নিজস্ব প্রতিবেদক।। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, দেশের প্রচলতি শিক্ষাব্যবস্থায় কর্মমুখী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়ার সময় এসেছে।
বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম অধিকার কমিশনকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। যতটা সম্ভব নারী ও যুবকদের কর্মসংস্থান বাড়াতে শিক্ষাক্রমে কর্মমুখী শিক্ষায় সংযোজন করতে হবে।
রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি আয়োজিত ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা, কিশোরী ও যুবাদের কাজের সুযোগ ও কর্মব্যবস্থা’-বিষয়ক সংলাপে এমন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। সব কথা বলেন সিপিডি গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
অনুষ্ঠানে অন্যরা বলেন, এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শ্রম বাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা নিতে হবে। এ পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে। আর এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধতা দূর করতে হবে।
হাওর অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জেলা কিশোরগঞ্জের শ্রমবাজার নিয়ে একটি জরিপ উপস্থাপনা তুলে ধরে ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নানামুখী প্রতিবন্ধকতার কারণে জেলা পর্যায়ে কিশোরী ও তরুণীদের জন্য চাকরির বাজার অনেক চ্যালেঞ্জিং। যে কারণে শহুরে নারীদের চেয়ে গ্রামীণ নারীরা পিছিয়ে রয়েছে।
কিন্তু সেই বিষয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রমের আওতা বাড়াতে হবে। নারীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ফ্রি ট্রেনিং, উপজেলা লেভেলে ইনসেন্টিভের ব্যবস্থা করা এবং কৃষি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকাগুলোতে পেইড ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তো ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উদাসীনতা রয়েছে। ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে কৃপণতা দেখালে একাডিমিক কোর্স শেষ বা প্রশিক্ষণ শেষে বাস্তব অভিজ্ঞতা আসবে কোথা থেকে? অভিজ্ঞতা তো ক্লাসে অজর্ন করা যায় না। সেজন্য শিল্পগ্রুপগুলোর উচিত যেসব যুবক একাডেমিক শিক্ষা শেষে ইন্টার্নশিপ করতে আগ্রহী, তাদের সেই সুযোগ নিশ্চিত করা।
উপস্থাপনায় নারীর উন্নয়ন এবং পিছিয়ে পড়া গ্রামাঞ্চল নারীদের এগিয়ে নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম অধিকার কমিশনকে নারীদের কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার তাগিদ দেন সিপিডির এ গবেষণা পরিচালক। তিনি বলেন, নারীদের নিয়ে নানা কুসংস্কার রয়েছে। রয়েছে নানা বাধা। এসব বাধা দূর না হলে দেশের কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন উভয় বাধার মুখোমুখি হবে।
কারিগরি শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে যুব উন্নয়ন অধিদফতর, মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদফতর, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা পরিষদ, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) আওতায় শিক্ষিত-স্বল্পশিক্ষিত যুব নারী-পুরুষদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে।
আবার শিক্ষার মান, হালনাগাদকরণ, বাজারচাহিদা অনুযায়ী উপযোগী কোর্স চালু করা, পাঠদান মান, পরিবীক্ষণ, ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। এ ছাড়াও কারিগরি শিক্ষার প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও এ ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়।
সিপিডির প্রবন্ধে সুপারিশগুলো হলো- সব উপজেলায় চাকররি সুযোগ সম্পর্কে সচতেনতা বাড়াতে রোলমডলে এবং ক্যারিয়ার কাউন্সেলরদের সাথে কর্মশালার আয়োজন করা। ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সারা দেশে রোল মডেলদের কর্মশালার ব্যবস্থা করা। তরুণ নারীদের জন্য ডিজিটাল স্বাক্ষরতা এবং ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
চাকরির জন্য জীবনবৃত্তান্ত লেখা, সাক্ষাৎকারের দক্ষতা এবং তরুণ নারীদের জন্য চাকরির আবেদনে সহায়তা প্রদানকারী একটি ক্যরিয়ার কেন্দ্র স্থাপন করা। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার এবং বেসরকারী খাতের প্রতিনিধিদের সাথে বাজারের চাহিদার সাথে সারিবদ্ধ করার জন্য মাল্টি স্টেকহোল্ডার ফোরাম গঠন করা।
যুব নারীদের নিয়োগ বা চাকরিকালীন প্রশিক্ষণ প্রদানকারী ব্যবসার জন্য বিভিন্ন উপজেলায় প্রণোদনার (ট্যাক্স, ভর্তুকি) ব্যবস্থা করা।
শিক্ষাবার্তা /এ/১৮/১২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
