এইমাত্র পাওয়া

এনটিআরসিএতে বড় পরিবর্তন সরাসরি পরীক্ষায় শিক্ষক নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ।। 
দেশের বেসরকারি শিক্ষা খাতে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিতে আসছে বড় পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের প্রচলিত শিক্ষক নিবন্ধন সনদভিত্তিক নিয়োগ পদ্ধতি থেকে সরে এসে এবার সরাসরি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবারই প্রথম সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শূন্যপদের চাহিদা সংগ্রহ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

সূত্র অনুযায়ী, “নবম এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি” নামে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। এতে আবেদনকারীদের জন্য ২০০ নম্বরের এমসিকিউ ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন। উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে উত্তীর্ণ হতে।

দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদের তথ্য পাওয়া গেছে। যাচাই শেষে এই সংখ্যা চূড়ান্ত করে বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৪ হাজার ১২৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ লাখ ৯৮ হাজার শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

এতদিন শিক্ষক হতে হলে প্রার্থীদের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিবন্ধন সনদ অর্জন করতে হতো। পরে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করে এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পেতেন।

নতুন পদ্ধতিতে এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। শুধুমাত্র নির্বাচিত প্রার্থীদেরই নিয়োগ সনদ প্রদান করবে এনটিআরসিএ।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে ই-রিকুইজিশনের মাধ্যমে শূন্যপদের চাহিদা আহ্বান করা হয়, যা কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল শেষ হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ (ই-রেজিস্ট্রেশন) কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ জানানো না হলেও চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, সব প্রক্রিয়া শেষে এক সপ্তাহের মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আশা করা হচ্ছে।

২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ প্রদান করে আসছে। ২০১৫ সালের পর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবর্তে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশের ক্ষমতা পায় সংস্থাটি। এ পর্যন্ত সাতটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন পদ্ধতি চালু হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও প্রতিযোগিতামূলক, স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে। তবে নিবন্ধন সনদধারীদের জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখা দিতে পারে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.