।। এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান ।।
শিক্ষার্থীর শৃঙ্খলা বজায় রাখা শুধু তার ব্যক্তিগত বিকাশের জন্য নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় প্রায়ই দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলাভঙ্গ করছে, শিক্ষক-অভিভাবক কিংবা সমাজের প্রত্যাশিত আচরণ থেকে সরে যাচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই শৃঙ্খলাভঙ্গের শিকড় আসলে কোথায়? দায় কি পরিবারের, নাকি বিদ্যালয়ের?
পরিবার হলো শিশুর প্রথম বিদ্যালয়। জন্মের পর থেকেই বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা শিশুর নৈতিকতা, মূল্যবোধ, ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা গড়ে তোলেন। স্নেহ, শাসন, দায়িত্ববোধ এবং পারিবারিক পরিবেশ শিশুর চরিত্র গঠনে প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করে। কিন্তু যখন পরিবারে অবহেলা, সহিংসতা, বা সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব থাকে, তখন শিশু সহজেই বিপথে যেতে পারে।
অন্যদিকে বিদ্যালয় হলো শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় শিক্ষালয়। এখানে শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, বরং শৃঙ্খলা, নিয়মকানুন, সামাজিকতা, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধ শেখানো হয়। একজন শিক্ষক যেমন আদর্শ হতে পারেন, তেমনি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থীও সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে না। বিদ্যালয়ের পরিবেশ, সহপাঠীর প্রভাব এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা শিক্ষার্থীর আচরণে গভীর ছাপ ফেলে।
তবে এককভাবে পরিবার বা বিদ্যালয়কে দায়ী করা যায় না। আসল কথা হলো, শিক্ষার্থীর শৃঙ্খলা রক্ষায় উভয়ের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। পরিবার যদি ভিত্তি হয়, তবে বিদ্যালয় হলো সেই ভিত্তিকে দৃঢ় করার জায়গা। তাই শিক্ষার্থীর শৃঙ্খলাভঙ্গের শিকড় খুঁজতে হলে পরিবার ও বিদ্যালয়—দুটিকেই সমানভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে।
পরিবার হলো শিশুর প্রথম শিক্ষালয়, যেখানে তার মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও জীবনাচরণের ভিত্তি গড়ে ওঠে। বাবা-মায়ের আচরণ, শিক্ষা ও পারিবারিক পরিবেশ শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আধুনিক যুগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাবা-মা ও শিক্ষকদের প্রতি অবাধ্যতা এবং আদব-কায়দার অভাব লক্ষ্য করা যায়। এর পেছনে পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য, কারণ শিশু তার জীবনের বেশিরভাগ সময় পরিবারের সাথে কাটায়।
বাবা-মায়ের মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা শিশুর চরিত্র গঠনে প্রভাব ফেলে। যদি অভিভাবকরা সততা, শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধের উদাহরণ হয়ে থাকেন, তবে শিশু তা অনুকরণ করে। কিন্তু যদি বাবা-মা নিজেরাই অশোভন আচরণ প্রদর্শন করেন, তবে সন্তানের মধ্যেও তা প্রতিফলিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি অভিভাবকরা একে অপরের প্রতি অসম্মান দেখান বা সহিংসতার আশ্রয় নেন, তবে শিশু এই আচরণকে স্বাভাবিক মনে করে। ফলে তারা বাবা-মা বা শিক্ষকদের কথা অমান্য করে এবং সমাজে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ প্রদর্শন করে।
পারিবারিক পরিবেশও শিশুর আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে। ভালোবাসা, শাসন ও মনোযোগের ভারসাম্য শিশুকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। কিন্তু অবহেলা, অতিরিক্ত শাসন বা সহিংসতার পরিবেশ শিশুর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা প্রায়ই বিদ্রোহী মনোভাব গড়ে তোলে। আধুনিক যুগে অভিভাবকদের ব্যস্ততা এই সমস্যাকে আরও জটিল করে। কর্মজীবী বাবা-মা সন্তানদের প্রতি পর্যাপ্ত সময় বা মনোযোগ দিতে পারেন না, ফলে শিশুরা মানসিকভাবে অবহেলিত বোধ করে। এই অবহেলা তাদের আচরণে ক্রোধ, হতাশা বা অবাধ্যতা হিসেবে প্রকাশ পায়।
