এইমাত্র পাওয়া

ডাকসুতে অনলাইনে অভিনব প্রচার

শিক্ষাবার্তা ডেস্ক।।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে জমজমাট প্রচারণা চলছে। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন। অনলাইন তথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা চালাচ্ছে প্যানেলগুলো। নিজস্ব পেজ, গ্রুপ ইত্যাদির মাধ্যমে মিমস, ভিডিও, ফটোকার্ড, ইশতেহার কিংবা শ্রোতাগ্রাহী আধেয় প্রচার করা হচ্ছে। অভিনব প্রচারগুলো ভোটারদের নজর কাড়ছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো লিফলেট বা পোস্টার লাগানো যাবে না। তবে বিলি করা যাবে। এ সুযোগে কেউ ডলার কিংবা টাকার আদলে পোস্টার বানাচ্ছেন। কেউ মিমস আকারে ব্যালটের প্রচার করছেন। এগুলো শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে গ্রহণ করছেন। প্রায় প্রতিটি প্যানেল ফেসবুকে পেজ খুলে যাবতীয় প্রচার কার্যক্রম তুলে ধরছে। প্রার্থীরা নিজের প্রোফাইলেও তুলে ধরছেন।

সাড়া পাচ্ছে অভিনব প্রচার অভিনব প্রচারণা ভোটারদের মনোযোগ কাড়ছে। বিশেষ করে ব্যালট নম্বর ৭ যারা পেয়েছেন, তারা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জার্সি এবং ভিডিওর মাধ্যমে প্রচার করছেন।
ডাকসুর কেন্দ্রীয় সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন আইন বিভাগের প্রার্থী উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া। তিনি ৩২ নম্বর ব্যালট পেয়েছেন। ফেসবুকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ির সামনের ফটোকার্ড দিয়ে প্রচারণা চালান। সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন শাহীন বিশ্বাস, তাঁর ব্যালট নম্বর ১৯৩। তিনি প্রচার করছেন জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশ ১৯৩টি।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদে অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রার্থী আতিকুল্লাহ যোবায়েরের একটি ভিডিও সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। তিনি ব্যারিস্টার সুমনের ‘ফুটবল খেলার জন্য গরু বেচে দেবেন’ নামে একটি ভিডিও নকল করে নিজের প্রোফাইলে প্রকাশ করেন। এটি এক লাখ ৬৬ হাজার বার দেখা হয়েছে। তিনি সমকালকে বলেন, ‘যখন সবাই গতানুগতিক প্রচার করছে, তখন আমি চিন্তা করি অভিনব কিছু করা যায় কিনা। আমার মিমস ভিডিওটি সবাই ভালোভাবে নিয়েছে। যখন আমি প্রচারণা চালাতে কক্ষে কক্ষে যাই, সবাই বলে, ভাই, আপনার মিমস ভিডিওটি দেখেছি। আপনার হিউমার ভালো।’

স্যার এ এফ রহমান হলে ভিপি প্রার্থী হয়েছেন দর্শন বিভাগের নাইমুর রহমান। তিনি ডলারের আদলে লিফলেট তৈরি করেছেন। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা তৈরি করেছে। সমকালকে তিনি বলেন, ‘গতানুগতিক লিফলেটে সবাই আসলে বিরক্ত। তাই আমার মনে হয়েছে ভিন্ন কিছু করা যায় কিনা। সাদা-কালো পোস্টার হিসেবে ডলারের আদলে লিফলেট মনে হয়েছে আকর্ষণীয় হবে, তাই এটি নিয়েছি। সবাই এটিকে ভালোভাবে নিয়েছে। অনেকে চেয়ে নিচ্ছে, ভাই, আমাকে একটি ডলার দিয়েন।’

পেজ খুলে কাদা ছোড়াছুড়ি
গত ২০ আগস্ট ছাত্রদলের প্যানেল ঘোষণার পর প্রার্থীদের নামে ফেসবুকে চরিত্রহনন, নেতিবাচক আধেয় প্রচার করা হয়। এই পেজের নাম ‘ডিপার্টমেন্ট অব এক্সপোজ: ইউনিভার্সিটি অব গণতদন্ত’। এখানে কোন প্রার্থী কীভাবে আগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ইত্যাদি অভিযোগ আনা হয়। পেজটি থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমার স্বতন্ত্র প্যানেল, বামপন্থি জোট, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতাদের নামেও নেতিবাচক প্রচার চালানো হয়।

অন্যদিকে ‘ডাকসু মিমস পোস্টিং’ নামে আরেকটি পেজ থেকে ছাত্রশিবিরের প্রার্থীদের নিয়ে ইতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়। ছাত্রদলের অভিযোগ, পেজটি ছাত্রশিবির পরিচালনা করে।

জানতে চাইলে সহসাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দীন খান বলেন, ‘এই পেজগুলো পরিচালনার সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কেউ জড়িত না। অনলাইনে আমাদের নামে নেতিবাচক প্রচারণা হচ্ছে। বিশেষত নারী প্রার্থীরা বেশি নেতিবাচক প্রচারণার শিকার।’

অন্যদিকে গত ২৩ আগস্ট ‘ডাকসু ফ্যাক্টচেক’ নামে একটি পেজ খোলা হয়। সেখানে ১৯৯০ সালের পর ছাত্রদল ডাকসু বন্ধ করে দিয়েছিল দাবিটির ফ্যাক্টচেক করা হয়। এখানে বলা হয়, ছাত্রদলের বাধায় ডাকসু হয়নি, দাবিটি ভুল। পেজটির পোস্ট ছাত্রদলের নেতাদের প্রচার করতে দেখা যায়।

তবে এটি ছাত্রদল পরিচালনা করে না জানিয়ে প্যানেলের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী তানভীর হাদী আল মায়েদ বলেন, ‘পেজের ব্যাপারে আমরা জানি না। তবে ডিপার্টমেন্ট অব এক্সপোজ, ডাকসু মিম পোস্টিং পেজগুলো যারা গোপন রাজনীতি পরিচালনা করে, তাদের সঙ্গে মিলে যায়। তারা ওই গোপন দল বাদে সবার নামে নেতিবাচক প্রচারণা চালায়।’

তিনি বলেন, এই প্রচারণাগুলো সবার জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। মাঠের রাজনীতি করতে গিয়ে মোকাবিলা করতে পারছি না। তবে শিক্ষার্থীরা আশা করি, এগুলো বুঝবে। তারা বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত নেবে।
ছাত্রদলের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে আমরা সেই প্রচারণার বিরুদ্ধে নোংরামি করতে চাই না। আমাদের সেই সময়ও নেই। অনলাইনে অনবরত মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন চালানো হচ্ছে। প্রশাসন জেনেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক জসীম উদ্দিন বলেন, ‘অনলাইনে নেতিবাচক প্রচারণার অভিযোগ পেয়ে আমরা দুটি পেজ বন্ধের জন্য বিটিআরসিকে (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) চিঠি দিয়েছি। আচরণবিধি সংক্রান্ত টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। আমরা অভিযোগ পেলে সাধ্যানুযায়ী খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

শিক্ষাবার্তা /এ/ ৩১/০৮/২০২৫

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.