এইমাত্র পাওয়া

ঢাকা মেডিকেলের নতুন ভবনে ময়লার স্তূপ

ঢাকাঃ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ওয়ার্ডের সঙ্গে বারান্দায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখা যায়। সেই ময়লা-আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে ভর্তি থাকা রোগীদের ওয়ার্ডে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডের সঙ্গে বারান্দায় হাসপাতাল থেকে বরাদ্দকৃত ময়লার ঝুড়ি ভেদ করে মেঝেতে ময়লা পড়ে এক প্রকার ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে।

শনিবার (৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের ৭০১ নম্বর ওয়ার্ডের বামদিকের বারান্দায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখা যায়। এ ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে আছে রোগীদের জন্য বাথরুম। কোনো উপায় না পেয়ে ময়লা-আবর্জনা পাড়া দিয়েই রোগীদের যেতে দেখা যায় বাথরুমে। এ ছাড়া ওই ওয়ার্ডের অপর পাশে আরেকটি বারান্দার সঙ্গে আরও একটি বাথরুম আছে। সেখানেও রাখা আছে ময়লা ভর্তি ঝুড়ি।

ময়লা-আবর্জনার স্তূপের পাশে ওয়ার্ডের ভর্তি থাকা এক রোগীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও স্বজনরাই সেখানে ময়লা ফেলত ফেলতে স্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে হাসপাতাল থেকে বরাদ্দকৃত ময়লার ঝুড়ি আছে। সেই ঝুড়ি ভেদ করে ময়লা নিচে পড়ে স্তূপে পরিণত হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওই রোগী বলেন, হাসপাতালের লোকজন যখন পরিষ্কার করে তখন একবারে সব পরিষ্কার করে, তারপর দুয়েকদিন খবর থাকে না। এভাবে জমতে থাকা ময়লা থেকে ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধ। দুর্গন্ধের মধ্যে থেকে আমাদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

ময়লার স্তূপের ছবি তোলার সময় সেখানে উপস্থিত হন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (পদবি সরদার) জাহাঙ্গীর। তিনি জানান, এত বড় ওয়ার্ড। অনেক রোগীর পাশাপাশি জনবল সংকট। ওয়ার্ডে সরকারি কর্মচারী আছে তিনজন। দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন দুইজন। ওদের নিয়ে সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হয়।

এছাড়া ১০ তলা নতুন ভবনে ভর্তি থাকা প্রতিটি ওয়ার্ডেই ময়লা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। অপর একটি সূত্র জানায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও নতুন ভবনের নিচতলায় গিয়ে দেখবেন চকচকে-ঝকঝকে। সেখানে একটু পরপরই পরিষ্কার করা হয়। কারণ সেখান দিয়ে প্রশাসনের লোকজনসহ অন্যদের আনাগোনা দেখা যায়। আর হাসপাতালের ভেতরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন ময়লা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। জনবল সংকটের কথা বলে নিজের কাজকে ফাঁকি দেওয়ার কোনো মানে নেই।

ওই সূত্রটি মনে করে, এখানে সবচেয়ে বেশি কাজের গাফিলিতি থাকে ওয়ার্ড মাস্টারদের। তারা যদি শক্ত হাতে কাজের মনিটরিং করে তাহলে কখনোই এ রকম ময়লা জমতে পারে না।

নতুন ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার মো. জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ময়লা তো জমে থাকার কথা নয়। বিষয়টি দেখছি।

ময়লা জমে থাকার বিষয়টি হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানকে অবগত করা হলে তিনি বলেন, আমি এখনই খোঁজ নিচ্ছি।

এদিকে পরিচালককে বিষয়টি জানানোর পর নতুন ভবনে জমে থাকা ময়লা দ্রুত পরিষ্কার করেন হাসপাতালের লোকজন।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১০/০৩/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.