নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বিসিএস প্রিলি লিখিতসহ গুরুত্বপূর্ণ ৩০ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত রেলওয়ের ৫১৬টি পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়েছে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রশ্নফাঁস করে আসছে একটি চক্র।
বিসিএসসহ ৩০টি ক্যাডার ও ননক্যাডার পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কয়েকজন কর্মকর্তা। প্রশ্নফাঁস করে চক্রটি চাকরি দিয়েছে অনেক অযোগ্য প্রার্থীকে। ফলে প্রজাতন্ত্রের কাজে দক্ষ ও উপযুক্ত কর্মচারী নিয়োগের যে উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠান, সেটিই এখন হুমকির মুখে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ নিয়ে যারা সরকারি চাকরি পেয়েছেন তাদের খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, অসদুপায় অবলম্বন করে যারা চাকরি করছেন, তাদের শনাক্ত করতে হবে। তারা প্রজাতন্ত্রের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কোটা আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থীরা যখন মাঠে সরব, ঠিক সে সময় জানা গেল বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন এক যুগ ধরে নিয়মিতভাবে ফাঁস হয়ে আসছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের স্বপ্ন থাকে পড়াশোনা শেষে বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরিতে যোগদান করার। তাদের মধ্যে যেসব মেধাবী প্রশ্নফাঁসের জন্য চাকরিটি পায়নি তাদের দায়ভার কে নেবে?
এর চেয়েও বড় ভয় ও আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে যারা সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তদের নিয়ে।
চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করবে, তারা হয়তো মেধার ভিত্তিতে সুযোগ পাবেন না। ভয়, শঙ্কা ও আশঙ্কা থাকবে প্রশ্নফাঁস হয়ে যায়নি তো? যারা বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে চাকরি পান, তারা মেধাবী-এমনটাই ধরে নেওয়া। সেই জায়গায় দেখা দিয়েছে আস্থাহীনতা।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, প্রশ্নফাঁসে বড় ধরনের চক্র কাজ করছে। ইতিমধ্যে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে। পিএসসি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। চাকরিপ্রার্থীরা উদ্বেগ্ন ও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। জনপ্রশাশন মন্ত্রণালয়কে তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রশ্নফাঁস মূল্যায়নের পরামর্শ দেন এই শিক্ষাবিদ।
তিনি বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এরসঙ্গে যুক্ত। চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের শঙ্কামুক্ত করতে হবে। কী ঘটেছিল তা বিস্তারিত জনসম্মুখে তুলে ধরতে হবে।
অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, অসদুপায় অবলম্বন করে যারা চাকরি করছে, তাদের শনাক্ত করতে হবে। তারা প্রজাতন্ত্রের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, ৩৩ থেকে ৪৬তম বিসিএস পর্যন্ত যেসব কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের খুঁজে বের করতে হবে। ১২ বছরে যত পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে কী হবে বুঝতে পারছি না।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/জামান/১০/০৭/২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
