ঢাকা: কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য সরকারের কাছে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু।
সোমবার (১২ মে) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আশানুরূপ কোনো লেখাপড়া হয় না।
কতিপয় শিক্ষক নৈতিকতা বিবর্জিত হয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতায় কম নম্বর দিয়ে, ফেল করানোর ভয়ভীতি প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের নিজ কোচিং সেন্টারে যেতে বাধ্য করে এবং অভিভাবকরা উপায়হীন হয়ে সন্তানকে পরীক্ষায় ফলাফল ভালো করানোর জন্যই শিক্ষকের কোচিংয়ে পাঠাতে উৎসাহিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের জন্য হাইকোর্ট আমার দাখিল করা রিট মামলার আদেশের প্রেক্ষিতে ২০১২ সালে একটি নীতিমালা জারি করেন।
ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিক্ষকরা নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীদেরকে কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। এজন্য একটি মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। গত ১৩ বছরে রাজধানী ঢাকায় বিভাগীয় কমিশনের দপ্তরে ওই মনিটরিং কমিটির মাত্র একটি সভা হয়েছিল। ঢাকা বিভাগের কমিশনার অফিসের কর্মকর্তারা আদৌ এ মনিটরিং কমিটির খোঁজ বর্তমানে জানেন না। এ সুযোগে কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষক ও গভর্নিং বডি/এডহক কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যদেরকে মাসিক হারে চাঁদা দিয়ে ম্যানেজ করে কোচিং বাণিজ্য ও শিক্ষা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি সম্প্রতি শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার নীতিমালাটি ওয়েবসাইটে সার্কুলার আকারে জারি করে শিক্ষকদের সতর্ক করে দিয়েছেন। কিন্তু এ লোক দেখানো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঘুনে ধরা সমাজের কতিপয় নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষককে এ অনৈতিক কোচিং ব্যবসা থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না। এজন্য প্রয়োজন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সারাদেশে সাড়াশি অভিযান চালানো। এর ফলেই মনে হয় কোচিং বাণিজ্য দমিয়ে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি কোচিং বাণিজ্য বন্ধে আইন প্রণয়ন করেই শিক্ষকদের ক্লাসরুমে ফিরিয়ে আনতে হবে নতুবা শিক্ষাকে বা আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১২/০৫/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
