এইমাত্র পাওয়া

২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যায় যারাই জড়িত, যাদের হাতে রক্ত আছে, যারা গুমে জড়িত, তাদের বিচার হবেই। এখানে কোনো মাফ নেই।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক ইস্যুতে ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান প্রেস সচিব। ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।

শফিকুল আলম বলেন, আপনারা দেখেছেন গুম কমিশনের রিপোর্ট কী ভয়াবহ। কিভাবে গুম করা হয়েছে। পুরো রিপোর্টের আংশিক শেয়ার করেছি। সেখানে দেখেছেন কী ভয়াবহ। যারাই এসবের সাথে জড়িত ছিলেন পলিটিক্যাল পার্টি হোক আর, সিকিউরিটি ফোর্সের লোক হোক, যেই হোক তাদের বিচার হবে। এটা নিশ্চিত থাকতে পারেন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গত সোমবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, ‘অল্প কিছু সংস্কার করে ভোটার তালিকা নির্ভুলভাবে তৈরি করার ভিত্তিতে যদি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয় তাহলে ২০২৫ সালের শেষের দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়তো সম্ভব হবে।

আর যদি এর সাথে নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত মাত্রার সংস্কার যোগ করি তাহলে অন্তত আরো ছয় মাস অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। মোটা দাগে বলা যায়, ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা যায়।

এ বিষয়ে প্রেস সচিব এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এরচেয়ে স্পষ্ট রোডম্যাপ আর কী হতে পারে? তিনি বলেন, নির্বাচন কখন হবে, এটা নির্ভর করবে সংস্কারের ওপর। আপনি আশা করতে পারেন যে, নির্র্বাচনটা হবে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে। এখন আপনি যদি বলেন মনোনয়ন দাখিলের সময় কবে? সেটি নির্বাচন কমিশন দেবে।

প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম মজুমদার বলেন, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ, কবে মনোনয়ন দাখিল হবে এগুলো নির্বাচন কমিশনের কাজ। সরকারের কাজ হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা। নির্বাচনটা যাতে সুষ্ঠু হয় এ জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের জাতীয় দাবি আছে রাজনৈতিক দল ও মানুষের পক্ষ থেকে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা হচ্ছে আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে ভোট দিতে পারেনি।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে তরুণদের দাবি তারা যেন ভোট দিতে পারে, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত যেন হয়। সংস্কার কমিশনগুলো দ্রুত প্রতিবেদন দেবে বলে আশা প্রকাশ করে আজাদ মজুমদার বলেন, সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে জাতীয় উদ্যোগের চেষ্টা হবে।

জাতীয় ঐকমত্যে সংস্কারের বিষয়গুলো তৈরি হয়ে গেলে নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিতে পারবে। নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ কমিশন শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত দিনক্ষণ জানতে হলে সবার উচিত নির্বাচন কমিশনের সাথে যোগাযোগ করা। মোটা দাগে সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমার কথা বলেছেন।

শিক্ষা ক্ষেত্রে আসতে পারে ব্যাপক পরিবর্তন : শফিকুল আলম বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন- নবম ও দশম শ্রেণীতে টেক্সট রেশনালাইজেশন করা হবে। ইউনিভার্সিটি মঞ্জুরি কমিশন থেকে মঞ্জুরি শব্দটি বাদ রাখা হবে। যাতে আরো যুগোপযোগী হয়।

টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনকে যুগোপযোগী করা হবে। বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এ নিয়ে কাজের পরিকল্পনা আছে সরকারের। স্কুল ও কলেজপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি খুব হালনাগাদ করা হয়নি। এগুলো আরো হালনাগাদ করতে কাজ হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রেস সচিব আরো বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে ঘুষবাণিজ্যসহ দুর্নীতির বিষয় অনেকাংশে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত করতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষা কমিশন করা না হলেও অল্প সময়ে শিক্ষা খাতে যেসব ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব, তেমন কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, শিক্ষাখাতে পরিবর্তন আনতে সরকার সচেষ্ট ও ইতিবাচক; যাতে শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ে। শিক্ষা খাতে গত ১৫ বছরে বাজেট না বাড়িয়ে অপ্রয়োজনীয় খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে উচ্চশিক্ষায়। শিক্ষার মান উন্নয়নে কমিশন গঠনসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেখ হাসিনা অর্থনীতিকে যে জায়গায় রেখে গেছে, তা খুব একটা ভালো অবস্থায় ছিল না উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, বিগত সরকারের দেয়া বাজেট পর্যালোচনা হচ্ছে। সংশোধনী বাজেট নিয়ে এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বকেয়া পরিশোধে কাজ করছে সরকার।

ওবায়দুল কাদেরের দেশে থাকা-না-থাকার প্রমাণ সরকারের হাতে নেই : জুলাই আন্দোলনে হত্যাযজ্ঞ চালানো কাউকে ছাড় দেয়া হবে না উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, আইনের আওতায় এনে দোষীদের সঠিক বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তিন মাসের বেশি সময় দেশে লুকিয়ে ছিলেন।

গত ৮ নভেম্বর মেঘালয়ের রাজধানী শিলং হয়ে তিনি কলকাতায় পালিয়ে যান। এ নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ওবায়দুল কাদের তিন মাস দেশে ছিলেন কি না, তার সঠিক তথ্য হাতে নেই। শফিকুল আলম বলেন, বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। অনেকগুলো বিষয় জানতেও পেরেছি। ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশে ছিলেন কি ছিলেন না, সেই প্রমাণ সরকারের হাতে নেই।

শিক্ষাবার্তা /এ/১৮/১২/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.