এইমাত্র পাওয়া

এসএসসি: পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কিছু সম্ভাব্য কারণ ও প্রতিকার

মো: ছলিম উল্লাহ আজাদঃ  ২০২৫ সালের এসএসসি/সমমানের পরীক্ষা চলতি মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই অপ্রত্যাশিত বিভিন্ন রকমের নেতিবাচক তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এদিকে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ সংক্রান্ত কিছু সংবাদ ও বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে ভাইরাল হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষায় অনেক পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন না। আবার পরীক্ষা সন্তোষজনক না হওয়ায় বিভিন্ন কেন্দ্র ভাঙচুরের অভিযোগ ও পাওয়া যাচ্ছে।অনেক শিক্ষক যারা বিভিন্ন কেন্দ্রে ইনভিজিলেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরাও নিয়ম বহির্ভূত বিভিন্ন কারণে অব্যাহতি পাচ্ছেন।

“এসএসসির ইংরেজি পরীক্ষায় অনুপস্থিত সাড়ে ১৫ হাজার; এসএসসির ৫ম দিনে ২৭ হাজার ৮৪৫ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত; এসএসসির সপ্তম দিনে ২৬ হাজার পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত।” এই সংবাদগুলো নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অনেক এলার্মিং। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ইতিমধ্যেই পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার কেন্দ্রে অনুপস্থিতির কারণ স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে জানতে চেয়েছেন। এ কারণগুলোর উত্তর খোঁজার জন্য আমাদেরকে একটু গভীরে যেতে হবে। আমাদের স্কুল/ কলেজ গুলো বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত,বিশেষ করে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো। মহানগর এবং জেলা পর্যায়ের মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে প্রশ্ন সাপেক্ষ। যদিও (পরীক্ষার হলের ব্যবস্থাপনায়) পরীক্ষায় পাস এবং শিক্ষার মান ভিন্ন জিনিস। অনেক ছাত্র-ছাত্রী এসএসসি/ এইচএসসি পরীক্ষায় বসার জন্য প্রস্তুত না। বলা হয়ে থাকে তাদেরকে প্রস্তুত না করে পরীক্ষার কেন্দ্রে পাঠানো হয়। অনেক স্কুল /কলেজে নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে একই প্রশ্ন দিয়ে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার পরও তারা পাশ করতে করতে ব্যর্থ হয়। কয়েকবার পরীক্ষা দেওয়ার পরও তারা যখন ফরম পূরণে ব্যর্থ হয় তখন আন্দোলনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। বিভিন্ন সময় দেখা যায় প্রতিষ্ঠানে যে সকল শিক্ষক শিক্ষার মান নিয়ে কথা বলে, শিক্ষা বোর্ডের ফরম পূরণের বিধি নিষেধের কথা বলে তারা বিভিন্ন সময় হেনস্তার শিকার হন। তাছাড়া শিক্ষা বোর্ড সমূহ এসএসসি/এইচএসসি ফরম পূরণের সময় ৩/৪ বার পর্যন্ত বৃদ্ধি করে থাকেন।এতে অনুত্তীর্ণ ছাত্ররা আবার প্রতিষ্ঠানে এসে ভিড় জমান।টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীরা ঢালাওভাবে ফরম পূরণ করার জন্য একটা বাড়তি সুযোগ সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানেরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যান। এসএসসি /এইচএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আতংকের নাম।

অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিভিন্ন চাপে পড়ে এই সব ছাত্রছাত্রীদের ফরম পূরণ করতে বাধ্য হন। অনেক সময় দেখা যায় যে ছাত্র-ছাত্রীরা অঙ্গীকারনামায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও স্কুল/ কলেজ কর্তৃক বিশেষ ক্লাস সমূহে অনুপস্থিত থাকে। উল্লেখ্য যে কোচিং ক্লাস তথা বিশেষ ক্লাস সমূহ কোন কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য বিলাসিতা(কোচিং ফি নেওয়া হয়, ভালো মানের ছাত্র ছাত্রী) আবার কোন কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অস্তিত্বের লড়াই(কোচিং ফি নেওয়া হয় না, অনেক পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রী)। এসএসসি এবং এইচএসসির ফরম পূরণে শিক্ষা বোর্ডের কিছু দিকনির্দেশনা তথা বিধি নিষেধ থাকলেও(“কেবল নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবে”) প্রকৃতপক্ষে বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করেই শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করিয়ে থাকেন। পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীদের কে স্কুল /কলেজমুখো করতে হবে। পড়াশোনার আওতায় আনতে হবে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে গণিত এবং ইংরেজি বিষয়ের ভীতি দূর করতে ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষাবোর্ড সমূহ এবং মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরন এবং শিখন-শেখানো কার্যক্রম ফলপ্রসু করার জন্য কিছু কমপ্রিহেনসিভ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন।প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা ব্যবস্হা সংস্কারে পদক্ষেপ নেওয়া খুবই জরুরি।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি)

“মতামত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে মতামত ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক ও আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের;- শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৬/০৪/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.