এইমাত্র পাওয়া

৯০ দিনের শাসন আমলে অন্তত ৫০জনকে শোকজ করেন উইলসের সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ মো. শাহ আলম। রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক এডহক গভর্নিং বডির সভাপতি ও  মুক্তিযোদ্ধা।

শিক্ষকদের কেউ বলেন- অত্যাচারী ফেরাউন, কেউ বলেন নারীলোভী, কেউবা বলেন টাকা খোর, স্বার্থপর খাটাশ প্রকৃতির বিকৃতভাষ্য অমানুষ। তবে প্রায় ৯০ দিনের শাসনামলে এই শাহ আলম হয়ে ওঠেন শিক্ষক -কর্মচারিদের কাছে মুর্তিমান আতঙ্ক।

শিক্ষক-কর্মচারিদের ভাষ্যে, এডহক গভর্নিং বডির সভাপতি থাকাকালীন তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারতেন না। তার সব অপকর্মের প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলেন ক্যান্টিন বয় থেকে প্রমোশন পাওয়া স্কুলের এক শিক্ষক ও অবৈধভাবে প্রমোশন নেয়া কলেজের এক শিক্ষিকা যিনি আর্মি প্রিন্সিপালকে তাড়ানোর নাটের গুরুমা। ৯০ দিনের দায়িত্বে তিনি এখানে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।

শিক্ষকরা দাবি করেন, তার ভাই আওয়ামী লীগ সরকারের জেলার দলীয় সর্বোচ্চ পদ থাকায় বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন শাহ আলম।

 

সরজমিনে জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে বিএনপির পেশাজীবি সংগঠন শিক্ষক কর্মচারি ঐক্যজোটের সমর্থক শিক্ষক  ও সাধারণ শিক্ষক তার কাছে ছিলেন জিম্মি।

কেউ তার বিরুদ্ধে কিছুই বলতে পারতেন না। কারন দর্শানোর নোটিশ (সোকজ), বেতন কর্তন, রুমে ডেকে অপমানি, বিরোধী মত দমন , কথায় কথায় তুচ্ছতাচ্ছিল্য – কী করেননি তিনি? অত্যাচার চালিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের আয়া বোয়ার ওপরও।

একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষাবার্তাকে বলেন, একজন স্বৈরাচার ছিলেন শাহ আলম। শিক্ষকদের

অত্যাচার নির্যাতন করেছেন ক্ষমতায় থাকাকালীন।বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নিতেন। কোন শিক্ষক ফোন করলে তিনি বলতেন প্রিন্সিপাল ও টিআর এর মাধ্যমে আমার সাথে কথা বলতে হবে। প্রটোকল মানতে হবে নতুবা চাকরি ছেড়ে এই প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যান।

আরেক ভুক্তভোগী  শিক্ষিকা বলেন, স্কুলের বাগান ২ কাঠা জায়গার ওপর। এই অল্প জায়গায় আম আর কাঠাল গাছ মিলে ৩২ টা গাছ লাগিয়েছেন। এই গাছ লাগাতে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। এটাকে ঐ শিক্ষিকা পুকুর চুরির সাথে তুলনা করেন।

একজন ভুক্তভোগী অফিস পিয়ন বলেন, ৯০ দিনের শাসন আমলে অন্তত ৫০ জনকে শোকজ দিয়েছেন।  কারো ৩ দিন, কারো ৫ দিন, কারো ১০ দিন আবার কারো ১ মাস, ২ মাস, ৩ মাসের  বেতন কর্তন করেন, যা এক অমানবিক।

একজন ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, অনেকটা স্বেচ্ছাচারিতার মনোভাব ছিল তার। তিনি আরও বলেন, শাহ আলমের শাস্তি হওয়া উচিত। অন্যায়ভাবে বেতন কর্তন,  কথায় কথায় সোকজ এর শিকার হয়েছি। আমরা আদালতের সম্মুখীন হবো শাহ আলমের বিচারের জন্য।

এই বিষয়ে শাহ আলমের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এ/20/০৮/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.