নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি কারাবাসে থাকলেও দিপু মনি-টিপু-রতন সিন্ডিকেটের অন্যতম ক্যাশিয়ার ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আব্দুল মজিদ এখনও বহাল তবিয়তে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লার সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আব্দুল মজিদ সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু এবং চাঁদপুর পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদারের কুমিল্লা জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে যে কোন কাজে অন্যতম হাতিয়ার হওয়ায় ঢাকার সিন্ডিকেট শক্তিশালী করতে কুমিল্লা থেকে ২০২১ সালের ০৩ অক্টোবর ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করান।
শিক্ষাবার্তা’র অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে এবং ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর জেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদন্নোতি পান। জেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদায়নের পর থেকেই গড়ে তোলেন নামে বেনামে অঢেল সম্পত্তি। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ইং তারিখে স্বৈরশাসক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব নিয়োগ পান সাজ্জাদুল হাসান। সাজ্জাদুল হাসানের বাড়ি নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার। নেত্রকোনার সন্তান আব্দুল মজিদ পিএস সাজ্জাদুল হাসানের সুপারিশে নেত্রকোনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদায়ন বাগিয়ে নেন। তৎকালীন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে আব্দুল মজিদের দাপট ছিল সর্বত্র। তিনি অনেকটা ‘প্রধানমন্ত্রীর’ লোক অর্থ্যাৎ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার একান্ত সচিবের সুপারিশ এবং নিকটাত্বীয় হবার সুবাদে তার দাপট ছিল চরমে। এরপর সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু-টিটু ও রতন সিন্ডিকেটের সাথে সখ্যতা গড়ে কুমিল্লা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদায়ন বাগিয়ে নেন। সেখানে এই সিন্ডিকেটের দেওয়া কাজ ও ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব যথাযথ পালনের ফলে ‘উপযুক্ত কর্মকর্তা’ হিসেবে ঢাকা অফিসকে নিয়ন্ত্রণ করতে তাকে ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসে পদায়ন করান দীপু-টিপু-রতন সিন্ডিকেট। বর্তমানে দীপু মনি কারাগারে আর তার ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু এবং চাঁদপুর পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার পলাতক থাকলেও তাদের পদায়ন করা আব্দুল মজিদ বহাল তবিয়তে। থেমে নেই তার দুর্নীতি ও অনিয়ম।
আরও পড়ুন
- ঢাকাতেই কর্মজীবন আয়নাঘরের হোতার আপন বোন ‘ঘুসখোর’ মাউশির নাজমুন নাহার
- মাউশিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী নাহিদ সুলতানা ও মেজবাহের দাপট
- এমপিওভুক্তিতে মাউশির ঢাকা অঞ্চলের ডিডি খালেক নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা!
জানা গেছে, সার্টিফিকেট জাল করে এমপিওভুক্ত করানো, টাকা না দিলে ফাইল রিজেক্ট করা, তদন্তের দায়িত্ব পেলেই টাকার খেলায় মেতে উঠা, ঢাকা মহানগরীর স্কুল গুলোতে শিক্ষক প্রতিনিধি নিয়োগে মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, নাম করা স্কুল গুলো থেকে মাসিক চুক্তিতে টাকা আদায়, নামে বেনামে অর্থ আদায় এবং শিক্ষক কর্মচারীদের হয়রানি করাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি রাজধানীর একটি নামকরা স্কুল এন্ড কলেজের দুই শিক্ষককে পদোন্নতির ফাইল পাঠাতে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে সেই ফাইল প্রেরণ করেন তিনি। ঐ দুই শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম থাকলেও টাকা পেয়েই তিনি ফাইল ছেড়ে দেন। এনিয়ে স্কুল এন্ড কলেজটির শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিস, আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিস এখন দুর্নীতির মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার পালালেও সেই সিন্ডিকেট এখনও শক্তিশালী।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব আব্দুল মজিদকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার ঢাকা অঞ্চলের উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) পদে পদায়ন করাতে জোর তদবির চালাচ্ছেন। জেলা ও আঞ্চলিক অফিস সূত্র বলছে, তিনি যদি এই পদে আসেন সাবেক ঘুষখোর কর্মকর্তা ডিডি আব্দুল খালেককেও ছাড়িয়ে যাবেন তিনি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো: সেলিম ভুইঁয়া শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, তিনি একজন ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদ খুনি হাসিনার দোসর। জাল সার্টিকেট দিয়ে অনেকের এমপিওভুক্ত করে দিয়েছেন। এর আগে একাধিক পত্রিকায় নিউজ হয়েছে বিদেশের মাটিতে ঘুষের মাধ্যমে ফাইল স্যার করেছে। সমস্ত ডকুমেন্টস আমার কাছে আছে। একটু অপেক্ষা করেন উনার বিচার হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মজিদের মুঠোফোনে কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জানতে চাইলে মাউশির কোন কর্মকর্তা কথা বলতে রাজী হননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দীপু ও নওফেল সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয়। এই সিন্ডিকেট বেশ কিছু পদে ইতিমধ্যে পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন এবং এখনও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তবে এই সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার বলে জানান এই কর্মকর্তা।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৩/১০/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
