এইমাত্র পাওয়া

সেশনজটে স্থাপত্য বিভাগ, উপাচার্য বললেন ‘শিক্ষার্থীরা বেয়াদব’

গোপালগঞ্জঃ দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ সেশনজটে ভুগছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একদিকে শিক্ষক সংকট, আরেকদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অবহেলার অভিযোগ। এ বিষয়ে বছরের পর বছর ধরে ভুক্তভোগী কয়েকশ শিক্ষার্থী উপাচার্য দফতরে বারবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেও সমাধান মিলেনি।

জানা যায়, সেশনজটের কারণে অ্যাকাডেমিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া, ফলাফল প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রিতা এখন যেন স্বাভাবিক ব্যাপার। ফলে চাকরির বাজারে পিছিয়ে পরছেন এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিভাগটির পাঁচ ব্যাচের ১৫০জন শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে। অন্য তিনজন খণ্ডকালীন শিক্ষকের অস্থায়ী নিয়োগের অনুমোদন হলেও দাফতরিক প্রক্রিয়ায় তাও দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতক শেষ হলেও, স্থাপত্য বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের চলতি মাসে তৃতীয় বর্ষ শেষ হয়েছে। এছাড়াও ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের তৃতীয় বর্ষে থাকার কথা থাকলেও তারা পড়ছেন দ্বিতীয় বর্ষে। আবার ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা গত দুই বছরেও শেষ করতে পারেনি তাদের প্রথম বর্ষ। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের গত ডিসেম্বরে প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হলেও দ্বিতীয় সেমিস্টারের পাঠদান শুরু হয় চলতি মাসে। পাশাপাশি ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের পাঠদান গত নভেম্বরে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় চলতি মাস থেকে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ থাকা ও তাদের ডিজাইনের কাজ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, স্থাপত্য বিভাগের মতো বাস্তবধর্মী বিভাগের শিক্ষার্থী হয়েও তারা পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ না পাওয়ায় আশাহত। চলমান সংকট সমাধানের দাবিতে ১০বারের বেশি সময় উপাচার্যের কাছে গেলেও তাদের দাবি আদায়ের বিষয়ে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

এ বিষয়ে স্থাপত্য বিভাগের সভাপতি ড. সালেহ আহমেদকে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

স্থাপত্য বিভাগের আরেক শিক্ষক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, শ্রেণিকক্ষের অভাবে একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুমে বসতে দিতে না পারা ও শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি লজ্জাজনক। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দলিলুর রহমান বলেন, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে আমাদের কমিটি আছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা এসব সংকট সমাধানে কাজ করছি। কিন্তু ঐ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বেশ বেয়াদব। তারা তাদের দাবি আদায়ে আমাকে ও উপ-উপাচার্যকে আটকে রেখে আন্দোলন করতে চায়। বিষয়টি বেমানান।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/৩১/০৩/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.