নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলীর ডাঃ ফজলুল-হাজেরা ডিগ্রী কলেজের উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভুত বেতন আদায় করে গত ১০ বছরে অন্তত ২০ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ করা হলেও কোন ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের থেকে বেতন আদায়, উপবৃত্তি প্রাপ্তির যোগ্য শিক্ষার্থীকে বাদ দিয়ে সাবেক উপাধ্যক্ষের মেয়েকে উপবৃত্তির তালিকায় অন্তভূর্ক্তিকরণ, কলেজটির সাবেক উপাধ্যক্ষ ও বর্তমান নিয়ম বহির্ভূত উপদেষ্টার অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ একাধিক অনিয়ম নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ইং তারিখে ‘ডাঃ ফজলুল-হাজেরা ডিগ্রী কলেজ: ১০ কোটি টাকার সম্পদ শিক্ষক স্বপনের!’ শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশিত হলেও কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি ডাঃ মোঃ আরিফুল আমীন এই অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ তো করেনই নাই বরং শিক্ষাবার্তা’র হাতে উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের থেকে বেতন উত্তোলনের বিষয়টি কিভাবে আসল সেটা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে তোলপাড় শুরু করেছেন। একজনেরও চাকরি থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী শিক্ষাবার্তা’কে জানিয়েছে, শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে কিভাবে ডকুমেন্টস গুলো গণমাধ্যমে গেলো সেটা নিয়ে অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি থাকবে না বলে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা বলছে, “সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বা বেতন মওকুফ থাকবে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অনুকূলে স্কিম ডকুমেন্ট মোতাবেক নির্ধারিত হারে টিউশন ফি বা বেতন দেওয়া হয়। উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনোক্রমেই টিউশন ফি বা বেতন আদায় করা যাবে না।” অর্থ্যাৎ যে সকল শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পান তাদের বেতন সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সরবরাহ করেন। ডাঃ ফজলুল-হাজেরা ডিগ্রী কলেজের (একাদশ-দ্বাদশ) শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ৪০০ টাকা এবং ডিগ্রিতে পড়ুয়াদের মাসিক বেতন ৪৩০ টাকা । উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা একশত। উপবৃত্তি প্রাপ্ত এই শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বেতন ৪০০ ও ৪৩০ টাকা আদায় করা হয়। অন্যদিকে সরকার উপবৃত্তি প্রাপ্ত এই একশত শিক্ষার্থীদের অনুকূলে অর্থ প্রদান করলেও সেই অর্থও আত্মসাৎ করা হচ্ছে।। অর্থ্যাৎ উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বেতন নেওয়া নিষধ থাকলেও তা নেওয়া হচ্ছে এবং সরকার উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অনুকূলে প্রদান করা অর্থও আত্মসাৎ করছে কলেজ প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ
- “ডাঃ ফজলুল-হাজেরা কলেজ: সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ স্বপন এখন প্রশাসনিক কর্তা“
- ৩য় বিভাগে ডিগ্রী পাসেই ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাহমিনা
- ডাঃ ফজলুল-হাজেরা ডিগ্রী কলেজ: ১০ কোটি টাকার সম্পদ শিক্ষক স্বপনের
জানা গেছে, কলেজটির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্বপন কুমার নাথ পাঠদানের শর্তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক্সটেনশন করলেও একদিন ক্লাস না করেও ২০ হাজার টাকা বেতন নিয়ে কলেজের উপদেষ্টা হিসেবে চেয়ার দখল করে আছেন। স্বপন কুমার নাথ উপাধ্যক্ষ হিসাবে কলেজটিতে ২০০৯ সালে যোগদান করে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে তার মেয়ে মন্দিরা নাথ, রোলঃ ২০২, বিএসএস, শিক্ষাবর্ষ ২০১২-১৩। একই কলেজে ছাত্রী হিসাবে উপবৃত্তি পাইয়ে দেন। যেখানে শর্ত হলো শিক্ষার্থীর পিতার জমির পরিমান ০.২ শতকের কম ও বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম হতে হবে। কিন্তু উপাধ্যক্ষ হিসেবে স্বপনের মাসিক বেতন ছিল সেসময় ৪০ হাজার টাকার ও বেশি ছিল। সে হিসাবে বার্ষিক আয় ৫,০০,০০০ টাকার বেশি। ভূমি আছে ৩০ শতক, ৩ তলা একটি বাড়ি, ঔষধের ফার্মেসী এবং একটা মার্কেট রয়েছে। যার বাজার মূল্য অন্তত ১০ কোটি টাকা। এই স্বপন কুমার নাথ কলেজটির ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করার পর থেকেই উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের থেকেও সমপরিমাণ মাসিক বেতন আদায় শুরু করেন। যা তিনি বর্তমান উপদেষ্টা হিসেবেও একই কাজ করে যাচ্ছেন।
উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বেতন সরকার প্রতিষ্ঠান অনূকূলে প্রদান করে থাকলেও কেন এই বেতন আদায় করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কেন কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি ডাঃ মোঃ আরিফুল আমীন মোবাইল ফোনে কথা বলতে অপারগতা জানান। উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের থেকে বেতন আদায়ের বিষয়টি তিনি পাস কাটিয়ে বিধির বাইরে কোন কাজ করা হয়না উল্লেখ করে বলেন, আমি কলেজ নিয়ে বসে থাকি না আমার অন্য কাজ আছে। আপনি কলেজে আসেন অধ্যক্ষের রুমে বসে কথা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম খীসা শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের থেকে বেতন নেওয়ার সুযোগ নেই। বিধি লঙ্ঘন করে কোন কিছু করার সুযোগ দেওয়া হবে না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক অধ্যাপক রেজাউল করিম শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, এই বিষয়ে আপনার কাছে এ সংক্রান্ত কোন ডকুমেন্টস থাকলে আমাকে সরবরাহ করেন। অনিয়ম হয়ে থাকলে অবশ্যই খোঁজ নিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
