আল আমিন হোসেন মৃধাঃ দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে সংশ্লিষ্ট জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক/জেলা প্রশাসকের মনোনীত প্রতিনিধি, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করে প্রজ্ঞাপন জারি করার পর এবার পুরো কমিটিই ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে এডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা গেছে, অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের কাছে কমিটি গঠনের অনুমোদনের আবেদন করার নির্দেশনা দেওয়া হবে। সভাপতি ছাড়া শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধির নাম পাঠাতে পারবেন প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা। সভাপতি হবেন বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অধিকাংশ বেসরকারি স্কুল ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আত্মগোপনে চলে যায়। অধিকাংশ সভাপতি ছিলেন আওয়ামী লীগের পদধারী ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। জনরোষ থেকে বাঁচতে তারা আত্মগোপনে চলে যান। পরিচালনা পর্ষদের অনুপস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। বেতন বিলে কে স্বাক্ষর করবেন, এ নিয়ে সৃষ্টি হয় জটিলতা।
সার্বিক বিবেচনায় ২০ আগস্ট দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ঐ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক/জেলা প্রশাসকের মনোনীত প্রতিনিধি, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে; এবং মহানগর এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার/বিভাগীয় কমিশনারের মনোনীত প্রতিনিধিকে সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করা হলো। পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত তারা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে শুধু সভাপতিকে অপাসরণ করার পর শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, রাজনৈতিকভাবে তৈরি করা কমিটি থাকার কথা নয়। আমি বলেছিলাম বেসরকারি স্কুল-কলেজের পুরো কমিটিকেই বাতিল করতে, কিন্তু কোনো কারণে বোধহয় শুধু সভাপতিকে বাতিল করা হয়েছে। আসলে পুরো কমিটিকেই বাতিল করার কথা, কারণ এগুলো তো সবই রাজনৈতিকভাবে তৈরি করা কমিটি।
শিক্ষা উপদেষ্টার এই কথার পরেই পুরো কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার কাজ করে শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই কাজের ধারাবাহিকতাতেই শুধু সভাপতি নয় পুরো কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রবিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সমস্যার বিষয়টিতে আমরা অবহিত রয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের কাজ চলছে। বোর্ড চেয়ারম্যানদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার জানান, ‘সব প্রতিষ্ঠানে এডহক কমিটি গঠন করা হবে। জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি হবেন। ছয় মাসের জন্য এই কমিটি গঠন করা হবে। এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।’
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৫/০৯/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
