নিউজ ডেস্ক।।
লাতিন আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব মেক্সিকোর (ইউনাম) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীরা মেক্সিকোতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ভিজিট করেছেন। তাদের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ-মেক্সিকো সম্পর্ক নিয়ে আলোচনায় করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
শিক্ষার্থী দলকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, ‘আমি তোমাদের মাঝে ভবিষ্যতের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক বা জাতিসংঘ মহাসচিবকেও দেখতে পাচ্ছি। তোমরাই বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে, আর সেই নেতৃত্বের কেন্দ্রে থাকবে মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা।’
রাষ্ট্রদূত আনসারী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, ‘গত আগস্টে ছাত্রসমাজ গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদার দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। স্বৈরাচারকে হটানোর জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।’
পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নীতি মূলত সমতা ও সমমর্যাদার বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দাঁড়ানো। আমরা অগ্রাধিকার দিই শান্তি, বহুপাক্ষিকতা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকারকে।’
কাউন্সেলর আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো, জনমিতিক শক্তি, তৈরি পোশাক শিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং জলবায়ু সহনশীলতার অগ্রগতি তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীরা ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, বৈশ্বিক জলবায়ু কূটনীতি, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকটসহ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারে। বাংলাদেশ-মেক্সিকো সম্পর্কের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়- বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, জলবায়ু উদ্যোগ, মাইগ্রেশন গভর্ন্যান্স, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন এবং একাডেমিক ও যুব আদান-প্রদানের সুযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সেশনের শেষে প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং সংক্ষিপ্ত রিসেপশন অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূত আনসারী শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কিত বই ও ঐতিহ্যবাহী কাঁচশিল্পসহ স্মারক উপহার প্রদান করেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
