শিক্ষক সংকটে ক্লাস বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা প্রাইভেটে

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। এই কলেজে শিক্ষকের পদ রয়েছে ৮১টি, রয়েছেন মাত্র ৫৪ জন।

এরমধ্যে ৭ জন অধ্যাপক, ৪ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ১৭ জন প্রভাষকের পদ শূন্য রয়েছে বহুদিন ধরে। বাস্তবে শিক্ষার্থী অনুপাতে আরও ১৪৯ জন শিক্ষকের প্রয়োজন।

এই তথ্য নিশ্চিত করে কলেজটির অধ্যক্ষ ড. মাযহারুল ইসলাম তরু বলেছেন- এই হিসাব দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। জানা যায়, ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজ ১৯৭৯ সালে সরকারিকরণ করা হয়। কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি।

১৪টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও চারটি বিষয় স্নাতকোত্তর পড়ানো হয়। রয়েছে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক (পাস) কোর্স। শিক্ষক সংকটের কারণে কোনো শ্রেণিতে ঠিকমতো ক্লাস নেয়া সম্ভব হয় না। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। তবে শিক্ষার্থীর অনুপাতে শিক্ষক সংকট প্রকট।

এ অবস্থা চলছে বহু বছর ধরে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়তে বাধ্য হচ্ছেন। উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের কোর্স দুই বছরের। কিন্তু ক্লাস হয় এক বছর। বছর জুড়েই কোনো না কোনো পরীক্ষা লেগেই আছে কলেজে।

পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা ক্লাস নিতে পারেন না। এতে সিলেবাস সম্পন্ন হয় না। বাধ্য হয়েই তাদের প্রাইভেট পড়তে হয়। এমনকি উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণিবিদ্যার মতো বিষয়গুলো প্রাইভেট না পড়েও যেখানে চালানো যায়, এসব বিষয়েও ক্লাস না হওয়ায় প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজে অর্ধবার্ষিক, বার্ষিকসহ অন্য পরীক্ষা থাকলে ক্লাস হয় না বললেই চলে। আর ক্লাস হয় না বলে স্নাতকের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কলেজে আসার ও ক্লাস করার প্রবণতাও কম। এজন্য কলেজে এক-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থীও দেখতে পাওয়া যায় না।

গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, তার বিভাগে শিক্ষকের ছয়টি পদের মধ্যে আছেন দু’জন। জোড়াতালি দিয়ে চলছে বিভাগ। অন্যদিকে উচ্চমাধ্যমিকের দুটি বর্ষের চারটি শাখায় পড়াতে হয়। ঠিকমতো কোনোটাই হয় না। হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন এক হাজার। সবমিলিয়ে ১ হাজার ৬৫০ শিক্ষার্থীর জন্য আছেন মাত্র দু’জন শিক্ষক।

এ বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক আবদুল খালেক চৌধুরী বলেন, দু’জন শিক্ষক মিলে ক্লাস নিই। বেছে বেছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়াই। এ বিষয়ে উপাধ্যক্ষ জানান, যেসব বিভাগে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে, সেসব বিভাগে দু’জন অধ্যাপক, ৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৬ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৪ জন প্রভাষক মিলিয়ে মোট ১৬ জন শিক্ষক দরকার।

অধ্যক্ষ সৈয়দ মো. মোজাহারুল ইসলাম জানান, বাস্তবে শিক্ষার্থী অনুপাতে আরও ১৪৯ জন শিক্ষকের প্রয়োজন। এরমধ্যে ২০ জন অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ৪৯ জন, সহকারী অধ্যাপক ৬৫ জন ও প্রভাষক ২২ জন। এই হিসাব দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/জামান/২৬/০৩/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.