নিজস্ব প্রতিবেদক।।
তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার পরও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রল-অকটেনের জন্য ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের অপেক্ষমাণ সারি শেষ হচ্ছে না। ডিপো থেকে ডিলারশিপধারী তেল ব্যবসায়ীদের বেশ হিসাব করে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে ঢাকার অনেক পাম্প আজ বুধবারও তেলশূন্য হয়ে গিয়েছে।
এদিকে বাজারে বাড়তি চাহিদার চাপ কমিয়ে ফিলিং স্টেশনে শৃঙ্খলা ফেরাতে গ্রাহকদের মাঝে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ‘ফুয়েল পাস’ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় ফুয়েলকার্ড বিতরণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঢাকায়ও যেন ফুয়েল কার্ড চালু করা যায় এমন উদ্যোগ নিচ্ছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
ইতিমধ্যেই fuelpass. gov. bd নামে একটি ওয়েবপেইজ খোলা হয়েছে। আজ এ নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফায় বৈঠক হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ফুয়েল পাস ইস্যু করার কাজটি অত সহজ নয়। আমরা চাচ্ছি যেভাবে হোক মাঠে যেন ইতিবাচক একটা পরিবর্তন আসে। আপাতত নির্দিষ্ট একটি এলাকায় নির্দিষ্ট যানবাহনের জন্য কীভাবে ফুয়েল পাস ইস্যু করা যায় সেটাই ভাবা হচ্ছে।’
মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, আগামী সপ্তাহেই ঢাকায় পরীক্ষামূলক ফুয়েল পাস চালু হবে। প্রথম দিকে মোটরসাইকেল চালকেরা এই পাস রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এই পাসের মাধ্যমে কে কতটা তেল উত্তোলন করলেন তার হিসাব পাওয়া যাবে।
পাম্পের চিত্র আগের মতোই
তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকার পর আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি কেনার চাপ কমবে বলে ধারণা করা হলেও ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তার প্রভাব পড়েনি। আজ ঢাকার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারের ভিড় দেখা গেছে।
রাজধানীর গুলশান তেজগাঁও লিংক রোডে আইডিয়াল ফিলিং স্টেশনে দুপুর ১২টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, বাইরে শত শত যানবাহনের ভিড়। তবে কখন তেল আসবে কখন বিতরণ করা হবে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। ক্রেতারা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। আর বাইরে নোটিশে বলা আছে—‘ডিজেল আছে, অকটেন নেই। তেল আসলে বিতরণ করা হবে।’
এই পাম্পে ছয়টি মেশিনের মধ্যে চারটি অকটেনের দুটি ডিজেলের। ঈদের আগে ১৩ হাজার লিটার অকটেন পাওয়া গেলেও গত ১০ দিন ধরে দৈনিক সাড়ে চার হাজার লিটার বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে জানান পাম্পের একজন ব্যবস্থাপক।
পাশে সিকদার ফিলিং স্টেশনে ডিজেল অকটেন দুই ধরনের তেলেরই মজুত দেখা গেছে। সেখানেও শত শত গাড়ি তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। তেজগাঁও এলাকার সিটি ফিলিং স্টেশন, সাউদার্ন ফিলিং স্টেশন, সততা ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণ করতে দেখা গেলেও ভিড়ের চিত্র ছিল একই।
এদিকে বিপিসির কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের বেশ কয়েকটি চালান আসতে বিলম্ব হয়ে গেছে। বিকল্প বাজার থেকে তেল কেনার বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেসব তেল এখনো বন্দরে এসে পৌঁছায়নি। ফলে সম্ভাব্য সংকট এড়াতে ডিপোগুলো থেকে হিসাব করে তেল ছাড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত বছর একই সময়ে যত তেল সরবরাহ করা হয়েছিল বর্তমানে তার চেয়ে বেশি তেল যেন বাজারে না যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তেলের অবৈধ মজুত উদ্ধার ও সাশ্রয়ী খরচের জন্যও পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
শিক্ষাবার্তা /এ/০১/০৪/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
