এইমাত্র পাওয়া

বাজারের ৭০ শতাংশ খাবারেই কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে: বাকৃবি উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘বর্তমানে বাজারের ৭০ শতাংশ খাবারেই ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে। মানুষের নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণেই এটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলস্বরূপ নানা মরণব্যাধি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে দেশের মানুষ। এটি কমিয়ে আনার জন্যে আমাদের কাজ করতে হবে।’

‘বাংলাদেশে অধিক বিপজ্জনক কীটনাশক এবং রাসায়নিকের উন্নত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কৃষি অনুষদের ডিন অফিসের সম্মেলন কক্ষে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) অর্থায়নে ঐ কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগ।

এসময় উপাচার্য আরো বলেন, ‘সবাই সচেতন না হলে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। দেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা এরই মধ্যে পূরণ হয়েছে। তবে খাদ্যের গুণগত মান বৃদ্ধিতে বিস্তর পরিসরে কাজ করতে হবে।’

কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফএও বাংলাদেশের সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার সাসো মার্টিনোভ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রাব্বানী, বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহফুজা বেগম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্লান্ট প্রজেক্ট উইংয়ের পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রতিনিধিবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রমিজ উদ্দিন।

প্রকল্পের টিম লিডার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. গোপাল দাস মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে বলেন, অধিক ক্ষতিকর কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এটি এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, উন্নত দেশগুলোতে এর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। মাত্রারিতিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ধ্বংস করতে গিয়ে উপকারী পোকামাকড়ও ধ্বংস হচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত রাসায়নিক উপাদান সমৃদ্ধ শাক-সবজি খাওয়ার ফলে কিডনি ও যকৃতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত হচ্ছে। তাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ফসলের সঠিক উৎপাদন বজায় রাখতে এসব ক্ষতিকারক কীটনাশকসমূহের সঠিক ব্যবস্থাপনা জরুরি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১০/০২/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.