এইমাত্র পাওয়া

ফেসবুকে নেতিবাচক মন্তব্যের জেরে খু*ন ছাত্রলীগনেতা, দুজন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

প্রায় দেড় বছর আগে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন নাগরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান খান ঝলক। সেখানে নেতিবাচক মন্তব্য করেন সলিমাবাদ গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে প্রবাসী আকাশ। এ নিয়ে আকাশের বাবা ও ভাইদের সঙ্গে ঝগড়া হয় জাহিদের। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক করা হয়। তারপরও থেকে যায় সেই বিরোধের রেশ। সেই বিরোধের জের ধরেই সোমবার (১৮ মার্চ) রাতে জাহিদ হাসান খান খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

নিহত জাহিদ সলিমাবাদ মধ্যপাড়ার ছামিনুর রহমান খানের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইলের সরকারি এম এম আলী কলেজের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোমবার রাতে জাহিদ তারাবি নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় মাঠের কাছে ফাঁকা একটি জায়গায় এলে সন্ত্রাসীরা তাকে কোপানো শুরু করে। জাহিদের চিৎকারে তার পক্ষের লোকজন এগিয়ে আসে। তারা সন্ত্রাসীদের ওপর পাল্টা হামলা করে। এ সময় সন্ত্রাসীদের কয়েকজন আহত হয়। আহত জাহিদকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার রাতেই নিহত জাহিদের বাবা ছামিনুর রহমান খান বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামি রানা, জিহাদ ও ইমনকে ওই রাতেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার জিহাদ ও ইমনকে টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত দুজনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেপ্তারকৃত রানা আহত হওয়ায় পুলিশি পাহারায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত জাহিদের ওপর হামলার সময় আহত হয় রানা।

নাগরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাসান জাহিদ বলেছেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, ফেসবুকে নেতিবাচক মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে রানা ও জিহাদের বড় ভাই আকাশের সঙ্গে জাহিদের বিরোধ হয়েছিল। এ নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

সলিমাবাদ গ্রামের আব্দুল লতিফ জানান, ফেসবুকের স্ট্যাটাস নিয়ে জাহিদের সঙ্গে আকাশের বিরোধ হয়। জাহিদের পক্ষের লোকরা আকাশের বাবা ও দুই ভাইকে মারপিট করেছিল।

সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম খান অপু জানিয়েছেন, রাজনৈতিক বিরোধ থেকে এ হত্যাকাণ্ড হয়নি। জাহিদের সাথে রফিকুল ইসলামের ছেলেদের বিরোধ ছিল। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। সেই বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে জাহিদ হাসান খানের ময়নাতদন্ত হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়নি। সন্ধ্যার পর তাকে নিজ গ্রামে দাফন করার কথা।

নাগরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাসান জাহিদ জানিয়েছেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/জামান/২০/০৩/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.