এইমাত্র পাওয়া

আড়াইহাজারে শিক্ষার্থীদের হাতে বার্ষিক পাঠপরিকল্পনা

মোঃ জিয়াউর রহমান, জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ।

নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বার্ষিক পাঠপরিকল্পনা বিতরণ করার মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

যদিও বিষয়টি অভিনব এবং চমৎকার। পুরো এক বছর শিক্ষার্থীরা কোন দিন কি পড়বে তার একটি পরিকল্পনা হাতে পেয়ে উৎফুল্ল আড়াইহাজার উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা। নতুন এই কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরো মনযোগী করে তুলেছে। পরিবর্তন এসেছে আড়াইহাজার উপজেলার শিক্ষাখাতে।

একই দিনে একই পাঠদান পদ্ধতী বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের কাছে। উপজেলার ২৮ টি অনুমতি প্রাপ্ত হাইস্কুল ও অনুমতিবিহীন ১৮ টি স্কুলের মোট ৩০ হাজার ৩৯৬ শিক্ষার্থী সমন্বিত পাঠদান কর্মসূচীর আওতায় মেধা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সোহাগ হোসেন এর পরিকল্পনায় পাঠ পরিকল্পনাটি সম্মাদনা করেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কেএম আলমগীর হোসেন। জানা গেছে, জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এর মূলমন্ত্র হচ্ছে “কাউকে পশ্চাতে রেখে নয়” এবং সারা বিশ্বের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরন।

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এর চতুর্থ লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে – “সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষা লাভের সুযোগ সৃষ্টি”. এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে আড়াইহাজার উপজেলার সকল মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে একই রূপ পাঠ পরিকল্পনা।

শিক্ষা হচ্ছে একটি জাতির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রথম ধাপ। এই ধাপ অতিক্রম এর জন্য আবশ্যক ফলপ্রসূ পাঠদান। ফলপ্রসূ পাঠদানের অন্যতম উপাদান পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি এবং সহজভাবে শ্রেণীতে পরিকল্পিতভাবে পাঠ উপস্থাপনের মাধ্যমে শ্রেণি ঘন্টার যথাযথ ব্যবহার। সকল পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অভিপ্রায়ে আড়াইহাজার উপজেলায় সময়াবদ্ধ এ পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।

পাঠ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হওয়ায় এই উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বছরের প্রতিটি দিনে প্রতিটি বিষয়ের অভিন্ন পাঠ উপস্থাপিত হবে। এর ফলে প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবক কর্তৃক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ সহজতর হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোহাগ হোসেন জানান, আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি উপজেলা পর্যায়ের ভালো স্কুল গুলোতে নিয়মিত পাঠদান করা হয় কিন্তু দূরবর্তী ইউনিয়ন এবং প্রান্তিক পর্যায়ের বিদ্যালয় সমূহতে যথাযথ তদারকির অভাবে অনেক সময় পুরো সিলেবাস পড়ানো হয় না।

এছাড়াও সকল বিদ্যালয়ে সহপাঠক্রম যেমন: উপস্থিত বক্তৃতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা, বিদ্যালয় পরিচ্ছন্নতা ও রচনা প্রতিযোগিতা এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় না। এজন্য আমরা পাঠ পরিকল্পনায় এ বিষয় সমূহও অন্তর্ভুক্ত করেছি। যা উপজেলার সকল শিক্ষার্থীর গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখবে।

বৃহস্পতিবার(৫ মার্চ) বিকালে আড়াইহাজার উপজেলা সদরে অবস্থিত আলহাজ্ব শাহজালাল মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ”আমার বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা নামে এই বার্ষিক পরিকল্পনা উদ্ধোধন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সোহাগ হোসেন এর উদ্ধোধন করেন। এই সময় বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজালাল মিয়া, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো: উজ্জল হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কে এম আলমগীর হোসেন, একাডেমিক সুপার ভাইজার মো: শাহজাহান ও আড়াইহাজার থানা প্রেসক্লাব সভাপতি মাসুম বিল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবু জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোহাগ হোসেন এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়নের পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি বিদ্যালয় গামী কিশোরীদের বিশেষ সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে প্রত্যেক ছাত্রীকে স্যানিটারি ন্যাপকিন প্রদান এবং এতদ্বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন।

এছাড়াও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে তিনি উপজেলার সকল বিদ্যালয়ের জন্য বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ণ করে চমৎকার একটি পদক্ষেপ নিয়েছেন ন যা সত্যিই প্রশংসনীয় । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেমনটি বলেছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা চাইলেই একটি উপজেলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন তিনি সেরকম একজন কর্মকর্তা। দুপ্তারা সেন্ট্রাল করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন সরকার জানান, সমন্বিত পাঠ কার্যক্রম নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ। এতেকরে স্কুলের সাথে স্কুলের বৈষম্য কমবে।

শিক্ষাখাতে সমতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও লাভবান হবে। এই কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে ভাল স্কুল বলে আলাদা কোন বিষয় থাকবেনা। সে সাথে স্কুলগুলোর ফলাফল ভাল হবে। কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুন নাইম বলেন, বাৎসরিক পাঠ পরিকল্পনা থাকায় আমরা জানতে পারছি, আগামীকাল কি পড়ানো হবে, ফলে আমরা বাসায় প্রস্তুতি নিয়ে স্কুলে আসতে পারছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কে এম আলমগীর জানান, আমার বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা বই একটি সমন্বিত পাঠ পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য আড়াইহাজারের সকল বিদ্যালয়ে সমমানের সকল শিক্ষার্থী একই দিনে একই পাঠ গ্রহন করবে। এতে শিক্ষাখাতের বৈষম্য দূর হবে। মেধার সঠিক মূল্যায়ন হবে। শিক্ষার সঠিক চিত্র উঠে আসবে।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শাহজাহান বলেন, আমার বার্ষিক পাঠপরিকল্পনা বইয়ে একজন শিক্ষার্থীর জন্য বছরের সবগুলো দিনের কাজ দেখানো হয়েছে। সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে প্রতিদিনের নির্দিষ্ট পাঠ, শরীর ও মনোবৃত্তীয় কাজ, প্রতি শুক্রবারের বিশেষ ও সামাজিক কাজ এবং বন্ধের দিনগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন কাজ দিয়ে।এ বই অনুসরণে একাধারে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক এর স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব। প্রতিষ্ঠা সম্ভব প্রত্যেকের ও আমার স্বপ্নের স্কুল। আড়াইহাজার উপজেলার নদীবেষ্টিত ইউনিয়ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবল চন্দ্র ঘোষ জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে এধরণের পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা থাকলেও বাংলাদেশের কোথাও বছরের প্রত্যেকটি দিনের শিক্ষা কার্যক্রমের পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ণ করা হয়নি ।

ফলে একেক বিদ্যালয় একেক ভাবে তাদের পাঠদান করতেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগের ফলে আমরা আড়াইহাজার উপজেলার প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থী একই ধরনের পাঠ অধ্যয়ণ করবে এবং সমভাবে আমরা এগিয়ে যাব।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.