এইমাত্র পাওয়া

ফ্রিজ, এসি ও বাইকশিল্পে করপোরেট কর বেড়ে দ্বিগুণ

নিউজ ডেস্ক।। উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে ৬৫ পণ্য ও সেবার বিপরীতে ভ্যাট বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পর এবার আয়করের মাধ্যমে জনগণের পকেট কাটার পসরা সাজিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রিজার, রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনার, কম্প্রেসর ও মোটরসাইকেলের করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিগুণ হচ্ছে কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়করও।

মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে কর অব্যাহতির পরিমাণ কমিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে সরকারের চার হাজার কোটি টাকা আয়কর আদায় বাড়বে। যদিও কাঁচামালের অগ্রিম আয়কর বাড়ানোয় দেশে তৈরি মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনের দাম বাড়তে পারে।
২০০৯ সাল থেকে ইলেকট্রনিকস শিল্পের কর ছাড় দিয়ে আসছে এনবিআর। শিল্পের করপোরেট কর, কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর এবং উত্পাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট ছাড় দেওয়ায় দেশে ১২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

এ খাতে কাজ করছে ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক। পক্ষান্তরে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে গেছে দেশীয় ইলেকট্রনিকস পণ্য। হুট করে অগ্রিম আয়কর বাড়ানোয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। জানা গেছে, খুচরা যন্ত্রাংশসহ পূর্ণ ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, এয়ারকন্ডিশনার ও কম্প্রেসর তৈরির প্রতিষ্ঠানকে কর ছাড় দিয়ে ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর এনবিআর একটি আদেশ জারি করে।
সেই প্রজ্ঞাপনে শর্তসাপেক্ষে ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ইলেকট্রনিকস শিল্পের করপোরেট কর ১০ শতাংশ করা হয়। উত্পাদনের তারিখ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানকে তাদের আয়ের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হতো।
মঙ্গলবার জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শর্তসাপেক্ষে ইলেকট্রনিকস শিল্পের করহার ২০ শতাংশ করা হলো। তবে এই করহার ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে এবং এই হার ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। হ্রাসকৃত হারকর সুবিধা পেতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেই শর্ত পালন করতে হবে, সেগুলো হচ্ছে—শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মোল্ড ও ডাইস তৈরির ক্ষমতা থাকতে হবে।

নিজস্ব পলি ইউরোথিন ফোমিং প্লান্ট, পাউডার কোটিং প্লান্ট এবং সক্রিয় ইটিপি (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট) থাকতে হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, গত ২৫ বছর ধরে ইলেকট্রনিকস শিল্প রেয়াতি করহার ভোগ করে আসছে। এখন সময় এসেছে রাষ্ট্রের কর দেওয়ার। তা ছাড়া উদ্যোক্তারা যাতে ব্যাবসায়িক পরিকল্পনা করতে পারেন, সে জন্য আগেভাগেই করহার বাড়ানো হয়েছে। আদেশ জারি হলেও বর্ধিত আয়কর ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর হলেও আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর আদেশ জারির দিন থেকেই কার্যকর হবে। দু-এক দিনের মধ্যে অগ্রিম আয়করের আদেশ বা প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। তিনি বলেন, বর্ধিত করহারের কারণে সরকার অতিরিক্ত চার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মহলে আলোচনায় বলে থাকেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত কম। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে এনবিআর যখন নীতিগত বা এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেয়, তখন তাঁরাই সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করেন।
প্রসঙ্গত, কর অব্যাহতি কমিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়ে গত ডিসেম্বরে অর্থ উপদেষ্টা বলেছিলেন, ‘কর ছাড়ের মাধ্যমে সুরক্ষা দেওয়ার দিন এখন আর নেই। আমরা ৫০ বছর ধরে বহু শিশুকে কর ছাড় ও প্রণোদনা দিয়ে লালন করেছি। আর কতকাল শিশুকে লালন করব? যে শিশুকে এত দিন লালন-পালন করা হয়েছে, তারা এখন শারীরিকভাবে বড় হয়ে গেছে। তারা এখনো বলে, আমাদের সুরক্ষা দিন; কিন্তু সুরক্ষার দিন তো চলে গেছে।’ এ প্রসঙ্গে যমুনা ইলেকট্রনিকসের পরিচালক (বিপণন) সেলিম উল্যা সেলিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইলেকট্রনিকস শিল্পে কর ছাড় দেওয়ার কারণেই আমদানি নির্ভর পণ্যগুলো এখন দেশেই উত্পাদন হচ্ছে। সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছেছে ফ্রিজ, এসি। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে। এখন কর বৃদ্ধির যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের জন্য আত্মঘাতী হবে। যে হারে ভ্যাট-ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে, তাতে পণ্যের দাম আরো বেড়ে যাবে। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় কমছে, অন্যদিকে ক্রমাগত ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে পণ্যমূল্য বাড়ছে।’


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading