এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান।।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে রয়েছে। এবার দলটি অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি পেশাজীবী শ্রেণির শিক্ষক সমাজকেও প্রার্থী তালিকায় অগ্রাধিকার দিতে পারে—এমন ইঙ্গিত মিলছে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের একাধিক সূত্র থেকে।
বিএনপির নীতি নির্ধারণী মহল মনে করছে, নতুন ভোটারদের মন জয় করতে হলে দলকে তরুণ নেতৃত্ব এবং পেশাজীবীদের ওপর নির্ভর করতে হবে। এ কারণেই এবার অন্তত শতাধিক আসনে নতুন মুখ ও তরুণ প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার চিন্তা করছে দলটি, যেখানে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হতে পারেন শিক্ষক।
দলের একটি প্রভাবশালী অংশের অভিমত—শিক্ষক সমাজ সবসময় সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য, শিক্ষিত ও প্রভাবশালী একটি শ্রেণি। তাই তাদের প্রার্থী করা হলে বিএনপির ভাবমূর্তি ও নির্বাচনি গ্রহণযোগ্যতা উভয়ই বাড়বে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী বাছাইয়ে জনমত জরিপ, ত্যাগ, সততা ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা—এই চারটি মানদণ্ডকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে যেসব প্রার্থী জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন, তাদের অনেকে এবারও দৌড়ে এগিয়ে আছেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে যারা নতুন করে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছেন, তাদেরও তালিকায় রাখা হচ্ছে।
বিএনপি ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতারা এরই মধ্যে নিজেদের নির্বাচনি এলাকায় তৎপরতা শুরু করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষকরা সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন মাঠপর্যায়ে।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—
অধ্যক্ষ মো: সেলিম ভূঁইয়া,চেয়ারম্যান, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোট; বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে উঠে এসেছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো: সেলিম ভূঁইয়া। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিক্ষক সমাজের অধিকার আদায়, নীতিগত সংস্কার এবং বিএনপির সংগঠন পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।
অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া শিক্ষক রাজনীতির পাশাপাশি মূলধারার রাজনীতিতেও সক্রিয়। তিনি বিএনপির অন্যতম পরিশ্রমী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে তৃণমূলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। দলে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করছেন।
কুমিল্লা-২ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও স্থানীয় পর্যায়ে সেলিম ভূঁইয়া বর্তমানে অন্যতম আলোচিত প্রার্থী। শিক্ষক সমাজের বৃহৎ অংশ ও তরুণ ভোটারদের কাছে তিনি জনপ্রিয় এক নাম। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তার অবদান তাকে সাধারণ মানুষের কাছেও পরিচিত করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি এবার ত্যাগী, সৎ ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেই মানদণ্ডে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তিনি নিজ এলাকায় ধারাবাহিকভাবে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন।
অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, “শিক্ষক সমাজ দেশের বিবেক। আমি ধানের শীষের মনোনয়ন পেলে জনগণের সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করব।”
দলের ভেতরে-বাইরে ইতিমধ্যে আলোচনা চলছে—সব কিছু ঠিক থাকলে কুমিল্লা-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হতে পারেন অধ্যক্ষ মো: সেলিম ভূঁইয়া।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-১ আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হতে চান শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের মহাসচিব ও বিএনপির পেশাজীবী সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ জাকির হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিক্ষক সমাজের অধিকার আদায় ও দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। দলের পেশাজীবী শাখায় তার অবদান এবং সংগঠন পরিচালনায় নেতৃত্বগুণের কারণে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে দলের ভেতরে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি ইতিমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন এবং দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন দলের প্রার্থী হিসেবে জনগণের সমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্যাগী ও কর্মঠ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে জাকির হোসেনের নাম বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হতে চান শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শিক্ষক সংগঠক এ কে এম আব্দুল আউয়াল। পেশায় শিক্ষক হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। দলের সংকটকালীন সময় থেকে রাজপথে ছিলেন সবসময়। মাঠপর্যায়ে দলীয় কর্মী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন তিনি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল-৪ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি দিনরাত দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ভোটারদের আস্থা অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার সমর্থকরা আশাবাদী, এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের টিকিট পেয়ে টাঙ্গাইল-৪ আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করবেন এ কে এম আব্দুল আউয়াল।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হতে চান অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। তিনি শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে মাঠপর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন এলাকায় একজন শিক্ষিত, সৎ ও জনপ্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত। তিনি রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে সাংগঠনিক কাজে সবসময় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি যদি পেশাজীবী ও ত্যাগী নেতাদের অগ্রাধিকার দেয়, তবে পিরোজপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের নাম আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও শিক্ষক সমাজ তার পক্ষে ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে সংগঠিত হচ্ছে।
দিনাজপুর-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন শিক্ষক ও রাজনীতিক অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলের নানা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। এলাকায় তিনি একজন শিক্ষিত, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, মনজুরুল ইসলাম শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, সামাজিকভাবেও একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি, যিনি মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দিনাজপুর-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। মনোনয়ন প্রত্যাশায় তিনি এখন মাঠপর্যায়ে দিনরাত কাজ করছেন—জনসংযোগ, গণসংলাপ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় তার নামটি সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বলে জানা গেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৩ আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হতে চান শিক্ষক সংগঠক ও রাজনীতিক আক্তারুল আলম মাস্টার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকে দলের হয়ে কাজ করছেন। মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয় এই শিক্ষক নেতা বর্তমানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন এবং ভোটারদের মন জয় করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তার অবদান ও রাজনৈতিক ত্যাগের কারণে দলীয় মহলে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অনেকেই মনে করেন, আক্তারুল আলম মাস্টার মনোনয়ন পেলে গাজীপুর-৩ আসনে দলটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
এরা সবাই দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় এবং মাঠের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা স্থানীয় পর্যায়ে গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছেন।
দলীয় প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমান সম্প্রতি লন্ডন থেকে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন—আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে কোনো আপস করা হবে না। যারা ত্যাগী, সৎ ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য, তারাই পাবেন ধানের শীষের টিকিট। এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের মতো পেশাজীবীরা বাড়তি গুরুত্ব পেতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তবে তরুণ ও নতুন মুখদের প্রাধান্য দেওয়ায় বিএনপির ভেতরে কিছুটা অসন্তোষ ও দ্বন্দ্বও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ ও সাবেক এমপি প্রার্থীরা এতে অসন্তুষ্ট হতে পারেন। অন্যদিকে, শিক্ষক প্রার্থীরা জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকায় দলটি তাদের নিয়ে ঝুঁকি নিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিক্ষক সমাজের প্রতি বিএনপির এই ইতিবাচক দৃষ্টি কৌশলগতভাবে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। কারণ শিক্ষকরা সমাজে মতামত নির্মাণের শক্তিশালী মাধ্যম—তাদের মাঠে নামানো হলে ভোটারদের মানসিকতা প্রভাবিত করার সুযোগও বাড়বে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে কিছু শিক্ষক মুখ দেখা যেতে পারে—এ সম্ভাবনা এখন বেশ উজ্জ্বল। বিএনপির জন্য এটি একদিকে যেমন নতুন নেতৃত্ব গঠনের সুযোগ, অন্যদিকে শিক্ষিত সমাজের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনারও কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
