এইমাত্র পাওয়া

অনলাইনে এক দিন স্কুল, দোকানপাট রাত ৮টায় বন্ধের চিন্তা

নিউজ ডেস্ক।। 

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে এক দিন ক্লাস হবে অনলাইনে এবং দোকানপাট ও শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে আজ রাত সাড়ে ৮টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। এরপর জনপ্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করাহবে।

করোনাভাইরাসের সময় ২০২০ সালে দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও শপিংমল খোলার সময় ছিল সকাল ৯টা এবং বন্ধের সময় ছিল রাত ৮টা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও শপিংমল খোলা থাকছে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত। খোলা হচ্ছে সকাল ১০টা থেকে ১১টায়। এখন সরকার আগের সেই সময় (সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা) কার্যকর করতে পারে। চলমান জ্বালানি সংকট বাড়তে থাকলে বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মিসরসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে দোকান, রেস্তোরাঁ ও শপিংমল রাতে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সশরীরে ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় আপাতত সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব ওঠে, যার মধ্যে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সশরীরে ক্লাস থাকবে। শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্লাস নেবেন এবং জোড়-বিজোড় দিন ধরে অনলাইন ও সশরীরে ক্লাসের সময়সূচি নির্ধারণ করা হতে পারে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিপু গতকাল বুধবার সমকালকে বলেন, দোকানপাট, শপিংমল খোলা ও বন্ধের বিষয়ে বৃহস্পতিবার সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে বুধবার রাতে আমরা স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক করেছি। বৈঠকের সিদ্ধান্ত সরকারকে জানাব।

তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস ছুটি বিকেল ৫টায়। এ জন্য দোকানপাট ও শপিংমলগুলো কমপক্ষে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখতে হবে। কারণ, অনেক মানুষ অফিস শেষে মার্কেটে আসে।

এর আগে গত ১৫ মার্চ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতিসহ বিভিন্ন মার্কেটের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়বিষয়ক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার শর্তে ৪০ শতাংশ আলোকসজ্জা কম করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন সব দোকান ব্যবসায়ী।

পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন উপলক্ষে ৪০ দিনের ছুটির পর গত রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এর মধ্যে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটে পড়েছে অনেক দেশ, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন পাঠদান চালুর বিষয়টি সামনে এসেছে।

এর আগে করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার সময় বিকল্প হিসেবে অনলাইন ও টেলিভিশনে ক্লাস চালু করা হলেও বিভিন্ন গবেষণায় সেগুলোর কার্যকারিতা সীমিত বলে উঠে আসে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, শ্রেণিকক্ষের পূর্ণাঙ্গ বিকল্প নেই, তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও অস্বীকার করা যায় না।- সমকাল

 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.