।। এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান ।।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যারা কেবল দলের ভেতরকার নেতৃত্বেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। কুমিল্লা-১ (মেঘনা-হোমনা) আসনের মানুষের কাছে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া তেমনই এক নাম। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষক সমাজে নেতৃত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, মানুষের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। বিএনপির রাজনীতির ভেতরে এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝেও তিনি সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।
অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়ার রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয় শিক্ষক সংগঠনের মাধ্যমে। শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট ও অন্যান্য সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম থেকে তিনি শুধু শিক্ষক সমাজের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করেননি, বরং মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলেছেন। রাজনীতির মূল শক্তি হলো মানুষের সাথে নিবিড় সম্পর্ক—এ জায়গায় তিনি সফল।
তার হাত ধরে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বা উন্নত রূপ পেয়েছে। মেঘনা-হোমনার মানুষ আজও স্মরণ করে কীভাবে তার প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদরাসাগুলো আধুনিকীকরণ হয়েছে। এজন্যই তাকে মানুষ উন্নয়নের রূপকার মনে করে।
সেলিম ভুঁইয়ার জনপ্রিয়তা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার সহজ-সরল জীবনযাপন, মানুষকে সম্মান করার মানসিকতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতৃত্ব তাকে আলাদা করেছে। এ অঞ্চলের কৃষক, দিনমজুর, ব্যবসায়ী কিংবা তরুণ প্রজন্ম—সবার কাছে তিনি এক ধরনের অভিভাবক।
মানুষের মুখে প্রায়ই শোনা যায়—
“সেলিম স্যার শুধু নেতা নন, তিনি আমাদের আশ্রয়স্থল।”
এমন মন্তব্য প্রমাণ করে, তিনি জনগণের কাছে কেবল রাজনৈতিক প্রতিনিধি নন, বরং মানবিক নেতৃত্বের প্রতীক।
সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল মেঘনাকে দাউদকান্দি এবং হোমনাকে তিতাসের সাথে যুক্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। স্থানীয় জনগণ এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং নির্বাচনী কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান প্রমাণ করে, মেঘনা-হোমনার মানুষ তাদের ভৌগোলিক পরিচয়কে রাজনৈতিকভাবে ভাঙতে দেবে না।
এই আন্দোলনের কেন্দ্রে থেকেছেন অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া। জনগণের আত্মপরিচয় রক্ষার সংগ্রামে তার নেতৃত্ব জনগণের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
কুমিল্লা-১ (মেঘনা-হোমনা) আসনটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩.৪০ লাখ (২০২৪ সালের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী)। এর মধ্যে প্রায় ৫২% পুরুষ এবং ৪৮% নারী ভোটার। তৃণমূল ভোটারদের বড় অংশ কৃষক, দিনমজুর, প্রবাসী পরিবার ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
ভোটের গড় উপস্থিতি সাধারণত ৭৫-৮০%। অর্থাৎ প্রায় আড়াই লাখ ভোটই ফল নির্ধারণ করে। গত কয়েকটি নির্বাচনের ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—
বিএনপি এখানে সবসময় শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।
আওয়ামী লীগ প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট থাকলেও গ্রামীণ ও তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির শিকড় তুলনামূলক গভীর।
প্রবাসী পরিবারগুলোর বড় অংশ বিএনপিমুখী, কারণ তারা সেলিম ভুঁইয়ার মতো স্থানীয় নেতৃত্বকে বেশি বিশ্বাস করে।
যদি ধরা হয়, বিএনপির গড় ভোটব্যাংক এখানে ৫০-৫৫%, আওয়ামী লীগের ৩৫-৩৮%, এবং অন্যান্য দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৭-১০%, তবে সঠিক প্রার্থী মনোনয়নই বিএনপির বিজয়ের মূল শর্ত।
এখানে দলীয় নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন—সেলিম ভুঁইয়া ছাড়া এ আসনে বিএনপির বিজয়ের অন্য কোনো বিকল্প নেই। কারণ, তার প্রতি আস্থার পরিমাণ ভোটের অঙ্কেই প্রতিফলিত। মাঠপর্যায়ের জরিপে দেখা যায়, বিএনপি যদি সেলিম ভুঁইয়াকে প্রার্থী করে, তবে তিনি ন্যূনতম ২.৬৫-২.৭০ লাখ ভোট নিশ্চিত করতে পারবেন। অন্যদিকে সব দলগুলো মিলে সর্বোচ্চ ৫০/৬০ হাজার ভোট পেতে পারে। অর্থাৎ প্রায় দুই লক্ষ ভোটের ব্যবধানের এক স্বস্তিদায়ক জয়ের সম্ভাবনা থাকে।
কুমিল্লা অঞ্চলে বিএনপির রাজনীতি নানা সময়ে দ্বন্দ্বে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মেঘনা-হোমনা আসনে অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কমিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা তাকে গ্রহণ করেছেন একজন পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা হিসেবে।
বিএনপি যখন জাতীয় পর্যায়ে নতুন আন্দোলন ও পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে, তখন কুমিল্লা-১ আসনে সেলিম ভুঁইয়ার মতো নেতৃত্ব দলকে আরও শক্ত ভিত্তি দিতে পারে।
আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মেঘনা-হোমনার মানুষ চায় এমন একজন প্রতিনিধি, যিনি কেবল নির্বাচনী সময় নয়, বরং প্রতিদিনের সমস্যায় পাশে থাকবেন। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা প্রসার, কৃষকদের ন্যায্য দাম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান—এসব ক্ষেত্রে মানুষ সেলিম ভুঁইয়ার কাছ থেকে সমাধান আশা করে।
তাদের বিশ্বাস, তিনি আবারও সুযোগ পেলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ধারায় নতুন অধ্যায় সূচনা করবেন।
রাজনীতি শুধু ক্ষমতার খেলা নয়, বরং মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জনের সংগ্রাম। অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া সেই সংগ্রামে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তাকে মেঘনা-হোমনার মানুষের কাছে আস্থার বাতিঘর করে তুলেছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জন্য কুমিল্লা-১ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই আসনে সেলিম ভুঁইয়ার নেতৃত্ব শুধু দলীয় বিজয়ের সম্ভাবনাই জাগাচ্ছে না, বরং সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ দিতে যাচ্ছে। তৃণমূল মানুষের স্বপ্ন, আস্থা এবং গণিতের হিসাব একসাথে যদি মিলে যায়, তবে কুমিল্লা-১ আসনে বিএনপির বিজয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
লেখক: যুগ্ন- মহাসচিব
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি।
শিক্ষাবার্তা /এ/২৫/০৮/২০২৫
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
