নিজস্ব প্রতিবেদক।।
একটি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির পর তা শেষ করতে সাড়ে তিন থেকে চার বছর লেগে যায়। এতে যে প্রার্থী ৪১তম বিসিএসে আবেদন করেছেন, তিনি চূড়ান্ত ফল পাওয়ার আগেই আবার ৪৩তম বিসিএসে আবেদন করেছেন। কেউ কেউ আবার ৪৪তম বিসিএসেও ওই সময়ের মধ্যে আবেদন করেছেন। ফলে তারা কেউই তখন কোনো ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত নন। এজন্য তারা সব বিসিএসেই প্রায় একই রকম চয়েজ (পছন্দ) দিয়েছেন।
কীভাবে রিপিট ক্যাডার সুপারিশ এড়ানো যায়, তা নিয়ে বিভিন্নজন নানান মতামত দিচ্ছেন। তবে প্রার্থীদের দাবি, বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে যারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন, তখন তাদের চয়েজ ফরম পুনরায় সংশোধন বা পরিমার্জন করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তাহলে এ বিড়ম্বনা কমবে।
শিক্ষা ক্যাডারে ৪৩ ও ৪৪তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. শাহদুদুজ্জামান বলেন, ‘আমি ৪৩তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার আগেই ৪৪তম বিসিএসে আবেদন করেছি, চয়েজ ফরম পূরণ করেছি। ফলে ৪৩তম বিসিএসে যেমন শিক্ষা ক্যাডার আমার পছন্দের তালিকায় ছিল, তেমনই ৪৪তম বিসিএসেও শিক্ষা ক্যাডার রেখেছি। যদি ৪৪তম বিসিএসের ভাইভার সময়ে আমাকে চয়েজ ফরম সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে আমি শিক্ষা ক্যাডার আর রাখতাম না।’
‘কারণ আমি তখন অলরেডি শিক্ষা ক্যাডারে জয়েন করেছি। তাহলে হয় আমার ভিন্ন ক্যাডার আসতো অথবা আসতো না। আমার জায়গায় অন্য কেউ সুযোগ পেতেন’- যোগ করেন শাহদুদুজ্জামান।
রিপিট ক্যাডারের ছড়াছড়ি হলেও বিষয়টিতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কোনো দায় নেই বলে দাবি করেছেন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।
তারা বলছেন, তারা প্রার্থীদের পছন্দক্রম এবং প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশ করেছেন। ফল প্রকাশের আগে কে কোন ক্যাডারে চাকরিরত, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য থাকে না। ফলে এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া যায় না।
জানতে চাইলে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীন বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান বলেন, ‘৪৩তম বিসিএসে কে, কোন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চাকরি করছেন, সে তথ্য আমাদের কাছে থাকে না। এমনকি প্রার্থীরা কোন ক্যাডারে সুপারিশ চান না, সে বিষয়েও কেউ আবেদন করেন না। ফলে এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পিএসসির হাতে থাকে না।’
রিপিট ক্যাডারে নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগের দাবি
রিপিট ক্যাডারের ছড়াছড়ির ঘটনায় ক্ষুব্ধ মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীরা। তাদের দাবি, রিপিট ক্যাডার প্রত্যাখ্যান করায় যেসব পদ শূন্য হবে, সেখানে নন-ক্যাডার থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী সুযোগ দিতে হবে। এ দাবি আদায়ে তারা প্রয়োজনে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে ৪৪তম বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন রকিবুল ইসলাম সুমন। তিনি বলেন, ‘যারা প্রিলি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ক্যাডার পদে সুপারিশ পাননি, তাদের কোনো অযোগ্যতা নেই। অযোগ্যতা হলো- পদ নেই। কিন্তু একই ক্যাডারে দুইবার করে সুপারিশ করা হয়েছে। এ পদগুলো ফাঁকা হয়ে যাবে। সেখানে নন-ক্যাডারের তালিকা থেকে নিয়োগের সুপারিশের ব্যবস্থা করতে হবে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবু জাফর বলেন, ‘আমি নন-ক্যাডারে আছি। বয়স শেষ দিকে। ৪৭তম বিসিএস আমার শেষ বিসিএস। ফলে এখন নন-ক্যাডারে ঝুলে থাকার চেয়ে আমি চাইবো আমাকে ক্যাডারে সুপারিশ করা হোক। যেহেতু রিপিট ক্যাডার প্রচুর তাই শূন্যপদে অবশ্যই পুনরায় নিয়োগ সুপারিশের দাবি করছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, যিনি এখন পিএসসির সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। আরও স্পষ্ট করে বললে বলা যায়, এটি জনপ্রশাসনের দায়িত্ব। তারা যদি মনে করে রিপিট ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তদের পদগুলো শূন্য হলে সেখানে নন-ক্যাডার থেকে সুপারিশ করা সম্ভব, তবে পিএসসিকে অনুমোদন দিলে এ কাজ করতে খুব বেশি সময়ও লাগবে না।’
শিক্ষাবার্তা /এ/০৩/০৭/২০২৫
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
