এইমাত্র পাওয়া

রাবির অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা পাবেন না স্বাধীনতা দিবসের ‘বিশেষ খাবার’

রাজশাহীঃ গত বছরের ন্যায় এবছরো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা পাবেন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘বিশেষ খাবার’। ১৭টি হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হল থেকে স্বল্পমূল্যে টোকেন সংগ্রহ করে এই খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে এবছরো বঞ্চিত হচ্ছেন অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২৩ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ও শহিদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যাক্ষ অধ্যাপক ড. একরামুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ড. একরামুল বলেন, অন্য বছরগুলোর মতো এবারো স্বাধীনতা দিবসে হলগুলোতে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকছে। স্বাধীনতা দিবসে স্বল্পমূল্যে বিশেষ খাবার পাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ঐদিন বিকেলে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ খাবার বিতরণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা হল থেকে আইডি কার্ডের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে টোকেন সংগ্রহ করে খাবার নিতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, খাবার হিসেবে রোস্ট, পোলাও, ডিম, মুগ ডাল, খেজুর ও ড্রিংকস পাবে শিক্ষার্থীরা। বিশেষ এ খাবারের টোকেন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা। হলগুলোতে স্বাধীনতা দিবসে সাধারণত দুপুরের খাবার দেয়ার রেওয়াজ থাকলেও এ বছর রমজানের কারণে রাতের খাবার দেয়া হবে।

এদিকে আবাসিক হলে স্বাধীনতা দিবসে খাবারের সর্বজনীন ব্যবস্থা চেয়ে গত বুধবার (২০ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে আবাসিক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল সাতটি ছাত্র সংগঠন।

যৌথ বিবৃতি দেওয়া ঐ সাতটি ছাত্র সংগঠন হলো- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি শাকিল হোসেন, ছাত্র ইউনিয়নের আহ্বায়ক জান্নাতুল নাঈম, নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মেহেদী হাসান মুন্না, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক তারেক আশরাফ, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সমু চাকমা এবং ছাত্র গণমঞ্চের সমন্বয়ক নাসিম সরকার।

বিজ্ঞপ্তিতে যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন- ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রশাসন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্যে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে। যদিও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা না পাওয়াটাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরই ব্যর্থতা। বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের এমন বৈষম্যমূলক আচরণ প্রশ্ন তৈরি করে তাহলে স্বাধীনতা দিবস কি শুধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য? এই বৈষম্য প্রমাণ করে, এই প্রশাসন মুখে স্বাধীনতার কথা বললেও অধিকারে স্বাধীনতা সর্বজনীন হোক এটা চায় না। প্রতিবছর ইন্টারনেট ফি থেকে শুরু করে হলের যাবতীয় ফি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পরিশোধ করতে হয়।’

তারা আরো বলেন, ‘একদিকে যেমন বিপুল সংখ্যক অনাবাসিক ছাত্রদের নিয়ম-মাফিক আবাসন দিতে ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার উপর বিভিন্ন বিষয়ে এইধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার তৈরি করছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার তীব্র নিন্দা জানাই। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, সব প্রকার মূল্যমান পরিহার করে ভর্তুকি দিয়ে অবিলম্বে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ খাবারে সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার।’

এ প্রসঙ্গে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. একরামুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে খাবারের চেয়ে বড় বিষয়টি হলো হলের শিক্ষার্থীরা, যারা একসাথে থাকছে তাদের মধ্যে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা পায় না কারণ ম্যানেজমেন্টের একটি বড় বিষয় থাকে। তবে, যখন হল সমাপনীর আয়োজন করা হয় তখন অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও খাবার পেয়ে থাকে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৩/০৩/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.