শিক্ষা ও চিকিৎসা থাকা উচিত সরকারি খাতে: প্রাণ গোপাল দত্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: কুমিল্লা-৭ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেছেন, সবচেয়ে ব্যয়বহুল হচ্ছে স্বাস্থ্য খাত।

যেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা উপকরণের দাম আকাশচুম্বী। নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের ভাষায়— শিক্ষা ও চিকিৎসা থাকা উচিত সরকারি খাতে। একে বেসরকারিকরণ করা হলে শিক্ষা ও চিকিৎসার কোনও গুণগত মানের পরিবর্তন হয় না। তখন সেটা হয়ে যায় একটা পণ্য। এখন পৃথিবীজুড়ে এটা পণ্য হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে আপনার টাকা আছে চিকিৎসা পাবেন, টাকা না থাকলে চিকিৎসা পাবেন না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য দেখার কিছু নেই

প্রাণ গোপাল দত্ত বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা উন্নতির জন্য চিকিৎসকদের বেতন-ভাতার পাশাপাশি গবেষণা, আবাসনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।

শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপরে আলোচনায় অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব করেন।

তিনি মোবাইল ফোনের অপব্যবহারের কারণে নতুন প্রজন্ম প্রতিবন্ধী হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কোনও একটা অ্যাপ তৈরি করে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলে মোবাইল টাওয়ারগুলো নিষ্কিয় করা যায় কিনা?

অথবা সেই মোবাইল টাওয়ার যাতে ফ্রিল্যান্সিং বা বিদেশি মুদ্রা অর্জনের বিকল্প পথ ছাড়া অন্যান্য কোনও ক্ষেত্রে ব্যবহার না হয়, সেক্ষেত্রে আমাদের নজর দেওয়া উচিত। না হয় আমার রোগীর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, ১০ বছর বয়সী থেকে শুরু করে সবার একটাই কথা— কান শোঁ শোঁ করে, ভোঁ ভোঁ করে। কানে শুনি না, লেখাপড়ায় মন দিতে পারি না। তাই এমন কোনও কিছু আবিষ্কার করা উচিত, যাতে করে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত আমাদের তরুণ প্রজন্ম এ প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় কালো ও সাদা টাকা নিয়ে কথা বলি। কিন্তু ইনফরমাল গ্রে-মানি (কর ফাঁকি সম্পর্কিত) অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি, যার ট্যাক্স দেওয়া হয় না। যাকে কোনও অবস্থানে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সেটা নিয়ে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় কিছু বলেননি। গ্রে-মানি অপ্রদর্শিত আয়ের চেয়েও অনেক খারাপ। একে সংকুচিত না করা হলে অর্থপাচার বন্ধ করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, কর দিয়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বৈধ করদাতাদের কর প্রদানে অনীহা তৈরি হবে। বাজেটে সাদা ও কালোটাকা নিয়ে কথা হয়েছে। একজন করদাতা হিসেবে আমার ৩০ লাখ টাকা থাকলে ৩০ শতাংশের বেশি কর দিতে হচ্ছে। কিন্তু যিনি গত বছর টাকা দেখাননি, ১৫ শতাংশ কর দিয়ে সেই অপ্রদর্শিত আয়কে বৈধ করে নিচ্ছেন। এতে করে সঠিক করদাতারা কর দিতে অনিচ্ছা পোষণ করবেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.