এইমাত্র পাওয়া

“অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভূঁইয়া—মেঘনার সূর্যসন্তান, নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি”

।। এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান।। 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের সংকট নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই সংকটের মধ্যেও কিছু মানুষ আলো জ্বালান, আশার বাতিঘর হয়ে ওঠেন। অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভূঁইয়া তেমনই একজন ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক নেতা, যিনি রাজনীতিকে ক্ষমতার হাতিয়ার নয়, বরং জনগণের সেবায় নিয়োজিত রাখার ব্রত নিয়ে পথ চলেছেন। তিনি কেবল একজন জনপ্রিয় শিক্ষক বা রাজনীতিবিদ নন—তিনি মেঘনার মানুষের আশা, বিশ্বাস এবং লড়াইয়ের প্রতীক।

অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার জীবনের শুরুটাই ছিল সংগ্রামময়। কোনো প্রভাবশালী পরিবারের পরিচয় ছিল না, ছিল না কোনো রাজনৈতিক ছত্রছায়া। তিনি নিজের মেধা, নিষ্ঠা ও অদম্য পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাজে একটি অবস্থান গড়ে তুলেছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তার স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিক নেতৃত্ব আজ মেঘনাকে নেতৃত্বের নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

মেঘনার মানুষ বছরের পর বছর ধরে একটি রাজনৈতিক দাবিকে বুকে লালন করে আসছে—নিজের সন্তানকে সংসদে পাঠানোর। একজন স্থানীয় নেতার নেতৃত্বে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার। এই দাবির প্রতিফলন হিসেবে মেঘনার মানুষ অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াকে বেছে নিয়েছে।

তার জনপ্রিয়তা কেবল বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নয়, বরং স্থানীয়ভাবে তিনি এক প্রকার নৈতিক নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন। হোমনা-মেঘনা একীভূত আসন হিসেবে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে—এই স্বপ্ন তার হাত ধরেই বাস্তব হয়ে উঠতে শুরু করেছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের একটি খসড়া আসন বিন্যাসে দেখা যাচ্ছে, মেঘনাকে দাউদকান্দির সাথে যুক্ত করা হচ্ছে—যার মাধ্যমে এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মেঘনার মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, এই এলাকাটি অবশেষে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক পরিচয় পাবে। কিন্তু আজ আবারো সেই আশা ভেঙে যাওয়ার উপক্রম।

এটা শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়—এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নিপীড়ন। একটি অঞ্চলকে তার স্বকীয়তা থেকে বঞ্চিত করার প্রচেষ্টা, একটি জেলাকে অপর একটি এলাকার অধীনস্ত করার পরিকল্পনা।

এখানে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে যা ঘটেছিল, আজ অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সঙ্গে সেটাই ঘটছে। ষড়যন্ত্রকারীরা, সুবিধাবাদী রাজনৈতিক শক্তি এবং প্রশাসনিক প্রভাবশালীরা একত্র হয়ে একটি কণ্ঠস্বরকে থামিয়ে দিতে চাইছে। অথচ এই কণ্ঠস্বর উঠে এসেছে জনগণের হৃদয় থেকে।

লর্ড ক্লাইভ বলেছিলেন—সিরাজউদ্দৌলাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় যদি জনগণ দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করত, তবে ইংরেজরা পালিয়ে যেত। আজকের মেঘনার ক্ষেত্রেও সেই প্রশ্নই উঠছে—আপনারাও কি ইতিহাসের সেই দর্শক হয়ে থাকবেন, নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন?

দাউদকান্দি এবং মেঘনার মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব বিশাল। একদিকে রয়েছে মেঘনার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল, অন্যদিকে দাউদকান্দির শহরমুখী অবকাঠামো। দুই এলাকার মানুষের যাতায়াত, ভাষা, সংস্কৃতি, এমনকি প্রশাসনিক কার্যক্রমও সম্পূর্ণ আলাদা। এমন অবস্থায় এই দুই অঞ্চলকে এক আসনে আনা মানে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো, এবং রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি করা।

সরকার যদি বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে কেবল রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এই বিভাজন করে, তাহলে তা দেশের গণতান্ত্রিক নীতিমালার বিরুদ্ধেই দাঁড়াবে।

অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া কেবল একজন ব্যক্তি নন—তিনি একটি আদর্শের প্রতীক। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মানে জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তার নেতৃত্বে মেঘনার মানুষ গর্ব করে বলেছে—”আমরাও পারি, আমরাও নেতৃত্ব দিতে পারি”।

এই গর্বের অপমান করার অর্থ শুধু একজন নেতাকে নয়, পুরো একটি জনগোষ্ঠীর স্বপ্নকে ধ্বংস করা।

মেঘনার মানুষ পরিষ্কার ভাষায় বলতে চায়—

আমরা হোমনা-মেঘনা যৌক্তিকভাবে গঠিত একটি আসন চাই।

আমরা দাউদকান্দির উপনিবেশ হতে চাই না।

আমরা চাই, আমাদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হোক।

আমরা চাই, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক চাপ ও ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত থাকুক।

এই দাবি কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, এটি একটি জনগোষ্ঠীর সম্মান রক্ষার দাবি। মেঘনার মানুষ চায়—তাদের প্রতিনিধি হোক তাদেরই সন্তান, একজন দায়িত্ববান, জনসম্পৃক্ত নেতা।

মেঘনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ একটি বাঁকের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে রয়েছে ষড়যন্ত্র, অন্যদিকে জনগণের আশাভরসা। এ সময় মেঘনাবাসীকে জেগে উঠতে হবে। যেভাবে ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়—চুপ থাকা মানেই পরাজয়, প্রতিবাদ মানেই সম্ভাবনা।

অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভূঁইয়া আজ শুধুমাত্র একজন প্রার্থী নন—তিনি প্রতিবাদের প্রতীক, নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। তাঁকে রক্ষা করা মানেই মেঘনার অস্তিত্ব রক্ষা, তাঁর পক্ষে দাঁড়ানো মানেই গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।

লেখক : এ এইচ  এম  সায়েদুজ্জামান 

সম্পাদক, শিক্ষাবার্তা।

 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.