নারীদের ধাত্রী কোর্সে ভর্তি নিষিদ্ধ করল তালেবান

শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ তালেবান   নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে নারীরা ধাত্রী বিদ্যা (midwife courses) ও সেবিকা(নার্স) প্রশিক্ষণের জন্য কোর্সে অংশ নিতে পারবে না বলে খবর এসেছে। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিবিসি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায় মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহু নারী শিক্ষার্থী জানিয়েছে যে, তাদের শ্রেণীকক্ষে ফিরে যাওয়ার জন্য নিষেধ করা হয়েছে।এর ফলে, আফগানিস্তানে নারীদের শিক্ষা গ্রহণের শেষ পথটিও বন্ধ হয়ে গেছে।

এই আদেশটি সম্পর্কে তালেবান সরকার নিশ্চিত না করলেও, আফগানিস্তানে নারীদের জন্য শিক্ষা গ্রহণে বেশ কিছু বাধা সৃষ্টি হয়েছে।তালেবান সরকারের নির্দেশে ৫টি পৃথক প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেছে,যার মধ্যে ধাত্রীবিদ্যা ও সেবিকা(নার্স) প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।বিশেষত, নারীদের জন্য যতটুকু শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ ছিল, তাও এখন বন্ধ হয়ে গেছে।

এই নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে, নারীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো অস্পষ্ট। তালেবান সরকার এর আগেও নারীদের শিক্ষা গ্রহণে নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং এর অংশ হিসেবে গত আগস্ট ২০২১ থেকে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নারীদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়। যদিও তালেবান সরকার বলেছিল যে, একদিন তারা এই নীতি পরিবর্তন করবে, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

ধাত্রীবিদ্যা এবং নার্সিং কোর্স, যেগুলোর মাধ্যমে নারীরা স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে পারতেন।একসময় নারী শিক্ষার পথ ছিল। তবে, এখন তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে আফগানিস্তানের নারী স্বাস্থ্য সেবা সংকট আরও প্রকট হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, আফগানিস্তানে মাতৃমৃত্যুর হার অত্যন্ত উচ্চ, যেখানে প্রতি ১০০,০০০ জন্মের মধ্যে ৬২০ নারী মারা যান। এই সংকট আরও গভীর হতে পারে, কারণ আফগানিস্তানে আরও ১৮,০০০ ধাত্রী প্রয়োজন।আফগানিস্তানে নারীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট এর এই অবস্থা আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে, এবং এর প্রভাব সমাজের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। 

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৪/১২/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.