এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষকের মর্যাদা ও আমাদের দায়বদ্ধতা

।। বিন- ই- আমিন।।

 গুগলে সার্চ দিন সাথে সাথে উত্তর পেয়ে যাবেন। জ্ঞান ও মূল্যবোধ তৈরি করে সেই মহান পেশা “”শিক্ষকতা””। কিন্তু আমরা মহান পেশাটাকে বিতর্কিত করছি, নিজেরাও বিতর্কিত হচ্ছি। এজন্য দায়ী আমাদের লোভ ও নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত চিন্তাধারা।

আগে একজন শিক্ষক গর্বের সহিত নিজের পরিচয় দিতো ‘আমি শিক্ষক ‘। এখন সেটা বলতে লজ্জা পায়। এখন হয়েছে চাকরি।

যোগ্যতার বিচারে সবচেয়ে বেশি ডিগ্রি অর্জণ করা শিক্ষক হয়েও আর্থিক মর্যাদায় নিচের দিকে অবস্থান। সামাজিক মর্যাদায় উপরে থাকলেও অনেক সামাজিকতায় থাকতে হয় পিছিয়ে। একজন বেসরকারি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক যে টাকা বেতন পান তা দিয়ে স্বামী স্ত্রী মিলে কষ্ট হলেও মাস শেষে বাজারের টাকা থাকেনা। কিন্তু সন্তান এবং পিতামাতার সংসারে কিভাবে দিন-রাত শেষ করে ১৫ তারিখেই চিন্তা করে আগামীকাল সংসার কিভাবে চলবে। 

সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া শিক্ষক আন্দোলনের কিছু ঘটনা ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকের মিথ্যাচারকে কখনো সমর্থন করিনা। ঐসব শিক্ষক, সমাজে সকল শিক্ষককে ছোট করেছে। ধিক্কার জানাই তাদের। আন্দোলন হবে,দাবী নিয়ে কথা হবে। কিন্তু মিথ্যা কেনো? আমরাতো জেনেই এসেছি শিক্ষকতায় বেতন কম,সম্মান বেশি। 

সমাজে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে শিক্ষকের ভূমিকা ছিলো,আছে এবং থাকবে। এখনও মানুষ শিক্ষকের কথা সমাজের অন্য কারো থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়। আমাদের এ রীতি ধরে রাখতে হবে। হাজারো ভালো কাজের মধ্যে ২/১ টা অবচেতনের কাজ এতো বেশি হৈ হুল্লোড় না করলেও পারতো। শিক্ষকতো ফেরেস্তা নন। তাদের একটু ভুলকে এতোবড় করে দেখার কী আছে?  ২৫০০ টাকা কেজির ১ টি ইলিশ কিনলে হাতে থাকে ১০ হাজার টাকা। দিন থাকে ২৯। কিভাবে চলবে সামনের ২৯ দিন? ঐ শিক্ষকের কথায় বাস্তবতার মিল আছে। তবু সমর্থনযোগ্য নয়। তার পরের ঘটনা শিক্ষক হিসেবে সত্যিই লজ্জার।

 আমি আমার আইডিতে পোস্ট দিয়েছিলাম “যৌক্তিক / অযৌক্তিক আন্দোলন, বিঘ্ন ঘটায় সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রম”। পোস্টের দিন প্রাথমিকের কিছু বন্ধু, সহযোদ্ধা রিয়েক্ট করলেও পরের দিনই বাস্তবতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। সরকার ১১তম গ্রেড দেবে বলে তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। আমার চিন্তার প্রতিফলন ঘটে। কিন্তু কষ্ট পাওয়া ঐসব বন্ধুরা কেউ আমাকে বলেনি যে আমিই ঠিক ছিলাম। অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাজার হাজার মন্তব্যের কাছে আমার স্ট্যাটাস বিশাল আকাশে ছোট্ট তারার মতো।

যে দেশে শিক্ষকের আর্থিক মর্যাদা তলানিতে, সেদেশে শিক্ষার দুরবস্থা থাকা স্বাভাবিক। একজন মন্ত্রীর কাজের লোক ৪০০ কোটি টাকার মালিক। একজন মন্ত্রীর বিভিন্ন দেশে ৫০০ ফ্লাট থাকে। যেদেশে দূর্ণীতিই নীতি। যেদেশে  শিক্ষকের জমানো টাকা অবসরে গিয়েও ৪-৫ বছরে পায়না সেদেশে শিক্ষককে নিয়ে এতো হৈচৈ কেনো?

পরিশেষে প্রাথমিকের শিক্ষক বন্ধুদের বলতে চাই, শিক্ষকের পরিচয় তিনি শিক্ষক। যিনি তার শিক্ষার্থিদের শিক্ষা দান করান। সেটা প্রাথমিক,মাধ্যমিক বা উচ্চ শিক্ষা। আপনারা ৩য় শ্রেণির থাকলে আমরা প্রথম শ্রেণিতে থেকেও স্বস্তি পাবোনা। আপনাদের গ্রেডের উন্নতি হলে শিক্ষক হিসেবে আমিও গর্বিত। কিন্তু আপনাদের আন্দোলনের সময় ও দাবীগুলো সময়োপযোগী  ছিলো বলে আমার মনে হয়নি। প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড তখনও ১০ম হয়নি,যখন আপনাদের আন্দোলন চলছিলো। তাহলে আপনারাই নিজেকে প্রশ্ন করুন, সাধারন মানুষের হাজার হাজার মন্তব্য দেখুন। উত্তর পেয়ে যাবেন। 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading