এইমাত্র পাওয়া

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রধানদেরও বদলির সুযোগ, নতুন নীতিমালা জারি

নিউজ ডেস্ক।। 

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। এতে শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানদেরও বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে, যা আগে ছিল না।

আজ বুধবার জারি করা ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল-কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৬ (সংশোধিত)’–এ এ সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান নীতিমালায় স্বাক্ষর করেন। এর আগে অবশ্য আরও তিনবার এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছিল সরকার।

মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করে। পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন ভাতাও পেয়ে থাকেন।

বর্তমানে সারা দেশে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে প্রায় ৩২ হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মধ্যমে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, শূন্যপদের বিপরীতে প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বদলির আবেদন আহ্বান করা হবে এবং একই স্তরের পদে শূন্যতা থাকলে বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। আবেদনকারীরা নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন; নিজ জেলায় শূন্যপদ না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য জেলায় আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের ভিত্তিতেও বদলির আবেদন করা যাবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। একই বিষয়ে একাধিক শিক্ষককে একসঙ্গে বদলি করা যাবে না। একজন শিক্ষক কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন এবং প্রথম বদলির জন্য চাকরিতে অন্তত দুই বছর পূর্ণ হতে হবে। পরবর্তী বদলির জন্যও প্রতিবার নতুন কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই বছর দায়িত্ব পালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এমপিও সুবিধা বন্ধ থাকা, সাময়িক বরখাস্ত থাকা বা ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকেরা বদলির আবেদন করতে পারবেন না বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি পদের জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়লে নারী প্রার্থী, জ্যেষ্ঠতা, স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল এবং দূরত্ব বিবেচনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। দূরত্ব নিরূপণে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা জেলার কেন্দ্রকে ভিত্তি ধরা হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বদলির পুরো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে এবং পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান নিশ্চিত করতে হবে।

নীতিমালায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে তা বাতিল হবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য প্রদান শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.