এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষকরা অর্থ সংকট নিয়ে ক্লাসে পড়াবে কীভাবে

 সিমরান জামান।।

শিক্ষকরা সবার শ্রেষ্ঠ, তাদের আদর্শ ধারণ করেই ছাত্ররা গড়ে ওঠে। এক সময় দেশ-সমাজ পরিচালনা করে তাদের ছাত্ররাই। কিন্তু সেই শিক্ষকরা এখন অর্থ সংকটে। যথাযথ সম্মান-মর্যাদা পাচ্ছেন না।

আবার সাম্প্রতিককালের কিছু কিছু ঘটনা এ ধারণাই দেয়—শিক্ষকদের কেউ কেউ মূল আদর্শ থেকে দূরে সরে গেছেন। যার কারণে এখন শিক্ষকসমাজ সমালোচনার মুখে পড়েছে।

শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষকরা নানা বৈষম্যের শিকার। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষকরা ঠিকমতো বেতন-ভাতা পান না। এ কারণে আর্থিক অনটনে দিন কাটে তাদের। অর্থের সঙ্গে সম্মান-মর্যাদা জড়িত। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় সমাজের কাছে তাদের সম্মানহানি ঘটছে। মর্যাদা হারাচ্ছেন।

দেশে বেসরকারি কলেজে ৫ হাজার ৫০০ অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষক বিনা বেতনে প্রায় ৩০ বছর ধরে পাঠদান করে যাচ্ছেন। এমপিওর জন্য কত আলোচনা, দফায় দফায় কত বৈঠক হয়েছে। মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি, কত স্মারকলিপি, কত আশ্বাস। কিন্তু  এখনো শূন্য হাতে।

এই শিক্ষকদের মতো নন-এমপিও স্কুলের শিক্ষকদের অবস্থাও। বেতন-ভাতা না পেয়ে কষ্টে দিন কাটছে তাদের। দাবি আদায়ে আন্দোলন করেছেন। কিন্তু অর্থসংকটের কথা বলে এমপিভুক্ত করা হয়নি তাদের। আবার জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরাও ভালো নেই।  দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেও কোনো ফল হয়নি। আবারও আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

  রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে অবক্ষয় হয়েছে। শিক্ষকরাও এর বাইরে নন।  শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা কম। এ কারণে শিক্ষকরা অর্থের জন্য এদিন-ওদিক ছোটাছুটি করেন।

শিক্ষকদের অভাব এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকে প্রভাবিত করছে। ইউনেস্কো ইনস্টিটিউট ফর স্ট্যাটিস্টিকস (ইউআইএস) এর রিপোর্ট অনুসারে, ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য (এসডিজি-৪.১) বিশ্বব্যাপী ৬৯ মিলিয়ন আরো শিক্ষক প্রয়োজন; প্রাথমিকের জন্য ২৪ মিলিয়ন এবং মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য ৪৪ মিলিয়ন। সাব-সাহারান আফ্রিকাতে শিক্ষক সংকট সবচেয়ে তীব্র, যেখানে শিক্ষক সংকট রয়েছে ৭০% প্রাথমিক স্তরে এবং ৯০% মাধ্যমিক স্তরে (ইউয় আই ইএস-২০১৬)।

এখনি এ সংকট দূর করতে না পারলে আগামী ৩০ বছরে এ অঞ্চলটি এক মহা শিক্ষা সংকটে পড়বে। জনসংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে, ইউআইএস এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সাব-সাহারান আফ্রিকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১৭ মিলিয়ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন, দক্ষিণ এশিয়ার ১৫ মিলিয়ন এবং উন্নত দেশগুলিতে ১১ মিলিয়ন নিয়োগ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মাধ্যমিক শাখা সূত্র জানায়, সারা দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৫১টি। এসব প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষকের মোট সৃষ্ট পদ রয়েছে ১০ হাজার ৯০৪টি। এর প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষকের পদই শূন্য রয়েছে। প্রাথমিকের অবস্থা আরও শোচনীয়।

২০৩০ সালের এসডিজি লক্ষমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করার জন্য তাদের পূর্ণ সমর্থন দিতে হবে এবং শিক্ষা পুরুদ্ধারের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/জামান/১৭/০৩/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.