এইমাত্র পাওয়া

দেশে ভোটার ১০ কোটি ৯৬ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সারাদেশের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ তালিকা অনুযায়ী দেশে বর্তমান ভোটার ১০ কোটি ৯৬ লাখ ৬ হাজার ১৮৭ জন। এ ভোটার তালিকায় নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪১ জন। অপরদিকে দ্বৈত ভোটার ও মৃত্যুজনিতকারণে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ১৩ লাখ ৯২ হাজার ২৩৬ জনকে।
সোমবার বিকালে নির্বাচন ভবনে মিডিয়া সেন্টারে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। এই তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ১ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

তিনি বলেন, গত বছর ভোটার হালনাগাদে ৪ বছরের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি এবং ২০০২ সালের ১ জানুয়ারির আগে যাদের জন্ম তাদের এবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাকি দুই বছরের তথ্য আগাম সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। এদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
খসড়া তালিকা নিয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, তথ্য সংগ্রহের পর দেশে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৯৬ লাখ ৬ হাজার ১৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ২৯২ জন, নারী ৫ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার ৫৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৩৫৩ জন রয়েছেন। এই খসড়া তালিকা ইউনিয়ন পরিষদ, থানা/উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব স্থানে প্রদর্শন করা হবে। এতে কেউ যুক্ত হতে চাইলে বা কোনো সংশোধন করার থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
এরপর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে ১ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের সময় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তারা ছাড়াও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তালিকায় তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার :এবারই প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হয়েছে। ৩৫৩ জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এবার হালনাগাদে পুরুষের তুলনায় প্রায় ৪ লাখ নারী ভোটার কম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নতুন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ১৬৩, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৫।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৩ এপ্রিল ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়। গত বছরের ১৯ মে ৫২০টি উপজেলায় ভোটার নিবন্ধন শুরু করে শেষ হয় ২০ নভেম্বর। ভোটার নিবন্ধনের সময় ভোটারের ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ নেওয়া হয়। ভোটার তালিকা সংশোধন আইন সংসদে :এদিকে সোমবার সংসদের বৈঠকে ভোটার তালিকা সংশোধন আইন উত্থাপন করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি উত্থাপন করেন। এর আগে বিকাল সোয়া ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। ‘ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল, ২০২০’ উত্থাপনের পর পরীক্ষাপূর্বক রিপোর্ট দেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে প্রতি বছর ২ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে হালনাগাদ করার বিধান রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করে সারাদেশে সিডি আকারে প্রস্তুত করা অনেক কষ্টসাধ্য। এজন্য সময় বাড়ানো প্রয়োজন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২ মার্চ ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিলে ভোটার দিবসের সঙ্গে মিল রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় ‘২ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চ’ করা হয়েছে। বিলটি পাশ হলে হালনাগাদের সময় ৩০ দিন থেকে বেড়ে ৬০ দিন হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.