আরিফুল ইসলাম, সিনিয়র অফিসার, সোনালী ব্যাংক, আখাউড়া শাখা :
২০০৭ সালে এসএসসি আর ২০০৯ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করি। এরপর ভর্তি হই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, পরিসংখ্যান বিভাগে (২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষ)।
মাস্টার্স শেষ করে চলে আসি ঢাকায়। চাকরির জন্য প্রস্তুতি শুরু করি। বিসিএসে ভালো প্রস্তুতির জন্য লম্বা সময় দরকার। তাই ব্যাংকের চাকরির জন্যই প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নিই। তা ছাড়া আগে থেকেই ব্যাংকার হওয়ার ঝোঁক! প্রথম দিকে রূপালী ব্যাংকে অফিসার (ক্যাশ), উত্তরা ব্যাংকে অফিসার (ক্যাশ), বাংলাদেশ ব্যাংকে অফিসার (জেনারেল) পদে পরীক্ষা দিই। সবগুলোতেই খুব খারাপ করি। নিজের মূল্যায়ন আর অভিজ্ঞদের কথা শুনে বুঝলাম, খুব ভালো প্রস্তুতি ছাড়া বাছাই পরীক্ষায় ভালো করা কোনোভাবেই সম্ভব না। এরপর শুরু হয় ‘সর্বাত্মক প্রস্তুতি’ পর্ব। ঢাকার পরিচিত একটি ব্যাংক জব কোচিংয়ে ভর্তি হয়ে যাই। অনেক সময় সবার জন্য সব পদ্ধতি কার্যকর হয় না, তবে কোচিংয়ে ভর্তি হওয়াটা আমার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এর কিছুদিন পর মনে হলো—অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১২ ঘণ্টা করে পড়াশোনা করেছি। সবচেয়ে বেশি সময় দিয়েছি ইংরেজি ও গণিতে। ইংরেজি পত্রিকা, বইয়ের যেখানে যখন অপরিচিত-দুর্বোধ্য কোনো শব্দ চোখে পড়েছে, সঙ্গে সঙ্গে নোট করে রেখেছি। এভাবে ইংরেজি ভোকাবুলারি আয়ত্ত করেছি।
গণিতের বেসিক ভিতটা পাকাপোক্ত করার জন্য প্রথমে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির গণিত বইগুলো ভালোভাবে শেষ করি। এরপর এক এক করে খাইরুল’স ব্যাংক ম্যাথ, জাফর ইকবাল আনসারির গণিতবিষয়ক বই, প্রফেসরস গভ. ব্যাংক জব সলিউশন শেষ করি। সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতির জন্য এমপিথ্রির পাশাপাশি নিয়মিত পত্রিকা, চলতি ঘটনা ও চাকরির প্রস্তুতির মাসিক ম্যাগাজিনগুলো পড়তাম। কম্পিউটারে ভালো করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের আইসিটি বই দেখেছি। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকে ‘সিনিয়র অফিসার’ পদে নিয়োগের সার্কুলার হলো। আবেদন করে প্রস্তুতির মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিই।
ব্যাংকের নিয়োগে ৩ ধাপের (প্রিলি, লিখিত ও মৌখিক) বাছাই পরীক্ষার মধ্যে ‘লিখিত পরীক্ষা’র ধাপটাই আমার কাছে কঠিন মনে হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার গণিতে ভালো করার জন্য আগারওয়ালের বই থেকে অধ্যায়ভিত্তিক অঙ্কগুলো গুরুত্ব দিয়ে চর্চা করেছি। পাশাপাশি কোচিংয়ের শিট, গণিতবিষয়ক ভারতীয় ওয়েবসাইট ও ফেসবুকের ক্যারিয়ার গ্রুপগুলোতে দেওয়া নমুনা প্রশ্নের অঙ্কগুলো বাসায় বসে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কোনোটা না পারলে সেটা গ্রুপ স্টাডি কিংবা অভিজ্ঞদের সহায়তা নিয়ে সমাধান করেছি।
প্রতিদিন অনুবাদ ও ফোকাস রাইটিং চর্চা করতাম। নিয়মিত পত্রিকা পড়ার কারণে ফোকাস রাইটিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়াটা সহজ হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ সমসাময়িক বিষয়গুলো নোট করে রাখতাম। ফোকাস রাইটিং কমন না পড়াটাই স্বাভাবিক, তাই এমনভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি—যেভাবেই আসুক তথ্য ঠিক রেখে যতটুকু পারা যায়, যাতে গুছিয়ে লিখতে পারি। যেভাবে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ঠিক করেছি, পরীক্ষায় সেভাবেই অ্যাপ্লাই করেছি।
ভাইভা দিতে গিয়ে খুব কঠিন মনে হয়নি। আমার বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রশ্নই বেশি করা হয়েছে। ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি সমসাময়িক ঘটনাবলি থেকেও কয়েকটি প্রশ্ন ছিল। বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তরই ঠিকঠাক দিয়েছি। গত নভেম্বরে (২০১৯) সোনালী ব্যাংকে যোগ দিই।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
