চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রামে বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন প্রান্ত বড়ুয়া নামে এক সমন্বয়ক। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারী গলি ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
একাধিক শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া প্রান্ত বড়ুয়া আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ অন্যদের পদত্যাগের বিষয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে সিএসই বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের তানভীর নামে এক ছাত্রকে থাপ্পর মারেন প্রান্ত। বিষয়টি জানাজানির পর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ওই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা প্রান্তকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার , ফ্যাকাল্টির চেয়ারম্যানসহ অন্যরা উভয় পক্ষকে নিয়ে মিটিং করে ব্যাপারটির সমাধান করেন।
ঘটনাস্থলে থাকা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল করিম বলেন, ‘প্রান্ত নামের এক শিক্ষার্থীর সাথে অপর এক শিক্ষার্থীর পোস্ট দেওয়াকে নিয়ে হাতাহাতি হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মিলে ব্যাপারটি সমাধান করেন। যে শিক্ষার্থী মেরেছে তিনি সবার সামনে ক্ষমা চেয়েছেন। এটা এখন সম্পূর্ণ মীমাংসা হয়ে গেছে।
আইন বিভাগের চেয়ারম্যান তানজিনা আলম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীরা একজন আরেকজনকে কিছু বলেছে । তাদের মধ্যে সেন্টিমেন্ট থেকে এমন হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার খবর পেয়ে আসলে উভয় বিভাগের শিক্ষক, থানার ওসি এবং সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ বিষয়টি সমাধান করে। তানভীরকে মেরে সে (প্রান্ত) নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। তাকে জড়িয়ে ধরেছে এবং ক্ষমা চেয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইফতেখার মনির বলেন, ফেসবুকে ব্যক্তিগত কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রান্ত ও তানভীরের মধ্যে মারামারি হয়। পরে প্রান্তকে অপর শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ করে রাখে। আমরা গিয়ে ব্যাপারটি সমাধান করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট পরবর্তী ‘পিইউসি অল ডিপার্টমেন্ট’নামে একটি গ্রুপ খোলা হয়। ওই গ্রুপে কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে তানভীর নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া প্রান্ত বড়ুয়া। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সমন্বয়ক প্রান্ত বড়ুয়াকে ফোন দিলে তিনি বলেন, এখানে আমার কোনো দোষ নেই। আমি প্রমাণ দিতে পারব। ওরা ছাত্রলীগ করে এবং ফেসবুকে সমন্বয়কদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর পোস্ট করছে তাই তাদের আমি ধরেছি। ঝামেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে হলেও তারা সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নিয়ে দুই বিভাগে ঝামেলা সৃষ্টি করছে। এরপর আমি ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেন প্রান্ত।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/৩০/১২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
