নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনে জয়লাভের পর দলটির ভেতরে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম।
এই প্রেক্ষাপটে লক্ষ্মীপুর জেলার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে মহিলা দলের নেত্রী অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবীর নাম। তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়তা এবং শিক্ষা অঙ্গনে সম্পৃক্ততার কারণে তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।
অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী জানান, দলের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন তিনি। “আমরা প্রায় ১৮ বছর রাজপথে সংগ্রাম করেছি। নানা ধরনের হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আশা করছি, দল আমাদের ত্যাগের মূল্যায়ন করবে,” বলেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু সম্পর্কে তিনি জানান, নব্বইয়ের দশকে বেগম বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যয়নকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে মহিলা দলের মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
শুধু রাজনীতি নয়, শিক্ষা ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষক সমাজের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও শিক্ষানীতি বিষয়ক আন্দোলনে তার সম্পৃক্ততা তাকে একটি গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যেও তার প্রতি সমর্থন দেখা যাচ্ছে। রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, “দলের কঠিন সময়ে বেবী আপা মাঠে ছিলেন। এমন ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন করা উচিত।”
রায়পুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটনও একই সুরে বলেন, “দলের দুঃসময়ে যারা পাশে ছিলেন, তাদের সামনে আনার এখনই সময়। বেবী আপা একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক।”
এছাড়া লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনে করেন, সংরক্ষিত নারী আসনে এমন প্রার্থী প্রয়োজন, যিনি সংসদে গিয়ে নারীর অধিকার ও শিক্ষা নিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। তার মতে, রোকেয়া চৌধুরী বেবীর অভিজ্ঞতা তাকে এই ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখে।
জেলা মহিলা দলের নেতাকর্মীরাও তার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা বলছেন, সংগঠনের দুঃসময়ে বেবী আপা কর্মীদের পাশে ছিলেন এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাকে নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা রয়েছে। তাদের মতে, শিক্ষা অঙ্গনের একজন মানুষ হিসেবে তিনি সংসদে গেলে শিক্ষা খাতের বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে সক্ষম হবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি এবার সরকার গঠন করায় সংরক্ষিত নারী আসনে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেত্রীদের প্রাধান্য দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বিবেচনায় দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, শিক্ষা ক্ষেত্রে সক্রিয়তা এবং স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয়ে রোকেয়া চৌধুরী বেবীর অবস্থান বেশ শক্তিশালী।
তবে সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এখন দেখার বিষয়, তৃণমূল থেকে উঠে আসা সমর্থন ও প্রত্যাশা কতটা প্রভাব ফেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে।
শিক্ষাবার্তা /এ/ ১০ /০৪/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
