বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটির প্রথম সভা আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বেলা ১১টায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন কমিটির একজন সদস্য। এর মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার এই নীতিমালা সংশোধনের ক্ষেত্রে দশ দফা দাবি কমিটির কাছে পেশ করেছেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা।
নন-এমপিও শিক্ষকদের অভিযোগ, এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় দেড় বছরেও যাচাই-বাছাইয়ে ত্রুটিমুক্ত তালিকা তৈরি করতে পারেনি কমিটিগুলো। ফলে সরকারি আদেশের পরও ফের এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাচাইয়ে নতুন
কমিটি করতে হয়েছে মন্ত্রণালয়কে। এর আগের ত্রুটিপূর্ণ নীতিমালা নিয়ে নন-এমপিও শিক্ষকদের আপত্তি ছিল। এমপিও ঘোষণার আগে নীতিমালা সংশোধন না করে এখন তা সংশোধনের উদ্যোগ কেন নেওয়া হয়েছে, এখন এমন প্রশ্ন তাদের। তাই তারা দশ দফা দাবি পেশ করেছেন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটির কাছে।
কমিটির সদস্য এবং নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের পক্ষ থেকে দশ দফা লিখিত দাবি জমা দেওয়া হয়েছে। তাদের বিষয়গুলো নিশ্চয়ই বৈঠকে আলোচনা হবে। তবে এখনই বলা যাচ্ছে না কোন বিষয় সংশোধন হবে। কমিটি আলোচনা-পর্যালোচনা করে সুপারিশ করবে মাত্র; কিন্তু চূড়ান্ত সংশোধনের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সভাপতি সাইদুল হাসান সেলিম জানান, গতকাল মঙ্গলবার সংগঠনের নেতারা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ সংশোধনী কমিটির কাছে তাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করেছেন।
দশ দফা দাবি হচ্ছে-
# বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদর অনুপাত প্রথা বাতিল করে সরকারি নিয়মে তাদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে হবে ও পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকদের আগের মতো (২০১০-এর নীতিমালা) চাকরির আট বছর পূর্তিতে নবম গ্রেড থেকে সপ্তম গ্রেড প্রদান
# কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে প্রভাষকদর প্রারম্ভিক গ্রেড ৯-এর পরিবর্তন ৮ করে ১০ বছর সপ্তম গ্রেড এবং ১৬ বছর ষষ্ঠ করা
# নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে পাবলিক পরীক্ষার্থীর ন্যূনতম সংখ্যা ৪০ জন এবং পাসের হার ৭০ শতাংশ বাধ্যতামূলকের আইন বিলুপ্ত করতে হবে
# গভর্নিং বডি ও ম্যানজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি করতে হবে
# অবিলম্বে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলির নীতিমালা প্রনয়ণ ও তা দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে
# শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন বা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে তা দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা
# প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের মতো সহকারী শিক্ষক/প্রভাষক পদের অভিজ্ঞতা বহাল রাখতে হবে
# সরকারি স্কুল কলেজের গ্রন্থাগারিকদের মর্যাদার মতো বেসরকারি স্কুল-কলেজের গ্রন্থাগারিকদের দিতে হবে শিক্ষকের মর্যাদা
# ২০০৯ এবং ২০১৩ এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষকতায় ৮ এবং ১২ বছরে দুটি উচ্চতর গ্রেড দিতে হবে
# নিরসন করতে হবে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতনবৈষম্য
# যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় শিক্ষানীতি, এমপিওভুক্তি ও জনবল নীতিমালা অনুসারে শিক্ষা আইন চূড়ান্ত করতে হবে।
এর আগে গত ১২ নভেম্বর বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংশোধনে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এক মাসের মধ্যে এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করতে বলা হয় এ কমিটিকে। এই কমিটিতে নন-এমপিও শিক্ষক নেতারাও সদস্য হিসেবে আছেন। স্কুল-কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংস্কারে সরকারের কাছে সুপারিশ করবে কমিটি।
গত ২৩ অক্টোবর এমপিওভুক্তির এক আদেশে ২ হাজার ৭৩০টি (নিম্ন-মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও সুবিধা দেওয়ার আগে আরেক দফা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