তবে, শুধু পরিবারই নয়, সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থাও শিশুর আচরণ গঠনে ভূমিকা রাখে। তবুও পরিবারের প্রভাব সবচেয়ে বেশি, কারণ এটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার কেন্দ্র। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সাথে মানসম্পন্ন সময় কাটানো, তাদের মূল্যবোধ শেখানো এবং ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে শিশুরা শ্রদ্ধাশীল, দায়িত্বশীল এবং নৈতিকভাবে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
আধুনিক সমাজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অবাধ্যতা, বেয়াদবি এবং নৈতিক অবক্ষয় একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা পিতামাতা ও শিক্ষকদের কথা অমান্য করে, বিদ্যালয়ের নিয়মকানুন অবজ্ঞা করে এবং অনেকে নেশাজাতীয় দ্রব্যে আসক্ত হয়ে পড়ে। এই সমস্যার মূলে প্রধানত পারিবারিক পরিবেশ এবং পিতামাতার আচরণকে দায়ী করা হয়, কারণ বাড়িতে শেখা অভ্যাস স্কুলে প্রতিফলিত হয়। তবে প্রশ্ন উঠে, এই নষ্টতার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কতটুকু? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু জ্ঞানদানের স্থান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, নৈতিকতা শিক্ষা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বও বহন করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অকার্যকর পদ্ধতি বা অবহেলা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। বিদ্যালয় হলো শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণের প্রথম স্থান, যেখানে তারা নিয়মানুবর্তিতা, সম্মান এবং দায়িত্ববোধ শেখে। শিক্ষকরা রোল মডেল হিসেবে কাজ করেন, যা শিক্ষার্থীদের আচরণকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, পজিটিভ বিহেভিয়র সাপোর্ট পদ্ধতি গ্রহণ করে স্কুলগুলো মিসবিহেভিয়র কমাতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করতে পারে। রেস্টোরেটিভ প্র্যাকটিসেসের মাধ্যমে স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহমর্মিতা এবং দায়িত্বশীলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা অবাধ্যতা এবং নেশার মতো সমস্যা প্রতিরোধ করে। যদি বিদ্যালয়ের পরিবেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং উৎসাহজনক হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা বাড়ির খারাপ প্রভাব থেকেও মুক্তি পেতে পারে।
কিন্তু নেতিবাচক দিকও আছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুরনো এবং কঠোর শাসন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ায় এবং বিদ্রোহী করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, সাসপেনশন বা হার্শ ডিসিপ্লিন মিসবিহেভিয়র কমায় না, বরং শিক্ষার্থীদের সামাজিক-মানসিক বিকাশে ক্ষতি করে। যদি পাঠদান পদ্ধতি আকর্ষণীয় না হয় বা শিক্ষকরা অপ্রশিক্ষিত থাকেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়কে অপছন্দ করে এবং নিয়ম অমান্য করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, অনেক স্কুলে অপর্যাপ্ত সুবিধা, অতিরিক্ত ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত এবং নৈতিক শিক্ষার অভাব দেখা যায়, যা শিক্ষার্থীদের নষ্টতায় অবদান রাখে। সরকারের নির্দেশ সত্ত্বেও, মানসিক চাপের বিষয়ে আলোচনা না করায় শিক্ষকরা অসহায় বোধ করেন। পিতামাতার খারাপ আচরণ মূল কারণ হলেও, স্কুল যদি কাউন্সেলিং বা অভিভাবক-শিক্ষক মিটিং না করে, তাহলে সমস্যা আরও গভীর হয়। স্কুল লিডারদের ডিসিপ্লিন সিস্টেমে ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা পলিসি নির্ধারণ করে।
