টি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও কর্মরত শিক্ষকদের চাকুরী সরকারিকরণ করেন। জাতি গঠনের নিপুন কারিগর, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিভাবক হয়ে হৃদয়ে চির স্মরনীয় হয়ে আছেন।

হে মহান নেত্রী
প্রায় ৪০ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর বাংলাদেশের মহান  স্থাপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যে ৯ জানুয়ারী ২০১৩ তারিখে ২৬,১৯৩ টি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে জাতির পিতার মত আরও একটি ইতিহাস রচনা করেছেন। কিন্তু অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় যে, জাতীয়করণ কালীন ২৬,১৯৩ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান করা হয়েছিল, তাহার সংখ্যা যথাযথ না হওয়ায় ৪১৫৯ টি বিদ্যালয় ও কর্মরত শিক্ষকগণ জাতীয়করণ হতে বঞ্চিত হয়। ২০১২ সালের সমাপনীসহ এই বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে থেকে প্রায় ১৩০০ বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য যাচাই বাছাই করা হয়েছে। যা মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত আছে।

হে দেশরত্ম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
২০১৮ সালে ১৮ দিন আন্দোলনের পর আপনার কার্যালয় হইতে ২০ ফেব্রুয়ারী-২০১৮ তালিকা বর্হিভ‚ত প্রাথমিক বিদ্যালগুলো জাতীয়করণের হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়। তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় সঠিক তথ্য না দেওয়ায় আবারও বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ে যায়। ২০১৯ সালে আবারও আপনার সুৃদৃষ্টি কামনার জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনের মত কর্মসূচী পালন করি। এসময় একজন শিক্ষক ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। ২০২০ সালে আপনার দপ্তরে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের জন্য স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। হঠাৎ করোনার কারণে সবকিছু স্থবির হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষকেরা মহা বিপদে পড়েন।

মহান আল্লাহ আপনার হাতকে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী, সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু করুন। এই কামনায় বাংলাদেশ বে-সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সকল শিক্ষক/শিক্ষিকার বৃন্দর পক্ষে-

লেখক-মোঃ মামুনুর রশিদ খোকন

সভাপতি, বাংলাদেশ বে-সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.