এইমাত্র পাওয়া

বন্যায় ষাণ্মাসিক মূল্যায়ন নিতে পারছেনা অনেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়

শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: অতিরিক্ত বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অন্তত ১০৬১ স্কুলে পাঠদান সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব স্কুলের চারপাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে পানি ঢুকেছে। পাঠদানের কোনো পরিবেশ নেই এসব বিদ্যালয়ে। একই কারণে ষাণ্মাসিক পরীক্ষা নিতে পারেনি অনেক বিদ্যালয়। শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতির উন্নতির সাথে সাথে পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। জেলার অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে চর এলাকা। এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়েছে দুই লক্ষাধিক মানুষ। একই কারণে জেলায় ৩৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা বিভাগ। নদ-নদীর তীরবর্তী এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানি নেমে পাঠদানের উপযোগী হলে খুলে দেওয়া হবে বলে জেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, বন্যা পরিস্থিতির কারণে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। যেসব পরীক্ষার্থী প্রতিকূল এলাকায় বসবাস করে তাদের জন্য একটি বিশেষ সহায়তা সেল খোলা হয়েছে। এখানে আবেদন করলেই তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

বগুড়া : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বন্যার পানি প্রবেশ করায় ৪৫টি প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান। উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা জানান, সারিয়াকান্দিতে যমুনার পানিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে এরকম ৪৫টি প্রতিষ্ঠানে আপাতত পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪০টি এবং বাকি পাঁচটি মাধ্যমিক। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারও পাঠদান শুরু হবে।

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) : জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে উপজেলার নিম্নাঞ্চল। নষ্ট হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের জমি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এ উপজেলার প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ৩২টি প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে নিম্ন ও চরাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

রবিবার দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও সরিষাবাড়ীর জগন্নাথগঞ্জ ঘাটে ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডে পানি পরিমাপক আবদুল মান্নান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বন্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি আছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত।

জামালপুর: জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার কমে রবিবার সকাল থেকে বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানিবন্দি হয়ে আছে জেলার ৭ উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।

ডুবে আছে দুর্গত এলাকার ২৫৯টি সরকারি প্রাথমিক ও ৯২টি মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন খান জানান, বন্যার পানির জন্য জেলার ২৫৯ বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ। পানি কমে গেলে বিদ্যালয়গুলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঠদান উপযোগী করে চালু করা হবে বলে জানান তিনি। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম মোজাম্মেল হাসান জানান, বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে ৯২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ। পাশাপাশি ৬৪টি বিদ্যালয়ের মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়াও সম্ভব হয়নি। পানি কমে গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পাঠদান শুরু হবে বলে জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ : গত তিন-চার দিনে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সিরাজগঞ্জের ৭৮টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিমজ্জিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। রবিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, জেলার ৫ উপজেলার ৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা মিলে জেলার ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এ কারণে পাঠদানসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধার চার উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের ৮১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭০টি প্রাথমিক ও ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করায় এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

রবিবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম।‌ তিনি বলেন, সাত দিন ধরে জেলার চার উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়েছে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। প্লাবিত এলাকার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের চারদিকেই এখন শুধু পানি। এর মধ্যে বেশকিছু স্কুলের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কেউই স্কুলে আসতে পারছে না। এ কারণে ৮১টি প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

লালমনিরহাট : লালমনিরহাটে পানিবন্দি ১০ হাজার পরিবার। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা ও ধরলার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পানি লালমনিরহাটের নিচু এলাকায় প্রবেশ করেছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার চর ও নিম্নাঞ্চলে তিস্তার তীরবর্তী অন্তত ১০ হাজার পরিবার এখন পানিবন্দি। এসব এলাকার ফসলের ক্ষেত ও রাস্তাঘাটও তলিয়ে গেছে। বিদ্যালয়গুলোতে পানি থাকায় বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।

লালমনিরহাট জেলা প্রাইমারি শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় জানান, জেলায় বন্যায় প্লাবিত হয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে, এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৫। এর মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ৩টি। পানি নেমে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করা হবে।

সুনামগঞ্জ : দ্বিতীয় দফায় বন্যার কারণে জেলার ৮৮ বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ৩৮টি ও মাধ্যমিক ৫০টি। বন্ধ থাকা অনেক বিদ্যালয়ের আঙিনায় এখনও পানি। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে এই পরিস্থিতি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক কর্মকর্তা মোহন লাল দাস ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, রবিবার পর্যন্ত বন্যার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। স্কুলের মাঠে, রাস্তাঘাটে এখনও বন্যার পানি রয়েছে। বিশেষ করে ছাতক এবং জগন্নাথপুর উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেশি প্লাবিত হয়েছে। তবে শুক্রবারের পর বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ষাণ্মাষিক পরীক্ষা শুরু হবে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৭/০৭/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.