এইমাত্র পাওয়া

নভেম্বরের মাঝামাঝি বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনা

নিউজ ডেস্ক।।

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনের আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ক্যালেন্ডার সম্পন্ন করতে, বিশেষ করে বার্ষিক পরীক্ষা নির্বিঘ্নে আয়োজন করতে চলতি বছর নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্ব থাকা অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) মো. মজিবর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, ‘আগে দেখা গেছে, ডিসেম্বর মাসে সহিংসতার কারণে বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে পরীক্ষার সময়সূচি দীর্ঘদিন পিছিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন মানসিক চাপে থাকে, তেমনি অভিভাবকদেরও দুশ্চিন্তা বাড়ে। তাই এবার পরীক্ষাগুলো ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হবে।’

জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ইবতেদায়ি ও দাখিল স্তরেও বার্ষিক পরীক্ষা ২০ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হবে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১ থেকে ১০ ডিসেম্বর।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের যেন অযাচিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কোনো ক্ষতি না হয়। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শেষ করা হলে শিক্ষার্থীরা সুরক্ষিত থাকবে। তাদের একাডেমিক ক্যালেন্ডারও পূর্ণতা পাবে।’

এ বিষয়ে রাজধানীর একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, ‘নভেম্বর মাসে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করা কিছুটা চ্যালেঞ্জের হলেও এটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। আমরা জানি, নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একদিকে নিরাপত্তার ঝুঁকি, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ- দুটোই এড়ানো সম্ভব হবে যদি নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করা যায়।’

ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলে, ‘পরীক্ষা আগে হলে পড়াশোনার চাপ বাড়বে। তবে নির্বাচন চলাকালে যদি সহিংসতা হয়, তার চেয়ে এখনই পরীক্ষা শেষ করাটা ভালো। অন্তত ভবিষ্যৎ ঝুঁকি থাকবে না।’

মতিঝিল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানায়, ‘আমাদের তো সিলেবাস পুরো শেষ হয়নি। শিক্ষকরা দ্রুত পড়াচ্ছেন। পরীক্ষা শেষ করাটা ভালো।’

অভিভাবকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। মালিবাগ এলাকার রুবিনা হক বলেন, ‘আগের বছরগুলোতে দেখেছি, নির্বাচন এলেই স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যায়, পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে যায়। এতে বাচ্চারা অস্থির হয়ে পড়ে, পড়াশোনার আগ্রহও কমে যায়। এবার যদি স্বাভাবিক সময়ে পরীক্ষা শেষ হয়, তাহলে নিশ্চিন্তে থাকতে পারব।’

তবে অনেক অভিভাবক সংশয় প্রকাশ করছেন। পুরান ঢাকার অভিভাবক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী। নভেম্বরেই বার্ষিক পরীক্ষা হলে ওর জন্য চাপ হয়ে যাবে। পড়া শেষ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।’

শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে- রাজনৈতিক কারণে শিক্ষাপঞ্জি ব্যাহত হয়। নির্বাচনকেন্দ্রিক অস্থিরতা এড়াতে আগেই পরীক্ষা শেষ করার চিন্তা বাস্তবমুখী। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি পাঠ্যসূচি সম্পন্নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তবে নির্বাচনের উত্তেজনার মধ্যেও শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্নে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

শিক্ষাবার্তা /এ/১৯ /০৮/২০২৫

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.