এইমাত্র পাওয়া

বেসরকারি কলেজে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক গ্রুপের নম্বর বন্টন প্রসঙ্গে

মোঃ মঈনুদ্দিন চৌধুরী।।

সম্প্রতিমাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর প্রবেশ পর্যায়ের পদ ব্যতীত অন্যান্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুসরনীয় নির্দেশমালা সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারী করা হয়েছে। উক্ত পরিপত্রে সংস্লিষ্ট পদসমূহকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, যেমন- শিক্ষক গ্রুপ, কর্মচারী গ্রুপ এবং অফিস সহায়ক গ্রুপ। শিক্ষক গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন যথাক্রমে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক। উল্লেখিত শিক্ষক গ্রুপের নিয়োগ পরীক্ষায় এক ঘন্টা(৬০ মিনিট) সময়ের মধ্যে নম্বর বন্টনের ক্ষেত্রে যথাক্রমে সনদ ১২, লিখিত ৮০ এবং মৌখিক ০৮ নম্বর নির্ধারন করা হয়েছে। সনদের নম্বর বন্টনে ১ম শ্রেণী-৩/২য় শ্রেণী-২/৩য় শ্রেণী-১ নম্বর পাবে। জিপিএ/সিজিপি-এর ক্ষেত্রে অনুরূপ নম্বর পাবে।

সনদের নম্বর বন্টনের ক্ষেত্রে এসএসসি ৩, এইসএসসি ৩, দুই বছর/তিন বছর মেয়াদী স্নাতক ৩, স্নাতকোত্তর (এক/দুই বছর)৩, চার বছর মেয়াদী স্নাতক (সম্মান) ০৬ ও বিএড ৩। ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার অতিরিক্ত ডিগ্রির জন্য আলাদা কোন নম্বর বরাদ্দ থাকবেনা।জারীকৃত পরিপত্রটি সম্ভবত স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ,দুর্নীতিও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন তথা সার্বিকভাবে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্যেই জারি করা হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়।

তবে কিছু সংশোধনী আনয়ন করা হলে এ প্রক্রিয়াটি আরও সাম্যতাভিত্তিক ও মানসম্মত হবে বলে আশা করা যায়,যেমন- যেহেতু তিন বছর মেয়াদী স্নাতক পাস ও সম্মান কোর্সের মান এক নয় (যদিও তিন বছর মেয়াদী) দুটি ক্ষেত্রে সনদের নম্বর বন্টনের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করার জন্য প্রস্তাব করছি।পরিপত্রে বিএড ডিগ্রির জন্যে ০৩ নম্বর রাখা হয়েছে কিন্তু বিএড ডিগ্রি স্কুলের প্রধান শিক্ষক/ সহকারী প্রধান শিক্ষকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও কলেজের অধ্যক্ষ/ উপাধ্যক্ষের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।

তাই এক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক/সহকারী প্রধান শিক্ষকের জন্যই নম্বর বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করছি।পরিপত্রে বলা হয়েছে, ’ ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার অতিরিক্ত ডিগ্রির জন্য আলাদা কোন নম্বর বরাদ্দ থাকবেনা’। কিন্তু এমপিও নীতিমালায় সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের (এমফিল/পিএইচডিধারী শিক্ষকদের) জন্য বিশেষ নম্বর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর কৌশলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উচ্চতর ডিগ্রিধারী ও প্রশিক্ষন প্রাপ্ত শিক্ষকদের অগ্রাধিকার প্রদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশেষ নম্বর বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনার জন্য প্রস্তাব করছি, পাশাপাশি প্রশিক্ষনের বিষয়টিও নম্বর বন্টনের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যায় কিনা তাও ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। যেহেতু এমপিও নীতিমালায় (পদোন্নতির ক্ষেত্রে) জার্নালে আর্টিকেল ও পত্রিকায় সৃজনশীল লেখার জন্য নম্বর বরাদ্দ রয়েছে তার অনুসরনে অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিশেষ নম্বর বন্টন/বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।

সিনিয়রিটি ও মেধা উভয় বিষয়টি নম্বর বন্টনে বিবেচনা করা হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সাম্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শিক্ষামন্ত্রনালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা/ বিধানে সাংঘর্ষিকতা রয়েছে, এতে দ্বৈত অধীনতা সৃষ্টি হওয়ার কারনে দক্ষ ব্যবস্থাপনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।উল্লেখিত পরিপত্রের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়া পূর্বাপেক্ষা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে নিয়োগ বোর্ডে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিজির প্রতিনিধির পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধির মনোনয়ন অন্তর্ভুক্তকরন।

তবে শতভাগ নিরপেক্ষতা, ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে উল্লেখিত পদসমূহের নিয়োগ এনটিআরসিএ অথবা স্বতন্ত্র নিয়োগ কমিশনের মাধ্যমে নেয়াটাই অধিক যুক্তিযুক্ত ও বাঞ্ছনীয়।

লেখকঃ গবেষক, সহকারী অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ , শংকুচাইল ডিগ্রি কলেজ, বুড়িচং,কুমিল্লা


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.