আধুনিক যুগে শিক্ষার্থীরা টিভি, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অশোভন কনটেন্টের সংস্পর্শে এসে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে সমাজের অনৈতিকতা এবং দুর্নীতির ছাপ তাদের মানসিকতায় গভীর প্রভাব ফেলে, যা তাদের বেয়াদব এবং অবাধ্য করে তোলে। পারিপার্শ্বিক পরিবেশের নেতিবাচক উপাদানগুলো এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। সামাজিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাবগুলো কীভাবে এই পরিবর্তন ঘটায়, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এগুলো শিক্ষার্থীদের আচরণকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে, যেমন অ্যাগ্রেসন, বুলিং এবং সামাজিক দক্ষতার অভাব সৃষ্টি করে।
প্রযুক্তিগত প্রভাব প্রধানত টিভি, ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে উদ্ভূত। শিক্ষার্থীরা অশোভন কনটেন্ট যেমন ভায়োলেন্ট ভিডিও বা অ্যাডাল্ট ম্যাটেরিয়াল দেখে অ্যাগ্রেসিভ হয়ে ওঠে। গবেষণায় দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কিশোরদের মধ্যে অ্যাঙ্গজাইটি এবং লো সেল্ফ-এস্টিম বাড়ায়, যা তাদের অবাধ্যতা এবং বেয়াদবিতায় পরিণত হয়। উদাহরণস্বরূপ, সোশ্যাল মিডিয়ায় বুলিং বা হ্যারাসমেন্টের সংস্পর্শে এলে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই অ্যাগ্রেসিভ আচরণ করে, যা স্কুলে অশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার সামাজিক দক্ষতা হ্রাস করে, যার ফলে তারা বাস্তব জীবনে সম্মানহীন হয়ে ওঠে। টিভিতে দেখা অনৈতিক কনটেন্ট শিশুদের মানসিকতায় ভায়োলেন্সকে স্বাভাবিক করে তোলে, যা তাদের খারাপের দিকে ধাবিত করে। প্রযুক্তির অ্যাডিকশন মানসিক চাপ বাড়ায়, যা অবাধ্যতায় পরিণত হয়।
সামাজিক প্রভাবও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সমাজে দুর্নীতি, অনৈতিকতা এবং নেতিবাচক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মানসিকতায় ছাপ ফেলে। পারিবারিক বা সমাজের খারাপ উদাহরণ দেখে তারা বেয়াদব হয়ে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়া এই সামাজিক প্রভাবকে প্রসারিত করে, যেমন সেলিব্রিটিদের অনৈতিক আচরণ অনুকরণ করে শিক্ষার্থীরা অশৃঙ্খল হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম সামাজিক-মানসিক বিকাশে ক্ষতি করে, যা বুলিং এবং অ্যাগ্রেসনে পরিণত হয়। সমাজের দুর্নীতির ছাপ শিশুদের মধ্যে ইনট্রোভার্শন বা অ্যাগ্রেসন সৃষ্টি করে। পারিপার্শ্বিক পরিবেশে নেতিবাচক জিনিস যেমন ভায়োলেন্স বা দুর্নীতি দেখে তারা সেই পথ অনুসরণ করে, যা প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও সহজ হয়।
এই প্রভাবগুলো শিক্ষার্থীদের বেয়াদবিতায় পরিণত করে কারণ এগুলো তাদের নৈতিকতা এবং দায়িত্ববোধ কমায়। ফলে তারা অভিভাবক বা শিক্ষকদের অমান্য করে, স্কুলে অশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। সমাধান হিসেবে অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ, নৈতিক শিক্ষা এবং প্রযুক্তির সচেতন ব্যবহার জরুরি। এতে করে শিক্ষার্থীরা সুস্থ মানসিকতায় বেড়ে উঠবে এবং সমাজ উন্নত হবে।
শিক্ষার্থীদের বিপদগামী হওয়ার পেছনে পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উভয়েরই ভূমিকা রয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিবারের দায় বেশি। শিশুর প্রাথমিক সামাজিকীকরণ পরিবারে হয়, যেখানে তারা নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ শেখে। পিতামাতার আচরণ, শাসনের অভাব বা অসচেতনতা শিশুদের বিপথে নিয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, পিতামাতার অনৈতিক আচরণ বা অবহেলা শিশুদের মধ্যে বেয়াদবি ও অবাধ্যতা সৃষ্টি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পারিবারিক পরিবেশ শিশুদের আচরণের উপর ৬০-৭০% প্রভাব ফেলে।
