পদ-ই যেন সোনার হরিণ ব্যানবেইস কর্মকর্তা মোতাহারের!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এ কর্মরত শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক মোঃ মোতাহার হোসেন। ব্যানবেইসে তাঁর পদ সহকারী পরিচালক (অর্থ)। পদের (অর্থ) সাথে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও অর্থের কমতি নেই। সবই কামিয়েছেন এই পদের বিপরীতে। ফেনী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পতিত আওয়ামী সরকারের ছত্র ছায়ায় ব্যানবেইসে সহকারী পরিচালক (অর্থ) পদে পদায়ন বাগিয়ে নেন মোঃ মোতাহার হোসেন। এরপর থেকে আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। দুর্নীতি ও জুলুম নিপীড়নের দায়ে পতিত হাসিনা সরকার পালালেও তাঁর আমলে পদায়ন পেয়ে দুর্নীতি ও অপকর্ম করে এখন পর্যন্ত তাকে এই পদ হারাতে হয়নি। সাথে চলমান রয়েছে দুর্নীতি। 

জানা গেছে, দেশের ১২৫টি উপজেলায় আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)। কেন্দ্রগুলোর পুরো নাম আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন (ইউআইটিআরসিই)।  এই ১২৫ টি কেন্দ্রে সম্প্রতি সিসিটিভি ক্যামেরা ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করে ব্যানবেইস। আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কোন চাহিদা না থাকলেও আগ বাড়িয়ে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এজন্য প্রতি কেন্দ্রে ব্য়য় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকা করে। তবে সব ক্ষেত্রেই সরঞ্জাম কেনা হয়েছে বাজারের চেয়ে দ্বিগুণ দামে। বাজারদর যাচাই করে এর সত্যতা মিলেছে। শুধু তাই নয়, নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার করায় স্থাপনের পর কিছুদিন না যেতেই অনেক কেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পের কেনাকাটায় অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি ইউআইটিআরসিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাবদ বিল ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকা। কিন্তু বাজারে যাচাইয়ে দেখা গেছে, এসব পণ্যের সর্বোচ্চ দাম ৭০ হাজার টাকারও কম। অর্থাৎ দ্বিগুণেরও বেশি দামে সিসিটিভি ক্যামেরা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো থেকে কোটি টাকার উপরে লোপাট করা হয়েছে। আর এই লোপাটের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড মোঃ মোতাহার হোসেন। চাহিদা না থাকলেও চাহিদা পত্র তৈরি করে পরিচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন এই কর্মকর্তা। 

শুধু সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমেই লুটপাট শেষ হয়নি। ব্যানবেইস হেড অফিসের মাধ্যমে প্রতিটি অফিসে এসি, জেনারেটর এবং কম্পিউটার সার্ভিসিংয়ের কাজ করানো হয়েছে। সার্ভিসিং বাবদ প্রতিটি অফিসের বিল ধরা হয়েছে মোট ৭৪ হাজার ৯০০ টাকা। কাজ একই রকম না হলেও প্রতিটি অফিসেই একই বিল করা হয়েছে। ১২৫টি অফিসের হিসাবে মোট বিল ৯৩ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। এই সার্ভিসিংয়ের নামে যে অর্থ লোপাট করা হয়েছে সেখানেও রয়েছে মোঃ মোতাহার হোসেনের নাম। 

ইউআইটিআরসিই-এর বাজেট বরাদ্দ দিয়ে মালামাল সরবরাহ ব্যতীত নাম সর্বস্ব ঠিকাদারকে বিল প্রদানের জন্য সহকারী প্রোগ্রামারদেরকে বাধ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে তাঁর বিরুদ্ধে।  এছারাও বিভিন্ন বিল আটকিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে অর্থ আদায়, তাঁর দায়িত্ব অবহেলার জন্য ব্যানবেইস ও ইউআইটিআরসিই-তে কর্মরত আউটসোর্সিংয়ের ২৭৩ জন কর্মচারীর তিন মাস যাবত কোন বেতন ভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ এসব কর্মচারীর। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, প্রয়োজন ছাড়া কেনাকাটা, মাঠ পর্যায়ের চাহিদা না থাকলেও চিঠি দিয়ে তাদেরকে চাহিদা পাঠাতে বলে নাম সর্বস্ব মালামাল সরবারহ করে কোটি টাকা লোপাট করার সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা দুর্নীতিতে উৎসাহিত হচ্ছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ মোতাহার হোসেন এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) ডিজির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৭/১১/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.