এইমাত্র পাওয়া

লক্ষ টাকার পিস্তল দিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে গুলি করেন ডা. রায়হান

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক ডা. রায়হান শরীফের শখ দামী অস্ত্র সংগ্রহের। অস্ত্রের প্রতি ঝোঁক ছিল ছাত্রজীবন থেকেই। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সেসময় তিনি কলেজের পিঙ্কু হোস্টেলে থাকতেন। তখন থেকেই নিজের টাকায় বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র কিনে সংগ্রহে রাখতেন তিনি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) এমন তথ্য জানিয়েছেন ডা. রায়হান শরীফ। সিরাজগঞ্জ ডিবির ওসি জুলহাজ উদ্দীন বলেন, রায়হান শরীফের ব্যাগ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৮১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১টি গুলির খোসা, ৪টি ম্যাগজিন, ২টি বিদেশি কাতানা (ছোরা) ও ১০টি অত্যাধুনিক বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কলেজে ক্লাসরুমের ভেতর তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালকে তিনি গুলি করেন। ফরেনসিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের শিডিউল বহির্ভূত পাঠদান নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে তিনি তমালকে গুলি করেন। ওই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের হাতে লাঞ্ছিত হন তিনি। চিকিৎসক রায়হানের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের রোষানল থেকে বাঁচাতে কলেজের ভিতর পুলিশ হেফাজতে রাখা হয় তাকে। পরে পুলিশ তাকে আটক করে।

এ ঘটনায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত অস্ত্র আইনে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন তমালের বাবা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আবদুল্লাহ আল আমিন। তিনি বগুড়া উপজেলা সদরের ধানসিঁড়ি নাটাইল গ্রামের বাসিন্দা।

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক ডা. রায়হান শরীফের হেফাজত থেকে সেভেন পয়েন্ট ফাইভ সিক্স বোরের অত্যাধুনিক দুটি বিদেশি পিস্তল, ৮১টি গুলি, চারটি ম্যাগাজিন ও ১২টি বিদেশি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) দুপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলহাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষার্থীর বাবার মামলায় শিক্ষক রায়হান শরীফকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর তার ফোন ঘেঁটে ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তলের বহু ছবি পাওয়া গেছে। আরও অস্ত্র আছে কি না খোঁজ নিতে সোমবার (৪ মার্চ) রাতে তার শহরের বিএ কলেজ রোডের প্রফেসর গার্ডেন নামের বাসায় অভিযান চালানো হয়। তবে বাসা থেকে নতুন কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।

শিক্ষার্থীর পায়ে গুলি করার ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, একটি বিদেশি পিস্তল ১ লাখ টাকায় কিনেছিলেন। অস্ত্রের প্রতি তার বিশেষ আকর্ষণ থেকেই তিনি কিনেছিলেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

ওসি জুলহাজ উদ্দিন আরও বলেন, তিনি বিদেশি অস্ত্র কেনার দিকে ঝুঁঁকে পড়েন। তার ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে দেখা গেছে, একজন চিকিৎসক তার কাছে জানতে চেয়েছেন তিনি কিসের ব্যবসা করেন। জবাবে ডা. রায়হান শরীফ লিখেছেন, অস্ত্র কেনাবেচার ব্যবসা করি।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, সোমবার রাতে রায়হান শরীফের বিরুদ্ধে থানায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলার বাদী গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর বাবা আবদুল্লাহ আল আমিন। এ মামলায় উল্লেখ করেছে তার ছেলেকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ এবং সিরাজগঞ্জ ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা করেছেন। দুপুরে ওই শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/জামান/০৬/০৩/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.