পরিবারে নৈতিক শিক্ষার অভাব শিশুদের অশোভন কনটেন্ট বা নেতিবাচক সঙ্গের দিকে ঝুঁকায়। অভিভাবকরা যদি সন্তানের ইন্টারনেট ব্যবহার বা সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ না করেন, তবে শিশুরা সহজেই বিপথে যায়। এছাড়া, পিতামাতার ব্যস্ততা বা দ্বন্দ্ব শিশুদের মানসিক চাপ বাড়ায়, যা তাদের বিদ্রোহী করে।
অন্যদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও কিছু দায় আছে। স্কুলে কঠোর বা অকার্যকর শাসন, অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক বা নৈতিক শিক্ষার অভাব শিক্ষার্থীদের অশৃঙ্খল করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্কুলের প্রভাব পরিবারের তুলনায় কম, প্রায় ৩০-৪০%। স্কুলে শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ ও কাউন্সেলিং থাকলে শিক্ষার্থীদের আচরণ উন্নত হয়।
শিক্ষার্থীদের বিপদগামী হওয়া আধুনিক সমাজের একটি গুরুতর সমস্যা। এর পেছনে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিবেশ ও প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীরা সঠিক পথে ফিরে আসে এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে উঠে।
প্রথমত, পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পিতামাতার উচিত সন্তানদের সঙ্গে মানসম্পন্ন সময় কাটানো, নৈতিক শিক্ষা দেওয়া এবং তাদের ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা। গবেষণায় দেখা গেছে, অভিভাবকীয় তত্ত্বাবধান শিশুদের বিপথে যাওয়ার প্রবণতা ৫০% কমায়। পিতামাতার ইতিবাচক রোল মডেল হওয়া এবং সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচিত আধুনিক ও পজিটিভ শাসন পদ্ধতি গ্রহণ করা। কঠোর শাস্তির পরিবর্তে রেস্টোরেটিভ প্র্যাকটিসেস, যেমন কাউন্সেলিং এবং পজিটিভ বিহেভিয়র সাপোর্ট, শিক্ষার্থীদের আচরণ উন্নত করে। নৈতিক শিক্ষা এবং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বাড়ায়। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং অভিভাবক-শিক্ষক মিটিং এই প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে।
তৃতীয়ত, সমাজ ও সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশোভন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি এবং সচেতনতা ক্যাম্পেইন প্রয়োজন। সমাজে দুর্নীতি কমাতে এবং ইতিবাচক পরিবেশ গড়তে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাভঙ্গের পেছনে ঘর এবং স্কুল উভয়েরই ভূমিকা রয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিবারের প্রভাব বেশি। ঘরে পিতামাতার অবহেলা, নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং নেতিবাচক আচরণ শিশুদের অশৃঙ্খল করে। গবেষণা বলে, পারিবারিক পরিবেশ শিশুর আচরণের ৬০-৭০% প্রভাবিত করে। ইন্টারনেট বা সামাজিক মাধ্যমের অশোভন কনটেন্টে অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণের অভাব শিশুদের বিপথে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, স্কুলের কঠোর শাসন, অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক বা শৃঙ্খলাহীন পরিবেশ সমস্যাকে তীব্র করে। তবে স্কুলের প্রভাব প্রায় সমাধানে পরিবারকে সচেতন হতে হবে, নৈতিক শিক্ষা ও তত্ত্বাবধান জোরদার করতে হবে। স্কুলে পজিটিভ শাসন, কাউন্সেলিং এবং নৈতিক শিক্ষার প্রচলন জরুরি। পরিবার ও স্কুলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব, যা সমাজের সুনাগরিক গঠনে সহায়ক হবে।
লেখক: সম্পাদক, শিক্ষাবার্তা।
শিক্ষাবার্তা /এ/২৬/০৮/২০২৫
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
